শর্ত মেনে টেস্ট খেলা সম্ভব না

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৯ আশ্বিন ১৪২৭

শর্ত মেনে টেস্ট খেলা সম্ভব না

ক্রীড়া প্রতিবেদক ২:৪৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০

print
শর্ত মেনে টেস্ট খেলা সম্ভব না

আন্তর্জাতিক ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে ফেরারটা ছিল সময়সাপেক্ষ। কিন্তু শেষ দিকে এসে বজ্রাঘাতের মতোই যেন আঘাত পড়েছে মুমিনুলদের ওপর। শুরুর দিকে বিসিবির সঙ্গে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের কথা চালাচালির সঙ্গে শেষের দিকের কোনো মিল নেই। সফর ঘনিয়ে আসতেই শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড একের পর এক শর্ত দিতেই কঠিন হয়ে পড়ে বাংলাদেশ দলের শ্রীলঙ্কার সফর।

এ যেন সফরে বাংলাদেশকে বিরত রাখারই একটি ফন্দি দ্বীপ রাষ্ট্রটির। শেষের দিকে এসে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে দলের বহর ৩০ এর অধিক হতে পারবে না এবং থাকতে হবে সেখানে ১৪ দিনের কোয়ারান্টিনে। অথচ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আগে থেকেই তাদের জানিয়ে আসছিল ৪৩ জনের একটি বহরের কথা। করোনা বলেই সেখানে এইচপি দলটিও একই সঙ্গে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিসিবি।

যেহেতু আসন্ন তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজটি আইসিসির টেস্ট চাম্পিয়নশিপের আওতায়, তাই সময়টা যেন কাজে লাগানো যায় তেমনি একটি পরিকল্পনা নিয়েছিল ছিল বিসিবির। শ্রীলঙ্কায় গিয়ে অনুশীলন করা, প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা। কিন্তু এ সবের কিছুই এখন আর থাকছে না, শ্রীলঙ্কার দেওয়া শর্ত মতে। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের এই সব শর্ত মেনে সফর করার পক্ষে রাজি নন বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপন। তিনি গণমাধ্যমে পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছেন শর্ত মেনে টেস্ট খেলা সম্ভব নয়।

পাপন বলেন, ‘আমরা আমাদের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তাদের জানিয়ে দিয়েছি। তবে তারা যে শর্ত দিয়েছে, তাতে সেখানে গিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নসশিপ খেলা সম্ভব না। আর সেখানে সফর না হলে ঘরোয়া লিগ শুরুর ব্যাপারে চিন্তা করা যাবে।’

করোনাকালে জাতীয় দলের এই সফরটা বেশ গুরুত্বপূর্ণও। শ্রীলঙ্কার করোনা পরিস্থিতিও তুলনামূলকভাবে ভালো। তবে তা সত্ত্বেও বেশ সতর্ক সেখানকার সরকার। টাইগারদেরও তাই বাধ্যতামূলক কোরারান্টিনে থাকতে হবে। শ্রীলঙ্কা সফরে বিসিবির চাওয়া ছিল ক্রিকেটারদের জন্য ৭ দিনের কোয়ারান্টিন। পাশাপাশি অনুশীলনও চালিয়ে যাওয়া। তবে লঙ্কান ক্রীড়া মন্ত্রণালয় তরফ থেকে সে দেশের বোর্ড জানিয়েছে, ১৪ দিনের কোয়ারান্টিনে থাকতে হবে এবং এর মাঝে কোনো অনুশীলন করা যাবে না।

এদিকে জাতীয় দলের প্রস্তুতির জন্য একই সময়ে এইচপি দলের সফরও নির্ধারণ করেছিল বিসিবি। জাতীয় দল ও এইচপি দলের ক্রিকেটারসহ বেশ বড় সংখ্যার একটা দল একসঙ্গে শ্রীলঙ্কা সফরে যাওয়ার কথা। সেটা নিয়েই লঙ্কান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আপত্তি তুলেছে। তার ওপর ১৪ দিনের কোরারান্টিন ও অনুশীলন নিয়ে বেঁকে বসেছে লঙ্কান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সে কারণেই অনিশ্চিত এইচপি দলের সফর।

তবে লঙ্কা সফরে না গেলে ঘরোয়া ক্রিকেট শুরুর পরিকল্পনা করছে বোর্ড। বোর্ড সভাপতি জানিয়েছেন, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড আর আমাদের বোর্ডের চিন্তার মধ্যে অনেক পার্থক্য। তাদের চিন্তাধারার সঙ্গে বিসিবির চিন্তাধারার মিল নেই। সেজন্যই লঙ্কা সফরে না গেলে ঘরোয়া ক্রিকেট শুরুর পরিকল্পনা করছে বোর্ড।

বোর্ড সভাপতি বলেন, ‘আমরা ক্রিকেট ফিরিয়ে আনব। বাইরের কারও সঙ্গে হবে কিনা জানি না। আমরা নিজেরা ঘরোয়া ক্রিকেট শুরু করে দেবো। কী করব এটা এখন বলছি না। কিন্তু ক্রিকেট আমরা মাঠে ফেরাবোই। সব ক্লাবকে তো আর ম্যানেজ করতে পারব না। যাদের ম্যানেজ করতে পারব, ৪০টা খেলোয়াড় হতে পারে, ৬০টা খেলোয়াড় হতে পারে, তাদের নিয়েই আমরা আয়োজন করব। খেলা মাঠে গড়াবে। ইনশাআল্লাহ।’