বাইশ গজে ফিরতে মরিয়া সাকিব

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

বাইশ গজে ফিরতে মরিয়া সাকিব

ক্রীড়া প্রতিবেদক ২:২৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০২০

print
বাইশ গজে ফিরতে মরিয়া সাকিব

বুধবারই শেষ হয়ে গেছে সাকিবের এক বছরের শাস্তির মেয়াদ। আজ থেকে তিনি মুক্ত। বাইশ গজের লড়াইয়ে নেমে পড়তে আর কোনো বাধা থাকছে না তার। করোনাকালে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট লিগ দিয়েই তার ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন হওয়ার কথা। সেটাই যে হতে যাচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর এ জন্য তিনিও দিন গুনছেন। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই দেশে ফিরছেন সাকিব। এরপর কোয়ারান্টিনের পর্ব শেষ করে নেমে পড়বেন চিরচেনা মাঠে সতীর্থদের সঙ্গে ব্যাট-বল হাতে। জুয়াড়ির ম্যাচ গড়াপেটার প্রস্তাব লুকানোর অভিযোগে গত বছরের ২৯ অক্টোবর এক বছরের নিষেধাজ্ঞা পান সাকিব। সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হয়েছে ২৮ অক্টোবর, ২০২০।

সাকিব প্রত্যাবর্তনের এই দিনে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত পরিবারের সঙ্গে। সেখানেই প্রবাসী বাঙালিরা তাকে ঘিরে করেছে নানা আয়োজন। প্রবসী বাঙালিরা সাকিবকে সংবর্ধনা জানিয়েছেন। এ যেন রাজার রাজ্যে ফেরার আগে উষ্ণ অভ্যর্থনা। সাকিবও হাসিমুখে সেই আয়োজনে উপস্থিত হয়ে জানান দিয়েছেন, মাঠে ফিরতে কতটা মুখিয়ে আছেন তিনি।

মূলত এই টুর্নামেন্ট দিয়েই সাকিব ফিরবেন প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে। নিষেধাজ্ঞার সময়কালে ক্রিকেট খেলা তো বটেই, সাকিব অনুশীলনের ক্ষেত্রেও বোর্ডের কোনো সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারেননি। তবে ওই সময়টা আন্তর্জাতিক সূচি ফাঁকা থাকায় সাকিব জাতীয় দলের অন্যদের মতোই সময় কাটিয়েছেন। তারপরও শাস্তির খড়গ বলে কথা। তা যে বড়ই কষ্টের। যা তাকে গত একটি বছর কুরে কুরে খেয়েছিল। তাই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার দিনে সাকিব কষ্টে শোনা যায়, আমার মতে ভুল যেন কেউ না করে।’

নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাকিব বলেন, ‘নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আমি বাংলাদেশে ফিরব ইনশাআল্লাহ্। তারপরই বাকি প্রক্রিয়া কীভাবে হবে সেটার একটা রূপরেখা তৈরি করা হবে। এখানে থেকে আসলে এই রূপরেখা তৈরি করা সম্ভব না।’ সাকিব আরও জানান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে তার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে।

বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন, ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খান এবং দুই নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু ও হাবিবুল বাশারের সঙ্গে নিয়মিতই তার কথা হয়। দেশে ফিরে তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই শুরু করবেন ক্রিকেটীয় কার্যক্রম। তিনি বলেন, ‘দেশে ফিরে অবশ্যই বিসিবির সঙ্গে কথা বলে সুন্দরভাবে সব কিছু করা হবে। কিন্তু সেটা একমাত্র দেশে যাওয়ার পরই বলা সম্ভব। বোর্ডের সঙ্গে আমার সবসময় যোগাযোগ আছে। সিইও, সিলেক্টরদের সঙ্গে কথা হয়। পাপন ভাই, আকরাম ভাইর সঙ্গে নিয়মিত কথা হয়। সবার সঙ্গেই যোগাযোগ আছে। তবে পরিকল্পনা দেশে ফিরেই ভালোভাবে করা সম্ভব হবে।’

এদিকে সাব কনটিনজেন্ট ক্রিকেট নিয়ে সাকিব জানান, বাংলাদেশের চিহ্নিত কোনো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত ও বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার খেলা মাঠ ও মাঠের বাইরে অনেক উন্মাদনা ছড়াচ্ছে।

একই সঙ্গে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের চেয়ে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশি হয় বলেও উল্লেখ করেন সাকিব।

তিনি বলেন, ‘ভারত বা শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আমাদের খেলায় গত ২-৩ বছরে অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা সৃষ্টি হয়েছে, যেটা ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথের থেকেও বেশি। কাউকে রাইভাল ভাবি বা নির্দিষ্ট কোনো দলকে হারানোর জন্য কিছু বাড়তি চেষ্টা করি- এমন মনোভাব হয়তো আমাদের খেলোয়াড়দের এখনো তৈরি হয়নি। প্রতিটা দলের সঙ্গেই আমরা একই চেষ্টা করি, একই মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামি।

দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছি, দেশের মানুষকে যেন খুশি করতে পারি সেই লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামি।’ তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রশ্নে সাকিব বাংলাদেশের লড়াকু মানসিকতা, দর্শক-সমর্থকদের উন্মাদনা ও রোমাঞ্চের বিচারে বেছে নিয়েছেন ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে। তিনি বলেন, ‘এই প্রশ্নের উত্তর হবে- ভারত ও শ্রীলঙ্কা। বাইরের মানুষ বা মিডিয়ার হাইপ অনুযায়ী ভারত-পাকিস্তান থেকে ভারত-বাংলাদেশ বা বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ এখন বেশি রোমাঞ্চ সৃষ্টি করে।’