স্বর্ণালি দিনের অপেক্ষায় সাকিব

ঢাকা, বুধবার, ২ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

স্বর্ণালি দিনের অপেক্ষায় সাকিব

ক্রীড়া প্রতিবেদক ৬:৫০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২০

print
স্বর্ণালি দিনের অপেক্ষায় সাকিব

সবার দৃষ্টি এখন ২৮ অক্টোবরের দিকে। কারণ ওই দিনেই যে বাংলাদেশ সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের মুক্তির দিন। ম্যাচ পাতানো প্রস্তাব গোপন রাখায় এক বছরের জন্য সাকিবকে নিষিদ্ধ করেছিল আইসিসি। তা আর পাঁচ দিন পরেই পুরিয়ে যাচ্ছে।

এখন তার মাঠে ফেরার অপেক্ষা। প্রত্যাশা করা হচ্ছে বিসিবি আয়োজিত পাঁচ জাতি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে মাঠের লড়াইয়ে ফিরছেন সাকিব। সে প্রত্যাশা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোরও। শুধু তাই নয়, সাকিবকে নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখছেন টাইগারদের কোচ। 

রাসেল ডমিঙ্গো মনে করেন, সাকিব ফিরলেই বাংলাদেশের ক্রিকেটে রাতারাতি কোনো পরিবর্তন আসবে না। তার মতে, এক বছর ক্রিকেট থেকে দূরে থাকায় মানিয়ে নিতে সময় লাগবে তার। তবে টাইগার কোচের বিশ্বাস, ২০২১ সালটা দুর্দান্ত কাটবে সাকিবের।

গতকাল এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ কথা জানান জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ।

তিনি বলেন বলেন, কালকেই (সাকিবের) সঙ্গে কথা হয়েছে আমার। ফিটনেস নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করছে সে। আপাতত দেশের বাইরে আছে। অন্য সবার মতো সাকিবেরও ফেরার পর মানিয়ে নিতে সময় লাগবে কিছুটা। যদি আশা করে থাকেন ফেরার পর সরাসরি বিশাল কোনো মিরাকল সে করে ফেলবে, তা ঠিক না। তাকে নিয়ে ধৈর্য ধরতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এক বছর ধরে কোনো ধরনের ক্রিকেট খেলেনি সে। এখন মাঠে ফিরতে মুখিয়ে আছে। সে বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার, কিন্তু তারপরও একটা পথ ধরে এগোতে হবে। অনুশীলনে থ্রো ডাউন এবং বোলিং মেশিনে খেলা আর ম্যাচে ১৪০ কিলোমিটার গতির বোলারকে খেলার মধ্যে পার্থক্য অনেক। পায়ের নিচে জমি খুঁজে পেতে ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে তারও কিছুটা সময় লাগবে। আমরা জানি, সে কোয়ালিটি ক্রিকেটার। আশা করি আগামী ২০২১ সালটা বাংলাদেশের হয়ে দুর্দান্ত কাটবে তার।

সাকিবকে নিয়ে এমন মন্তব্যের পর বাংলাদেশ কোচ সম্প্রতি প্রেসিডেন্স কাপে ক্রিকেটারদের ব্যাটিং লাইনের ব্যর্থতা নিয়েও হতাশা নন। প্রায় প্রতিটি ম্যাচের ইনিংসের শুরুতেই ২-৩টি উইকেট পড়েছে। তবে জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো ব্যাটসম্যানদের এই রান না পাওয়াটাকে সমস্যা মনে করছেন না।

জাতীয় দলের কোচ মনে করেন, দীর্ঘ বিরতিতে ব্যাটসম্যানরা ঠিক মতো অনুশীলন করতে পারেননি। এছাড়া বোলাররাও বেশ ভালো বল করেছেন।

ডমিঙ্গো বলেন, আমি খুব খুশি। আমি মনে করি, এই টুর্নামেন্টটি দারুণ মনোযোগ দিয়ে খেলেছে সবাই। আপনি দেখেছেন, মাঠে ছেলেরা কতটা চেষ্টা করেছে, বোলাররা নিংড়ে দিয়ে বোলিং করেছে। অবশ্যই, আমরা আরও কিছু রান পেলে দারুণ হতো। তবে আপনাকে এটাও বুঝতে হবে যে, ছেলেরা প্রায় সাত মাস ধরে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলেনি। কয়েকজন ব্যাটসম্যান অনুশীলনে যোগ দিয়েছিল টুর্নামেন্ট শুরুর এক বা দুই সপ্তাহ আগে।

তিনি আরও বলেন, কোচ হিসেবে আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ছেলেরা কিছু ম্যাচ খেলছে। ম্যাচ খেলার চেয়ে বড় অনুশীলন আর নেই। তাছাড়া প্রতিটা ম্যাচই প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে।

উইকেটগুলো (রান তোলার ক্ষেত্রে) সহজ ছিল না। কিছু তরুণ ক্রিকেটার দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। মুশফিকু, রিয়াদ (মাহমুদউল্লাহ), তামিমের মতো কিছু সিনিয়র ক্রিকেটার রান পেয়েছে। মূল বিষয়টা হলো ছেলেরা কিছু প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট ম্যাচ পেয়েছে।