ভাঙা ব্রিজে ভোগান্তি

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬

ভাঙা ব্রিজে ভোগান্তি

মাহমুদ এইচ খান, মৌলভীবাজার ৪:৪৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৯

print
ভাঙা ব্রিজে ভোগান্তি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলার বরমচাল টু মুন্সিবাজার নতুন পাকা সড়কের একটি ব্রিজ ভেঙে প্রায় তিনমাস ধরে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ওই দুই উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষের চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

ব্রিজ ভাঙা থাকায় স্থানীয়রা নিজেরা চাঁদা তুলে একটি সাঁকো তৈরী করেন। ফলে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছেন পথচারীরা। এই সড়কের আরও দুইটি ব্রিজের অবস্থাও জরাজীর্ণ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে, কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল চা বাগানের ভিতর দিয়ে রাজনগর উপজেলার করিমপুর চা বাগান হয়ে মুন্সিবাজার, মৌলভীবাজার ও সিলেটে যাতায়াতের সুবিধার্তে এই সড়কটি নির্মাণ হয়েছে। ২০০৮/০৯ অর্থ বছরে তৎকালীন বরমচাল ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আহবাব চৌধুরী শাহজাাহান এই সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব করলে চলতি বছরে এলজিইডির বাস্তবায়নে সড়কটি নির্মাণ করেছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজ ভাঙা থাকায় বিকল্প স্রাঁকো দিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছেন মানুষ। ভারী যানচলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও ছোট ছোট যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

স্থানীয় জনগোষ্ঠী বেশীরভাগ চা শ্রমিক হওয়ায় ওই সাঁকো নির্মাণের সময় চাঁদা দিতে পারেননি। তাই তারা বেশ ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা ব্রিজ দিয়েই চলাচল করছে। নতুন পাকা এই সড়কটিতে যানচলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় শিক্ষার্থী, রোগীসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, ‘বাইরে ফিটফাট, ভিতরে সদরঘাট’। তাঁরা বললেন, সড়কটি পাকাকরণ ঠিকই হয়েছে তবে ব্রিজ সংস্কারের অভাবে যান চলাচলই বন্ধ। সড়কটি পাকাকরণ করে লাভ হলো কি?’

স্থানীয় খাসিয়া পুঞ্জির বাসিন্দা মজনু সুয়ের বলেন, অনেকদিন ধরে ব্রিজটির অবস্থা জরাজীর্ণ ছিলো। তিনমাস আগে পুরোপুরি ধসে পড়েছে। রোগী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের অনেক কষ্ট হচ্ছে। বিপদকালীন সময় চলাচলের জন্য স্থানীয়রা সকলে মিলে ওই বিকল্প সাঁকো নির্মাণ করেছি।

বরমচাল সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও কালামিয়া স্টেশন বাজারের সভাপতি ইছহাক চৌধুরী ইমরান বলেন, অল্প সময়ে মৌলভীবাজার কিংবা সিলেটে যাতায়াত মাধ্যমে ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের সময় এবং অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। কিন্তু ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় যাতায়াতের বিঘœতা ঘটেছে। এতে সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি লাঘবের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এমপির সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

বরমচাল ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আহবাব চৌধুরী শাজাহান বলেন, অল্প সময়ে মৌলভীবাজার ও সিলেটে যাতায়াতের জন্য বরমচাল, ভুকশীমইল ও ভাটেরার মানুষের সুবিধার্তে এই সড়কের প্রস্তাবনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন হয়েছে।

এখানকার স্থানীয়রা ছাড়াও চা বাগানের শ্রমিকরা অনেক উপকার ভোগ করবে। তবে একটি ব্রিজের জন্য সাময়িক ভোগান্তি হচ্ছে, দ্রুত তা পুনঃনির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

কুলাউড়া এলজিইডি প্রকৌশলী ও রাজনগর উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মু. ইসতিয়াক হাসান বলেন, ইতিমধ্যে ওই ব্রিজটির মাটি টেস্টের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ব্রিজসহ রাজনগর অংশের আরও দুইটি জরাজীর্ণ ব্রিজ পুনঃনির্মাণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অনুমোদন আসলেই টেণ্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। উপজেলা সড়কটি এখনো উদ্বোধন হয়নি। ব্রিজের কাজ শেষ হলে উদ্বোধন হবে।