দখল ঠেকাতে ছাত্রাবাস বন্ধ

ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯ | ৫ ভাদ্র ১৪২৬

এমসি কলেজ ছাত্রলীগে উত্তেজনা

দখল ঠেকাতে ছাত্রাবাস বন্ধ

সিলেট ব্যুরো ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ০৭, ২০১৯

print
দখল ঠেকাতে ছাত্রাবাস বন্ধ

ছাত্রলীগের দুপক্ষের উত্তেজনার মধ্যে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ছাত্রদের ছাত্রাবাস ছাড়ার নির্দেশ দেন কলেজের অধ্যক্ষ নিতাই চন্দ্র চন্দ। এরপর দুপুর ১২টার পর শিক্ষার্থীরা ছাত্রাবাস ছেড়ে যান।

অধ্যক্ষ নিতাই চন্দ্র চন্দ বলেন, সোমবার রাতে এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগের দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় তারা লাঠিসোঁটা, অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের মুখোমুখি হওয়ায় কলেজ প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে শান্ত করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সংঘাতের আশঙ্কায় এবং ঈদের ছুটি মিলিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছাত্রাবাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঈদের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার ছাত্রাবাস খুলে দেওয়া হবে বলে জানান অধ্যক্ষ।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, সোমবার রাত ৯টা থেকে ছাত্রলীগের দুটি পক্ষ সক্রিয় হয় ছাত্রাবাসে। এক পক্ষ বহিরাগতদের অবস্থান ঠেকানোর চেষ্টা করে। অন্য পক্ষ ছাত্রাবাসে নিজেদের দখল রাখতে তৎপর হয়। এ দুই তৎপরতায় লাঠিসোঁটাসহ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের প্রস্তুতিতে ছিল দুই পক্ষ।

রাতভর এ উত্তেজনার পর সকালে কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে পুলিশ মোতায়েন করে ছাত্রাবাসে। এ সময় কলেজের শিক্ষা কাউন্সিলের বৈঠকে ছাত্রাবাস বন্ধের সিদ্ধান্ত হলে পুলিশকে দিয়ে আবাসিক ছাত্রদের ছাত্রাবাস থেকে নিরাপদে বের করে দেওয়া হয়।

পুলিশ পাহারায় ছাত্রদের বের করে দেওয়ার সময় মঙ্গলবার দুপুরে ছাত্রাবাস এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ছাত্রলীগের দুপক্ষে কোনো তৎপরতা নেই। চারটি ব্লকের ছাত্রাবাসের ৩৮৩ কক্ষের মধ্যে কার্যালয় ও টিচার্স কক্ষসহ ১৯টি কক্ষে ছাত্রলীগের অবৈধ দখলদারত্ব ছিল।

ছাত্রাবাস তত্ত্বাবধায়কের দফতর সূত্র জানায়, গত দুই দিন ধরে আবাসিক ছাত্র এবং বহিরাগতদের মধ্যে টান টান উত্তেজনা চলছে দিনে এবং রাতে একাধিকবার সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। বহিরাগতরা জড়ো হয়ে ছাত্রাবাসে হামলার প্রস্তুতি নিলে ছাত্রাবাসের ছাত্ররাও প্রতিরোধের পাল্টা প্রস্তুতি নেয়। গত রোববার অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র আসিফকে পরীক্ষার হল থেকে ধরে এনে সাইফুর ও রাহীর নেতৃত্বে ১০-১২ জন বহিরাগত মারধর করে। আসিফ মাথায় ছুরিকাঘাতে আহত হন। এর জের ধরে রাতে শ্রীকান্ত আবাসিক হলের ছাত্র অপু তালুকদারের ওপর আরামবাগ এলাকায় বহিরাগতরা হামলা চালালে পরিস্থিতির অবনতি হয়।

জানতে চাইলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হোসাইন আহমদ দাবি করেন, তিনি দখল তৎপরতায় ছিলেন না। ছাত্রাবাসে তার অনুসারী কেউ দখলে ছিল না। তাহলে নাম এল কী করে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছাত্রলীগেরই নতুন একটি অংশের তৎপরতায় এমনটি হয়েছে। এ তৎপরতার সঙ্গে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সঞ্জয় চৌধুরী যুক্ত বলে তিনি অভিযোগ করেন।