হাকালুকিতে পানিবাহিত রোগে নাকাল বানভাসিরা

ঢাকা, শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

বড়লেখায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত

হাকালুকিতে পানিবাহিত রোগে নাকাল বানভাসিরা

রিপন দাস, বড়লেখা
🕐 ৭:০৫ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২২

হাকালুকিতে পানিবাহিত রোগে নাকাল বানভাসিরা

চারদিকে বন্যার পানি। দূর থেকে ব্রীজটাকে দেখলে দ্বীপের মতোন মনে হয়। মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখায় দাসেরবাজার-বাছিরপুর আঞ্চলিক সড়কের একটা ব্রীজ। এখানেই কয়েকদিন থেকে গবাদিপশু নিয়ে দিনরাত কাটাচ্ছেন কয়েকজন বানভাসি।

তাদের একজন মানিক দাস। বন্যায় ভিটেমাটি হারিয়ে এখানে আশ্রিত তিনি। মানিক জানান খাবারের সাথে সাথে গবাদিপশুর খাদ্য সংকটের কথা। একইসাথে বন্যার পানিতে ঘা হয়ে যাওয়া পায়ের কথাও আক্ষেপের সুরে বললেন মানিক দাস।

একই এলাকার মাঝি ফরিজ আলীর ঘরে ও বাড়ির আশপাশে বন্যার পানি উঠেছে। বন্যার পানি মাড়িয়ে তিনি চলাচল করছেন। তার পায়ের অবস্থাও ভালো না। এই অবস্থা কীভাবে হলো তার কারণ জানতে চাইলে ফরিজ বলেন, বন্যার পানিতে সবকিছু ডুবে গেছে। পানিতে পচা দুর্গন্ধ। এখন পানি মাড়িয়ে চলতে হয়। গায়ে পানি লাগলে চুলকায়।

শুধু ফরিজ আলী বা মানিক দাস নয় তাদের মতো মৌলভীবাজারের বড়লেখার বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকার অনেক মানুষ এখন পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মেডিকেল টিম বন্যা দুর্গত এলাকায় কাজ করছে। বন্যা কবলিত এলাকার মানুষদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে বৃষ্টিপাত না হলেও বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে হাকালুকি হাওরে আকস্মিকভাবে বন্যা দেখা দেয়। এতে বড়লেখা উপজেলার ২০০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ঘরে টিকতে না পেরে অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে গেছেন। এতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন এসব এলাকার মানুষ। বন্যার পানিতে এসব এলাকায় নলকূপ পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এতে বিশুদ্ধ পানির সংকট তৈরি হয়েছে। অনেকে বিশুদ্ধ পানি না পেয়ে বাধ্য হয়ে বন্যার পানিতে গোসল করছেন, পান করছেন। ফলে তারা পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ও কয়েকটি আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা মানুষজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বন্যার পর থেকে তাদের কারও জ্বর উঠেছে। কারও পায়ের আঙুলের ফাঁকে ঘা হয়েছে। কারও আবার পায়ে গুটি বসন্তের মতো রোগ হয়েছে।

হাকালুকি হাওরপারের বাসিন্দা ও শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী খসরুল আলম বলেন 'হাকালুকি হাওর জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এখান থেকে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার মৎস আহরণ করা হয়। কিন্তু হাওরপাড়ের কয়েক লাখ মানুষের জন্য হাওরটি অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় প্রতি বছরের বর্ষা বন্যায় রূপ নেয়। জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন নদীপথে আসা পলিমাটিতে হাওরের পানি ধারণক্ষমতা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য পরিকল্পিত পদক্ষেপ জরুরি। হাওরের নিকটবর্তী এলাকায় কিছু নদী খনন হলেও তা কাঙ্ক্ষিতমানের হয়নি। এক্ষেত্রে সরকার ও প্রশাসনের আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং কার্যকরী পদক্ষেপ দরকার বলে আমি মনে করি। হাওর বাঁচলে বাঁচবে দেশ, বাঁচবে জনগণ"।

বড়লেখা উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপসহকারী প্রকৌশলী মঈন উদ্দিন বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া আশ্রয় কেন্দ্রেসহ ১৫টি নলকূপের প্লাটফর্ম উচুকরণ করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে ২০ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মওজুদ রয়েছে। যেখানে দরকার সেখানেই বিতরণ করা হচ্ছে।

বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রত্নদ্বীপ বিশ্বাস বলেন, বন্যা দুর্গত এলাকায় আমাদের মেডিকেল টিম কাজ করছে। পানিবাহিত রোগের ওষুধের জন্য আমরা বরাদ্দ চেয়েছি। বরাদ্দ আসলে আমরা মানুষের মাঝে ওষুধ বিতরণ করবো।

 
Electronic Paper