টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের কদর বাড়ছে সাকিবে

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের কদর বাড়ছে সাকিবে

ক্রীড়া প্রতিবেদক ২:২৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০২০

print
টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের কদর বাড়ছে সাকিবে

সকালের সূর্যটা আজ ভিন্ন মাত্রায় অনুভব হতেই পারে সাকিব আল হাসানে। আইসিসি কতৃক শাস্তির খড়গ মাথায় নিয়ে গত এক বছর ধরে যে অন্তর জ্বালায় ভুগছিলেন, সেটাও শেষ। স্বস্তি আর শান্তির প্রলেপ মুড়িয়ে আবারও মুক্ত আকাশে, মুক্ত বিহঙ্গে উড়ে বেড়াতে কোন বাধা থাকছে না তার। ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব গোপন রাখায় আইসিসি কতৃক এক বছর আগের এই দিনে শাস্তি পেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। সকল ধরনের খেলা থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল তাকে। যদিও করোনাকালে ওই সময়টা আর্ন্তজাতিক ক্রিকেটে ছিল না তেমন কোন আওয়াজ। তাই দেশের অন্যান্য ক্রিকেটারদের মতোই সাকিবও কাটলেন ক্রিকেট বিহীন একটি বছর।

আজ বুধবার সাকিব আল হাসানের শাস্তির মেয়াদের শেষ দিন। পরের দিন অর্থাৎ ২৯ অক্টোবর থেকেই তিনি মুক্ত। দেশের এবং দেশের বাইরে সকল ক্রিকেট খেলায় অংশ নিতে তার আর কোন বাধা থাকলো না। 

সাকিবের ক্রিকেটে ফেরা মানেই অনেক বড় ব্যাপার। জানা যায় তার এই ফেরাকে রাজকীয় ভাবে বরণ করতে চাইছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সেটাই হওয়া যে স্বাভাবিক! সাকিব মানেই যে বাংলাদেশ ক্রিকেটের একটি বড় বিজ্ঞাপন। তার ভক্ত-সমর্থকরা স্বাভাবিক ভাবেই তাকে বরণ করতে মরিয়ে হয়ে উঠতেই পারেন! বিশ্ব নন্দিত ক্রিকেটার বলে কথা।

তাই বিসিবি ভাবনায় পাঁচ দলীয় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট লিগ শুরু করার। আগামী ১৫ নভেম্বর এই রঙিন ক্রিকেট লিগটি শুরুর কথা ঘোষনা করেছিলেন বিসিবি বস নাজমুল হাসান পাপন। আর ঔই টুর্নামেন্ট দিয়েই সাকিবকে আনুষ্ঠানিক ভাবে মাঠে ফেরাতে চান দেশের একমাত্র ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিবি।

সাকিব আল হাসান শুধু দেশ সেরা নন, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের তকমাও গায়ে ছিল অনেকদিন। সাকিব হচ্ছেন সব্যসাচি ক্রিকেটার, সেরাদের সেরা, ব্যাট-বলের সফল যোদ্ধা এবং টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট। দেশের হয়ে শুধু খেলেন নি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রঙিন ক্রিকেটে রঙও ছড়িয়েছিলেন। আইপিএল,ক্যারোবিয়ান লিগ, বিগ ব্যাশ, ইংলিশ ক্রিকেট লিগ সব জায়গায় তিনি যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন।

এই মানের একজন ক্রিকেটার দেশের যে কোন ক্রিকেট লিগেই খেলুক না কেন সেই টুর্নামেন্টে উত্তাপ ছড়ানোটাই স্বাভাবিক। প্রেসিডেন্টস কাপের পর তাই পাঁচ দলের একটি সংক্ষিপ্ত ভার্সনের ক্রিকেট লিগ শুরুর ভাবনা বিসিবির। মূলত তাকে বরণ করতেই এই লিগ। অর্থাৎ সাকিবের কামব্যাক টুর্নামেন্ট হতে পারে এই লিগ। এই লিগে তাই সাকিবকে পেতে চায় বিসিবি।

তবে লিগটা কর্পোরেট না অন্য কোন পন্থায় অনুষ্ঠিত হবে তা এখনো ঠিক হয়নি। বৃহস্পতির বোর্ড সভায় তা চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানা যায়।

যদিও এরই মধ্যে বেশ কিছু কর্পোরেট হাউস সাকিবকে পেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিসিবির কাছেও কয়েকটি কর্পোরেট হাউজ এবং ব্যক্তিগতভাবে কেউ কেউ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে টিম স্পন্সর হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সাকিব নিষেধাজ্ঞা মুক্তি হতেই নাকি কর্পোরেট হাউসগুলোর আগ্রহের মাত্রা বেড়ে যায়।

বিসিবি সভাপতিও বলেছেন, ‘কিছু স্পন্সর আছে যারা এই টুর্নামেন্টে আমাদের (বিসিবির) সঙ্গে থাকতে চায়। তবে তারা বিপিএলের কোনো স্পন্সর নয়। সবাই নতুন। এখন যদি পাঁচ দলের জন্য স্পন্সর পাওয়া যায়, তাহলে এটা কর্পোরেট লিগ হলেও হতে পারে।’

জানা যায়, টি-টোয়েন্টি এই টুর্নামেন্টের দল পেতে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পপতিদের আগ্রহ দেখে বিসিবিও টিম স্পন্সর খোঁজা করে দিয়েছে। বিসিবি প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজন জানিয়েছেন, ‘বিসিবি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে স্পন্সর খুঁজছে। এজন্য প্রচার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞাপনও দেয়া হবে। আগ্রহীদের টিম স্পন্সর হওয়ার জন্য বলা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এমন নয় যে শুধু প্রতিষ্ঠিত বা ও বড়সড় কর্পোরেট হাউজই হতে হবে, বিসিবির শর্তপূরণ করে যেকোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানও যদি আগ্রহ দেখায়, তিনিও হতে পারবেন স্পন্সর।’

তবে সব দলের স্পন্সর পেলে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট প্লেয়ার্স ড্রাফটের মধ্যেও হতে পারে। কারণ বেশিরভাগ স্পন্সরেরই লক্ষ্য সাকিব আল হাসান। একবছর পর মাঠে ফেরার অপেক্ষায় থাকা সাকিবকে রেখে দল গড়তে পারলে বাড়তি ‘মিডিয়া মাইলেজ’ মিলবে তাতে সন্দেহ নেই।