বিসিবি বুঝবে কবে

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৮ | ৭ কার্তিক ১৪২৫

বিসিবি বুঝবে কবে

ক্রীড়া প্রতিবেদক ১০:৪৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৯, ২০১৮

print
বিসিবি বুঝবে কবে

বাংলাদেশ ক্রিকেটে চলতি সময়ে তোলপাড় করা ইস্যু সাকিব আল হাসানের আঙ্গুলে সংক্রমণ। কি হয়েছিল তা ইতোমধ্যে প্রায় সবারই জানা। তাই সেই প্রসঙ্গ পাশে রেখে আসল কথায় ঢুকে পড়া যাক।

ফিটনেস!
আধুনিক ক্রিকেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ ব্যাপারটা কীভাবে দেখে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট?
সাকিব আল হাসান গত ৯ আগস্ট ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর থেকে ফিরেই জানিয়েছিলেন, এশিয়া কাপের আগে আঙ্গুলের অস্ত্রোপচার করিয়ে ফেলতে চান। সাকিবের ইচ্ছের কথা সংবাদমাধ্যমে আসার পর ওইদিন বিকালে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান কোচের সঙ্গে মিটিং শেষে বলেছিলেন, (অস্ত্রোপচার) এশিয়া কাপের আগেও হতে পারে, পরেও হতে পারে। জিম্বাবুয়ে সিরিজের সময়ও (অক্টোবরে) হতে পারে।...আমার মনে হয়, অন্য সময় (এশিয়া কাপের পর) করাটাই ভালো হবে।’
সাকিবের ইনজুরির সূত্রপাত গত জানুয়ারিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে। সাকিব পরে মাঠে ফেরেন মার্চে শ্রীলঙ্কায় নিদাহাস ট্রফিতে। সেই টুর্নামেন্টে তার খেলার কথা ছিল না। বিসিবি সভাপতি ফোন করে ডেকে তাকে শ্রীলঙ্কায় নিয়ে গিয়েছিলেন। এশিয়া কাপও খেলেছেন সাকিব। ইনজুরি নিয়েই। শুধু সাকিব একা নন, মুশফিকুর রহীম পাঁজরের ব্যথা নিয়ে খেলেছেন। তামিম ইকবালও শতভাগ ফিট ছিলেন কি না সন্দেহ। ফাইনালে মেহেদী হাসান মিরাজ ক্রাম্প নিয়ে খেলেছেন। সব মিলিয়ে ভারতের বিপক্ষে ফাইনাল তো বটেই এশিয়া কাপেই ১০০ ভাগ ফিট দল নিয়ে খেলেনি বাংলাদেশ। এ থেকেই পরিষ্কার বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট ফিটনেস সম্পর্কে কি ভাবছে। গতকাল মঙ্গলবার পাপন তো বলেছেনও, ‘অস্ত্রোপচার করার ব্যাপারটা ছিল সাকিব, ফিজিও ও চিকিৎসকের ওপর। সাকিব এশিয়া কাপের আগেই করতে চায়। আমি বলেছি, এশিয়া কাপে খেলা গেলে সে পরে করুক। যদি খেলা যায়, যদি ফিজিও চিকিৎসক সবুজ সংকেত দেয়। মুশফিক-মাশরাফি তো খেলে যাচ্ছে। আমার কথা হচ্ছে, পারলে খেলুক। যতক্ষণ পারি জান দিয়ে খেলব।’
এবার বিশ্ব ক্রিকেটের ফিটনেস আইকন ভাবা হয় যাকে সেই বিরাট কোহলি দলীয় ফিটনেসকে কীভাবে দেখেন তা শোনা যাক। সংবাদমাধ্যমকে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিরাট বলেছিলেন, ‘এটা দলগত একটা ব্যাপার। এখানেও ব্যক্তিগত কোনো করিডর নেই। আমি কতটা ফিট, সেটা দেখানোটা আমার উদ্দেশ্য নয়। লক্ষ্যটা হচ্ছে, ভারতীয় ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আর তার জন্য কয়েকটা ব্যাপার খুব পরিষ্কারভাবে মাথার মধ্যে গেঁথে ফেলতে হবে। এখন ক্রিকেট খেলাটা ভালো করে পর্যবেক্ষণ করলে দেখবেন, প্রত্যেকটা দল কী রকম জেট গতিতে ফিটনেস তৈরির জন্য ছুটছে। খেলায় অনেক বেশি পেশাদারিত্ব এসে গিয়েছে। এবং, রোজই ফিটনেস এবং পেশাদারিত্বের মান বাড়ছে। ভালো করতে চাইলে এই চাহিদাগুলোর সঙ্গে আপস করা যাবে না। এমনকি, উপমহাদেশের দলগুলোও ফিটনেসের নির্দিষ্ট একটা মান বেঁধে দিয়েছে। এবং, বার্তাটা খুব পরিষ্কার। যদি সেই মানটা ধরতে না পারো, তোমার পক্ষে টিকে থাকা মুশকিল হবে।’
এশিয়া কাপের কথা ধরা যাক। বাংলাদেশ ফাইনাল খেলেছে। তামিম-সাকিববিহীন বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের বাহবা দিয়েছে সবাই। কিন্তু আড়ালে ঢাকা পরে গেছে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টের অদক্ষতা। তারা দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত অপেশাদারি মনোভাব দেখিয়ে শতভাগ ফিট নন এমন ক্রিকেটারকে দিনের পর দিন খেলিয়ে। হয়তো তারকা ক্রিকেটারের কাছে অতিরিক্ত পারফর্ম পাওয়ার মিথ্যা আশায় এটা করেছে তারা। কিন্তু এর মাধ্যমে যে মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে তা আধুনিক পেশাদার যুগের ক্রিকেটে বড় সাফল্য পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় অন্তরায়। দুঃখের কথা, এটা এখনো বুঝতে পারছে না বিসিবি।

 
.