ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪ | ২ শ্রাবণ ১৪৩১

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

ধীর গতিতে নামছে বন্যার পানি,বাড়ছে দুর্ভোগ

সিলেট ব্যুরো
🕐 ৬:৪৬ অপরাহ্ণ, জুন ০৫, ২০২৪

ধীর গতিতে নামছে বন্যার পানি,বাড়ছে দুর্ভোগ

সিলেটে মন্থর গতিতে নামছে বন্যার পানি।সেইসাথে বাড়ছে বানবাসি মানুষের দুর্ভোগ। পানি কমতে শুরু করায় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে অনেক পরিবার বাড়ি ফিরেছে। তবে বুধবার (৫ জুন) পর্যন্ত জেলার সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর তিনটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

 

সিলেটের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, জেলার সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর তিনটি পয়েন্ট পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর কুশিয়ারা নদীর অমলশিদ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। এই পানি ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল। এর বাইরে জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানিও কমেছে।

তিনি আরও বলেন, সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলাসহ অন্যান্য উপজেলায় বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে ভারতের মেঘালয় রাজ্য আর বৃষ্টিপাতের ওপর। যদি পাহাড়ি ঢল আর বৃষ্টিপাত না হয় তাহলে পানি দ্রুত নেমে যাবে।

এদিকে, বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল থামায় উপজেলাগুলোতেও বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে এখনো জেলায় ৬ লাখ ৫৭ হাজার ১৬২ মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বানভাসিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশির ভাগ জায়গা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে জেলার জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলার অনেক গ্রাম ও রাস্তাঘাট এখনো প্লাবিত। সিলেট সদর ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা এখনো প্লাবিত রয়েছে। উজনারে পানি ভাটির দিকে নামায় জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার ১৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া সিলেট নগরের উপশহর, সোবহানীঘাটসহ কয়েকটি এলাকার মানুষ এখনো পানিবন্দি আছেন। মঙ্গলবার (৪ জুন) দিবাগত রাতে সিলেটে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও বিশ্বনাথ উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা বিস্তৃতি ঘটেছে। তবে সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকাসহ জেলার অন্যান্য উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১০টি উপজেলার ৭৮টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৩টি ওয়ার্ড বন্যাকবলিত হয়েছে। প্লাবিত গ্রামের সংখ্যা ৮৪২। বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৫৮ হাজার ৮৬২ মানুষ। জেলায় ৫৭১টি আশ্রয়কেন্দ্রে আছেন ৪ হাজার ৫০৫ জন মানুষ। জেলা প্রশাসন বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি ত্রাণসহায়তা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, পাহাড়ি ঢলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের পানি কমতে থাকায় দৃশ্যমান হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। গ্রামাঞ্চলের পানি কমতে শুরু করায় ভেসে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মোহাম্মদ সজিব হোসেন বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

গত ২৭ মে সিলেটে বন্যা দেখা দেয়। ওই দিন জেলার ৫টি উপজেলায় বন্যা কবলিত হয়। বর্তমানে ১০টি উপজেলায় রয়েছে বন্যার পানি। তবে উন্নতি হচ্ছে পরিস্থিতির।

 
Electronic Paper