সড়কে বন্যার ক্ষত

ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯ | ৩ কার্তিক ১৪২৬

সড়কে বন্যার ক্ষত

শহীদনুর আহমেদ, সুনামগঞ্জ ৯:১৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৬, ২০১৯

print
সড়কে বন্যার ক্ষত

সুনামগঞ্জ জেলার সড়কে সাম্প্রতিক বন্যায় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এতে ১১টি উপজেলার সবকটি সড়কেই খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। বন্যায় এসব রাস্তাঘাট ভাঙনের ফলে যেমন চালকদের সমস্যা হচ্ছে ঠিক তেমনি চালকদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। প্রায় ৮৪৮ কিলোমিটার সড়ক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ২৫ লাখ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়ন, রঙ্গারচর, সুরমা ইউনিয়নের বেশিরভাগ রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে এ এলাকার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নবীনগর এলাকায় বাঁধ ভেঙে প্রায় তিনটি ইউনিয়নের মানুষের চলাচলে সৃষ্টি হয়েছে বাধা। তাছাড়া পৌর শহরের কালীবাড়ী, জামাইপাড়া, উকিলপাড়া এলাকায় বেশ কয়েকটি এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় খানাখন্দ। তাছাড়া সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর, বিশ^ম্ভরপুর, জামালগঞ্জ, দোয়াবাজারসহ বেশ কয়েকটি উপজেলার সড়ক পানির তোড়ে ভেসে গিয়েছে।

দোয়ারাবাজার উপজেলার শরিফপুর এলাকার বাসিন্দা রিয়াজ আহমেদ বলেন, আমাদের এলাকার রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ। পানিতে রাস্তাঘাটে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। এতে করে আমাদের চলাফেরায় অনেক কষ্ট হয়। দ্রুত এই রাস্তাঘাটগুলো সংস্কার করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাই।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাম ইউনিয়নের বাসিন্দা ফরিদ আহমেদ বলেন, সুনামগঞ্জ যাওয়া-আওয়া আমরার লাগি খুব কষ্ট হয়। রাস্তার জায়গায় জায়গায় গর্ত। আর গর্তগুলো ছোট না বড় বড় গর্ত। সিএনজিতে উঠলে তো যে ঝাকি খাওয়া লাগে এতে অনেক কষ্ট হয়।

সিএনজি চালক ওলি আহমেদ বলেন, বন্যার পর থকি রাস্তাঘাটে যে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করিয়া আমরার গাড়ি চালাইতে খুব কষ্ট হয়। বিশেষ করি সুনামগঞ্জ-দোয়ারাবাজার, আবার সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর-বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাগুলোতে গাড়ি চলাচলে অনেক অসুবিধা হয়। বিরাট বিরাট গর্ত তৈরি হইছে যা দুর্ঘটনা হওয়ার ঝুঁকি রাখে।

জেলা এলজিইডি কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল আহমেদ বলেন, পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতে আমাদের ৮১৮ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে সরকার থেকে আমাদের বরাদ্দ পাঠানো হয়েছে। এখনো অনেক সড়কে পানি। এ পানিগুলো কমে গেলে আমরা দ্রুত কাজ শুরু করে দেব।

জেলা সড়ক ও জনপথ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, বন্যায় আমাদের সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মধ্যে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কও রয়েছে। আমরা এ ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি।