জীর্ণ ভবনে ঝুঁকিপূর্ণ পাঠদান

ঢাকা, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯ | ৮ কার্তিক ১৪২৬

জীর্ণ ভবনে ঝুঁকিপূর্ণ পাঠদান

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি ৬:১২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯

print
জীর্ণ ভবনে ঝুঁকিপূর্ণ পাঠদান

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের কাটাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে। অনেক স্থানে ছাদের মরিচা পড়া রডও বেরিয়ে গেছে। ভবন জুড়ে ফাটল ও পলেস্তরা খসে পড়ার কারণে ভবনটি যে কোনো মুহুর্তে ধসে পড়ার আশংকা রয়েছে।

স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, পলেস্তরা খসে ভিমের রড বেরিয়ে যাওয়ায় বিপর্যস্ত দশা। এছাড়াও রয়েছে শ্রেণিকক্ষ সংকট। ঝুঁকির মধ্যে প্রতিদিন ২৫২ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে। বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালীন ছাদের পলেস্তরা খসে বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থী আহত হওয়ারও খবর পাওয়া গেছে। বিদ্যালয়টি ১৯৭৯ সালে স্থাপিত হয় এবং ২০১৩ সালে প্রথম ধাপে জাতীয়করণ হয়। ১৯৯২-৯৩ অর্থ বছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর কর্তৃক বিদ্যালয়টি পাকা ভবনে উন্নীত হয়।

সরেজমিন দেখা যায়, তিনটি অপরিসর শ্রেণিকক্ষ ও একটি অফিস কক্ষের এ স্কুল ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। পুরো ভবনটির দেওয়াল জুড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদ ও বিমের পলেস্তরা খসে রড বেরিয়ে গেছে। বিকল্প ভবন না থাকায় নিরুপায় হয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির মধ্যে রেখে নিয়মিত পাঠদান করা হচ্ছে।

অপরদিকে আসবাবপত্রেরও চরম সংকট রয়েছে। নড়বড়ে বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল দিয়ে চলছে পাঠদান। অবশ্য শিশুদের বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন্য টিপটিউবওয়েল ও ওয়াশ ব্লক রয়েছে।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, আমাদের শ্রেণিতে ৪৫ ছাত্র-ছাত্রী আছে। কিন্তু সবার বসার জায়গা হয় না। পর্যাপ্ত ডেস্ক-বেঞ্চের অভাব রয়েছে। গরমের দিনে ক্লাস করতে খুব কষ্ট হয়। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রুমা সিনহা ও মিনতী কৈরী বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে অত্যন্ত নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আমরা পাঠদান করছি।

তাছাড়া শ্রেণিকক্ষ সংকটে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় পাঠদানে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিতে ১৬ জন, প্রথম শ্রেণিতে ৪৪ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৪৮ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ৪৮ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৫১ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৪৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল খালেক বলেন, ‘বিদ্যালয়ে পাঁচ শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ২৫২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ২০১৮ সালে বিদ্যালয় থেকে প্রথমবারের মতো একজন শিক্ষার্থী ট্যালেন্টফুলে বৃত্তিলাভ করে। ২০১৮ সালে এলজিইডি থেকে বিদ্যালয়টি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপরও বিকল্প শ্রেণিকক্ষ না থাকায় মৃত্যুভয় নিয়েই পাঠদান করাতে হচ্ছে। নতুন স্কুল ভবন অত্যন্ত জরুরি।’

কমলগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা জয়কুমার হাজরা বলেন, ‘কাটাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবনের টেন্ডার হয়েছে। কার্যাদেশও সম্পন্ন হয়েছে। আশা করি শিগগিরই ঠিকাদার কাজ শুরু করবেন।’