মায়ের পরিকল্পনায় হত্যা

ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯ | ৬ ভাদ্র ১৪২৬

মায়ের পরিকল্পনায় হত্যা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ৫:১৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৬, ২০১৯

print
মায়ের পরিকল্পনায় হত্যা

গত ২১ জুলাই সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর অচিন্তপুর এলাকার সড়কের পাশের ডোবা থেকে এক যুবকের গলাকাটা ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে জানা যায় অলিউর রহমান নামের ওই যুবকের বাড়ি জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের আসামমোড়া গ্রামে।

ঘটনার পর নিহতের পিতা ৬ জনকে আসামি করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মামলা দয়ের করেন। কিন্তু পুলিশ যখন খুনের রহস্য উদ্ঘাটনে অধিকতর তদন্ত নামে তখন একের পর এক বেরিয়ে আসতে থাকে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। ভাড়াটিয়া খুনিদের দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলেও এর মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন নিহতের ভগ্নিপতি ফখর উদ্দিন। এই পরিকল্পনায় শামিল ছিলেন নিহতের মা জয়ফুল বেগম ও স্থানীয় ইউপি সদস্য রওশন আলী।

পুলিশ জানায়, ২০১৮ সালের ৩ জানুয়ারি বালিশচাপা দিয়ে হত্যার পর লাশ পুকুরে ফেলে দেয় অলিউরের স্ত্রী অলিউর তানজিনা আক্তার তানিয়াকে। ওই মামলায় অলিউরসহ ভগ্নিপতি ফখর উদ্দিন ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের আসামি করা হয়। মামলাটি সিআইডি তদন্ত করছে। এরপর থেকেই শুরু হয় পারিবারিক কলহ। পথের কাঁটা অলিউরকে সরাতে পরিকল্পনা শুরু করেন মা, ভগ্নিপতি ও স্থানীয় এক ইউপি সদস্য। এর পর থেকে অলিউর বাড়ি ছেড়ে গাঢাকা দেয়।

গতকাল সোমবার জেলা পুলিশ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে জানানো হয় নিরপেক্ষ তদন্ত করতে গিয়ে এজাহারে বাইরে থাকা নিহতের দুই ভাড়াটে খুনি, মা, ভগ্নিপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্যের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত হয় পুলিশ। পরে দুই ভাড়াটে খুনি শহরের বড়পাড়ার বাসিন্দা এনাম ও কুতুবপুর গ্রামের রাজমিস্ত্রী মুহিতুল এবং খুনের পরিকল্পনাকারী ভগ্নিপতি দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের ধলকুতুব গ্রামের ফখর উদ্দিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।