প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে এবার সিলেটে মামলা

ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯ | ৬ ভাদ্র ১৪২৬

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে এবার সিলেটে মামলা

সিলেট প্রতিনিধি ১:৫৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০১৯

print
প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে এবার সিলেটে মামলা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ‘মনগড়া’ বক্তব্যে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে এবার সিলেটে মামলার আবেদন করেছেন সিলেট মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রিমাদ আহমদ রুবেল।

রোববার বেলা ১১টার দিকে সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে রিমাদ আহমদ রুবেল মামলার আবেদনটি করেন।

বাদীর আইনজীবী অ্যাড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন জানান, এ ধরনের মামলার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে আদালত মামলা গ্রহণ করবেন ও তদন্তের নির্দেশ দেবেন।

এর আগে ঢাকায় একই অভিযোগে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে দুটি মামলা করা হয়।

রোববার ঢাকা মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমানের আদালতে প্রথমে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। এছাড়া ঢাকা বারের কার্যনির্বাহী সদস্য ইব্রাহীম খলিল প্রিয়ার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন। ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান নোমানের আদালতে দণ্ডবিধি ১২৪ (ক) ধারায় তিনি মামলাটি করেন। ইব্রাহীম খলিল পেনাল কোডের ১২৪ (এ) ধারা অনুযায়ী প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন।

এছাড়াও বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন সম্পর্কে মিথ্যা অভিযোগ করায় প্রিয়া সাহা ওরফে প্রিয়া বালা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মামলা করা হয়েছে। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মো. আসাদ উল্লহ্ নামে একজন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে পরে আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে সিলেটে মামলার এজাহারে বলা হয়, পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার চরবানিরী মাটিভাঙা গ্রামের মলয় সাহার স্ত্রী প্রিয়া সাহা ওরফে প্রিয়া বালা বিশ্বাস (৫৪) বর্তমানে ঢাকার ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার এএনজে অ্যাম্বোসিয়া, ফ্লাট নং- বি/২, রোড নং- ৪/এ ৪৩ নম্বর বাসায় বসবাস করে আসছেন। বিবাদী একজন দেশবিরোধী, লোভী প্রকৃতির নারী, যিনি বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও বিদেশে গিয়ে বাংলাদেশ সরকার ও স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছেন।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রিয়া সাহার উক্ত মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট বক্তব্যে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে, যা সুস্পষ্টরূপে রাষ্ট্রদ্রোহ এবং বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১২৪ (ক) ধারার বিধান মতে দণ্ডনীয় অপরাধ।

‘শারি’ নামে বাংলাদেশের দলিত সম্প্রদায় নিয়ে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক প্রিয়া সাহা ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘দলিত কণ্ঠ’ নামক একটি পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক। তার স্বামী মলয় কুমার সাহা দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তা। তাদের দুই মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময় তিনি রোকেয়া হলে থাকতেন।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার ২৭ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে ১৬ দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহাও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান।

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতা প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান নিখোঁজ রয়েছেন। দয়া করে আমাদের লোকজনকে সহায়তা করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই।’

এ সময় তিনি আরও বলেন, এখন সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে। আমরা আমাদের বাড়িঘর খুইয়েছি। তারা আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, তারা আমাদের ভূমি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিচার পাইনি।

প্রিয়া সাহার এ বক্তব্য নিয়ে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ দেশজুড়ে বয়ে যাচ্ছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।