আশ্বাসে বন্দি ধলাই সেতু

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬

আশ্বাসে বন্দি ধলাই সেতু

হৃদয় ইসলাম, কমলগঞ্জ ৫:১৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৯

print
আশ্বাসে বন্দি ধলাই সেতু

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের ধলাই নদীটি বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে দুই পারের ১০-১৫টি গ্রামকে। এসব গ্রামের মানুষের উপজেলা ও জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার মাধ্যম হলো নৌকা। কারণ নদীতে কোনো সেতু নেই। নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। আশ্বসেই বন্দি রয়েছে সেতু নির্মাণ।

স্থানীয়রা জানান, ধলাই নদীর দুই পাশে কাটাবিল, হকতিয়ারখোলা, উত্তরভাগ, মধ্যভাগ, বনগাঁও, জালালপুর, পশ্চিম জালালপুর, নোয়াগাঁও, মদনপুর, মাধবপুর, শ্রী গোবিন্দপুর, মদনমোহনপুর, কেওয়ালিঘাট, পাত্রখোলা খাসিয়া পুঞ্জিসহ ১৫-১৬টি গ্রাম রয়েছে। এসব গ্রামের মানুষদের জেলা সদর বা উপজেলা সদরে মালামাল নিয়ে যেতে হলে ৮-১০ কিলোমিটার ঘুরতে হয়।

আদমপুর ও মাধবপুর ইউনিয়নের যোগাযোগ রক্ষাকারী ধলাই নদীর ওপর সেতু না থাকায় মানুষের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। খরস্রোতা ধলাই নদীতে পারাপারের জন্য বাঁশের কোনো সাঁকোও নেই। নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা নৌকা।

কাটাবিল ও মাধবপুরের বাসিন্দারা জানান, নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ধলাই নদীতে একটি সেতু না থাকায় দুই পাড়ের ১৫টি গ্রামের হাজার হাজার লোকজন অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েছে। অচিরেই এখানে সেতু নির্মাণ করার জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন তারা।

স্কুল শিক্ষিকা রুমা রানী সিনহা বলেন, সেতু না থাকায় নৌকা দিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করছে। মালামাল নিয়ে যেতে ৮-১০ কিলোমিটার ঘুরে যাওয়া আসা করতে হয়।

এ বিষয়ে আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন ও মাধবপুর ইউপি চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু বলেন, কাটাবিলে দীর্ঘদিন যাবত সেতু নির্মাণের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। নৌকা দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই মানুষকে নদী পার হতে হচ্ছে। মালামাল পরিবহনেও এলাকাবাসীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দুটি ইউনিয়নের মানুষের চলাচলের এ দুর্ভোগ দীর্ঘদিনের। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ধলাই নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য বারবার দাবি জানিয়েও কোনো ফল হয়নি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) উপ-সহকারী প্রকৌশলী মামুন ভূঁইয়া বলেন, কাটাবিল এলাকায় ধলাই নদীর ওপর সেতু প্রয়োজন। এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব অধিদফতরে পাঠানো হবে।