সহজ জয়ে শুরু বাংলাদেশের

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭

সহজ জয়ে শুরু বাংলাদেশের

বদরুল আলম চৌধুরী ১২:৪৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২১, ২০২১

print
সহজ জয়ে শুরু বাংলাদেশের

করোনার নিরুত্তাপ দিন কাটিয়ে দেশের মাটিতে শুরু হয়েছে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে শুরু হওয়া এ সিরিজ উত্তাপ নিয়ে এসেছে। গতকাল রাজধানীর মিরপুর স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম খেলায় নবীন ক্যারিবীয়দের সামনে বাংলাদেশের টিম ক্রিকেটের ভাবনার জাল বোনাটাই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু মাঠে নামতেই বদলে গেল সব। টাইগারদের সামনে মেঘাচ্ছন্ন আকাশটাও যেন রৌদ্রোজ্জ্বল হয়ে উঠল।

ঘরোয়া ক্রিকেটে সাকিবের প্রত্যাবর্তন আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার ফেরায় ব্যাপক ব্যবধান। স্রেফ রাজকীয় প্রত্যাবর্তন। ক্রিকেট ভক্তদের বুঝিয়ে দিলেন কেন তিনি সেরা। আর ক্যারিবীয় তরুণদের তাদের জায়গাতেই আটকে দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন এটি তামাশা নয়, বাইশ গজের লড়াই। সাকিব আর অভিষেক হওয়া হাসানের বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ মাত্র ১২৩ রানে উড়ে যায়। ম্যাচের জয়টা ওখানেই নিশ্চিত হয়ে যায় টাইগারদের। বাকিটা শুধু গল্প। তামিমরা প্রত্যাশিত জয় তুলে নিয়েছেন। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরাটাই শুধু নয়, নেতৃত্বে তামিম অধ্যায়ও হলো জয়ে সূচনা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম খেলায় দুর্দান্ত জয় পাওয়া বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


যদিও এমন একটি স্কোর তাড়া করতে গিয়ে চারটি উইকেট পড়ে যাওয়া প্রত্যাশিত ছিল না। সহজ ব্যবধানটাতে আরও সহজ জয় হওয়াই ছিল প্রত্যাশিত। শীতের দিনটি মেঘলা হওয়ায় পুরো সময়ই ফ্লাডলাইটের নিচে খেলা হয়েছে। সকালে বৃষ্টি হয়েছে, সবকিছুর প্রভাব পড়েছে পিচে। এ সবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জয়টা গিয়ে দাড়ায় ৬ উইকেটের।

তবে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ছিল তিন শতাধিক রানের। সেটা তো হলোই না, উল্টো ৯৭ বল হাতে রেখে ক্যারিবীয়দের ১২২ রান টপকে তামিমদের প্রত্যাশিত জয়।

অধিনায়ক হিসেবে এই ম্যাচ দিয়েই পূর্ণকালীন দায়িত্ব শুরু করা তামিম ইকবাল ওপেনিংয়ে নেমে ৪৪ রান করেছেন। তামিমের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে ভালো শুরু করেছিলেন লিটন দাস। লক্ষ্য কম হলেও স্নায়ুচাপ না বাড়াতে ভালো শুরুটা জরুরি ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে আলজারি জোসেপ দারুণ বোলিং করছেন। বেশ কয়েকবার ব্যাটসম্যানের ব্যাট ফাঁকি দিয়েছে তার বল। ভাগ্য একটু এদিক-ওদিক হলে উইকেট পেয়েই যেতেন উইন্ডিজের ২৪ বছর বয়সী এই ফাস্ট বোলার।

কিন্তু তার সঙ্গে বোলিং উদ্বোধন করা অন্য বোলার চেমার হোল্ডারকে শুরু থেকেই আক্রমণ করে গেছে বাংলাদেশ। ৩ ওভারে ২৬ রান দিয়েছেন এই ম্যাচ দিয়ে অভিষিক্ত হোল্ডার। তার কারণেই প্রথম ৭ ওভারে লিটন ও তামিম তুলে নেন ৩৭ রান। এ সময়ে ৬টি চার মেরেছে বাংলাদেশ, এর মধ্যে একটি জোসেফের বলে, তৃতীয় ওভারে যেটি মেরেছিলেন তামিম। বাকি ছয়টিই হোল্ডারের বলে।

যদিও পরক্ষণে জোসেফ ও আকিল মিলে চেপে ধরেছিলেন লিটন-তামিমকে। পরের ৫ ওভারে আসে মাত্র ৪ রান! ১৩তম ওভারে গিয়ে ছয় রান নেন তামিম-লিটন জুটি।

হঠাৎ আটকে যাওয়া রানের গতি ফেরাতে কিছুটা ধৈর্য্যহারা হয়ে পড়েন লিটন। আর তখনি তাকে দিয়ে আসতে হলো উইকেট। আকিলের বলের লাইন মিস করে বোল্ড হয়ে যান বাংলাদেশের এই ওপেনার, ১৪ রানে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওটিই আকিলের অভিষেক উইকেট।

পরের উইকেটটিও নিয়েছেন আকিল। তবে সেটিকে নাজমুলের ‘উপহার’ বললেও ভুল হবে না। ১৬তম ওভারের শেষ বলে টাইমিংয়ে গড়বড় করে ফেলেন নাজমুল, বল তার ব্যাটের কানায় লেগে মিডউইকেটে সহজ ক্যাচ! সাকিবকে নিচে নামিয়ে ব্যাটিং অর্ডারের তিন নম্বর জায়গাটা ধরে রেখেছেন নাজমুল, কিন্তু মাত্র ১ রান করে সেটির মূল্য দিতে পারেননি বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

এরপর সাকিবের সঙ্গে ২৬ রানের জুটি গড়ার পর উইন্ডিজ অধিনায়ক জেসন মোহাম্মদের বলে স্টাম্পড হয়ে গেছেন তামিম। মাঠ ছাড়ার আগে তিনি ৬৯ বলে ৪৪ রানে হাঁকান সাত বাউন্ডারি।

দলের ১০৫ রানের সময় সাকিব আউট হয়েছেন ২৮তম ওভারের শেষ বলে। এটিও আকিল হোসেনের বলে। বল তার ব্যাটে লেগে স্টাম্পে আঘাত হানে। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ক্রিকেটে ফেরার পর শুরুটা বল হাতে রাঙালেও ব্যাট হাতে দারুণ কিছু করা হয়নি সাকিবের। বিদায়ের আগে করেছেন মাত্র ১৮ রান।

এরপর টাইগারদের জয়ের লক্ষ্যে নিয়ে যান দুই ভায়রা ভাই, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তারা দু’জনে মিলে আর কোনো বিপদ বাড়তে দেননি। ১৬ বলে ৯ রান করা মাহমুদউল্লাহ রানের খাতা খুলেছেন বাউন্ডারি দিয়ে। আর মুশফিকের ৩১ বলে ১৯ রানের ইনিংসে একটি মাত্র বাউন্ডারি হাঁকান। যে বাউন্ডারি দিয়ে বিজয়ের বেশে মাঠ ছেড়েছেন তারা। তা-ও আবার রিভার্স সুইপে!

এর আগে সাকিব ৪, অভিষেক হওয়া হাসান মাহমুদ ৩ এবং মোস্তাফিজুর রহমান ২ উইকেট লাভ করেন। মূলত তাদের বোলিংয়েই দিশেহারা হয়ে পড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। এই দলের অভিষেক হওয়া খেলোয়াড় কাইল মেয়ার্স ৪০ রান করেন, সাত-এ নামা রোভম্যান পাওয়েল করেন ২৮ রান। ষষ্ঠ উইকেটে এ দুজন গড়েছিলেন ৫৯ রানের জুটি।