ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলে অতিষ্ঠ গ্রাহক

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১ আশ্বিন ১৪২৬

ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলে অতিষ্ঠ গ্রাহক

হৃদয় ইসলাম, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) ৯:৫১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০১৯

print
ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলে অতিষ্ঠ গ্রাহক

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের গ্রাহকদের ভুতুড়ে বিল আর নানা অনিয়ম হলেও করার কিছুই নেই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিল পরিশোধের পর পুনরায় নতুন বিলের সঙ্গে পরিশোধিত বিল অন্তর্ভুক্ত, মাসের নির্ধারিত সময়ের পর এসে মিটার রিডিং বাড়িয়ে অতিরিক্ত বিল তৈরি, মাঝে মাঝে অস্বাভাবিক বিল করে ভোগান্তিতে ফেলা হচ্ছে বলে গ্রাহকরা অভিযোগ তোলেন। তবে এসব বিষয়ে কিছু করার নেই বলে জানালেন ডিজিএম।

শমসেরনগরের শিক্ষক বিপ্লব ভূষণ দাস অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ভাড়াটিয়া বাসার হিসাব নম্বর ৯০৬/১৮৫০। গত জুন মাসে অস্বাভাবিক বিল আসে। পরে বাড়তি বিল আসার বিষয়টি আমার কাছে ধরা পড়ে। প্রতি মাসের ১১ তারিখ মিটার রিডার এসে বিল লিখে নেওয়ার কথা। বিদ্যুৎ বিলে ১১ তারিখ পর্যন্ত হিসাব উল্লেখ থাকে। তবে মিটার রিডার মাসের ১৫ তারিখে এসে রিডিং যা আসে তা লিখে নিলেও ১১ তারিখের পরিবর্তে ১৫ তারিখ লেখা হয় না। এভাবে জুলাই মাসে ২৩ ইউনিট বেশি নেওয়া হয়েছে। ফলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিধান অনুযায়ী প্রথম ধাপে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ৪ টাকা হারে বিল পরিশোধ করতে হয়। মিটার রিডারের এহেন কার্যকলাপে ইউনিট বেড়ে যাওয়ায় দ্বিতীয় ধাপে ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত ৫ টাকা ৪৫ পয়সা হারে বাড়তি বিল দিতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মিটার রিডারের গাফিলতির কারণে অতিরিক্ত বিল গুনতে হচ্ছে।’

পতনঊষার ইউপির শ্রীসূর্য গ্রামের বন ভূষণ দাস বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাংকে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার চারদিন পর তৈরি হওয়া নতুন বিলের সঙ্গে পরিশোধিত পুরনো বিল সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে অফিসে গেলে কর্মকর্তা কর্মচারীরা উল্টো আমাদের দোষারূপ করেন। অফিসে কর্মচারীদেরও নানা অসৌজন্যমূলক আচরণ দেখা যায়। এভাবে কমলগঞ্জে গত তিন মাসে অসংখ্য ভুতুড়ে বিল ও গ্রাহকদের অভিযোগ পাওয়া গেছে।’

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক এলাকা পরিচালক বলেন, ‘এই সেক্টরে আমি দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলাম। জুন মাসে টার্গেড পূরণ করতে এভাবে গ্রাহকদের ভুতুড়ে বিল দেওয়া হয়। তাছাড়া লোডশেডিংও করা হয়।’

এ বিষয়ে মৌপবিস কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম মোবারক হোসেন বলেন, ‘মিটার রিডিং এ যা আসছে বিলও তাই আসছে। মিটার রিডার যথাসময়ে যেতে না পারলেও পরে গিয়েও রিডিং তো ঠিকই নিয়ে আসছে।’