কমলগঞ্জে বিশেষ ক্লাসের নামে কোচিং বাণিজ্য

ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯ | ৩ কার্তিক ১৪২৬

কমলগঞ্জে বিশেষ ক্লাসের নামে কোচিং বাণিজ্য

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি ৩:০২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০১, ২০১৯

print
কমলগঞ্জে বিশেষ ক্লাসের নামে কোচিং বাণিজ্য

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের আদমপুর ইউনিয়নের তেতইগাঁও রশিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে বিশেষ ক্লাসের নামে চলছে কোচিং বাণিজ্য। তবে ‘ইংরেজি ও গণিত বিষয়ের কোচিংয়ে না করলে পরীক্ষায় ছাড় দেওয়া হবে না বলে শিক্ষকরা ভয়ভীতি দেখান। তাই অনেকেই বাধ্য হয়ে প্রতিমাসে ১০০০ টাকা করে প্রদান করে কোচিং করতে হয় বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গণিতের শিক্ষক কামাল উদ্দিন এবং ইংরেজি শিক্ষক আবুল কালাম উভয়ে আলাদা দুটি কক্ষে বিশেষ ক্লাসের নামে কোচিং করাচ্ছেন। কোচিং চলাকালীন সময়ে ছবি তুলতে চাইলে কোচিং শিক্ষকরা উপস্থিত সাংবাদিকদের বাধা প্রদান করেন। কোচিং বাণিজ্য সম্পর্কে কোচিং শিক্ষকদের সঙ্গে জানতে চাইলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে ক্লাসরুম থেকে দ্রুত চলে যান এবং শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের উপস্থিত থাকা সাংবাদিকদের পিছনে লেলিয়ে দিলে শিক্ষার্থী ও বহিরাগতরা মিলে স্কুলের প্রধান ফটক তালাবদ্দ করে সাংবাদিকদের ধাওয়া করে। পরে প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সাহায্যে সাংবাদিকরা স্কুল থেকে বেরিয়ে আসেন।

কোচিংয়ে আসা কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, ‘তেতইগাঁও রশিদউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক কামাল উদ্দিন প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতিমাসে পাঁচশ টাকা করে কোচিং ফি আদায় করেন। একই অবস্থা গণিত শিক্ষকের।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ের কোচিংয়ে না করলে পরীক্ষায় ছাড় দেওয়া হবে না বলে শিক্ষকরা ভয়ভীতি দেখান। তাই অনেকেই বাধ্য হয়ে ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে শিক্ষকদের কাছে প্রতিমাসে ১০০০ টাকা করে প্রদান করতে হয়।

জেলা প্রসাশক নাজিয়া শিরিন বলেন, ‘বর্তমানে কোচিং বাণিজ্য নিয়ে আমাদের তদারকি অব্যাহত রয়েছে। আমি বিষয়টি নিজে তদন্ত করে দেখবো। তদন্ত স্বাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন বাবু বলেন, ‘আমাদের স্কুলে বিশেষ ক্লাস হয়। কিন্তু বিশেষ ক্লাসের নামে যদি কোচিং বাণিজ্য হয়ে থাকে তাহলে স্কুলকমিটি এব্যাপারে ব্যবস্থা নিবে।’