বুলবুলেও হয়নি আনুষ্ঠানিক বিদায়

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২০ | ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭

বুলবুলেও হয়নি আনুষ্ঠানিক বিদায়

ক্রীড়া প্রতিবেদক ১:২৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০২০

print
বুলবুলেও হয়নি আনুষ্ঠানিক বিদায়

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে এক অবিস্মরণীয় নাম আমিনুল ইসলাম। অভিষেকেই যিনি ভারতের বিপক্ষে হাঁকিয়েছিলেন সেঞ্চুরি। শুধু কি তাই! দেড় শতাধিক রান করে রেকর্ড করেছেন টেস্ট ক্রিকেটে। তার ত্রিশোর্ধ্ব বয়সেই বাংলাদেশের টেস্ট প্রাপ্তি।

তাই জাতীয় দলের স্থায়িত্বকালটাও খুব একটা বেশি দিন ছিল না। কিন্তু ১৩ টেস্ট আর ৩৯ ওয়ানডে খেলতেই ক্যারিয়ারের ইতি। ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে পৌঁছালেও জাতীয় দল থেকে তার বিদায়টা হবে নীরবে, তা মেনে নিতে পারেননি কেউ। এমনকি এখনো সেই কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল নিজেই। বর্তমানে ৫২-তে পা রাখা বুলবুল এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)-এ ক্রিকেট শিক্ষা দিয়ে বেড়াচ্ছেন ক্রিকেট উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। 

২০০০ সালে ১০ নভেম্বর অভিষেক টেস্টে অভিষেক হওয়া বুলবুল ১৩ টেস্টে রান করেন ৫৩০ এবং ৩৯ ওয়ানডে ৭৯৪ রান করেন। বাংলাদেশের ক্রিকেট বুলবুল নিয়ে কথা হতেই এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মিডিয়াকে জানান নিজের অজানা অনেক তথ্য। যেখানটায় বেরিয়ে এসেছে ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় না নেওয়ার কষ্টটি।
বুলবুল বলেন, আমরা যখন টেস্ট স্ট্যাটাস পাই তখন আমার বয়স ৩০ বছর।

৩১ থেকে ৩২ বছর এর মাঝামাঝি সময়টাতে আমাকে দল থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমি এখন নিজেকে বলি, আরও কয়দিন বা টেস্ট খেলতে পারতাম। ৩০ বছরের একটা ছেলে যখন টেস্ট ম্যাচ খেলে সবার সঙ্গে; আসলে আমাদের সবারই শুরু ছিল তখন। আমরা কয়েকজন অভিজ্ঞ ছিলাম। আমরা বাদ পড়লে ওই জায়গাটা পূরণ করতে অনেক সময় লেগেছে। আমরা খুব ভালো পারফর্মার ছিলাম তা বলছি না, কিন্তু আমরা অভিজ্ঞ ছিলাম।

আর ওয়ানডে’র কথা বলব, আমি ভাগ্যবান যে ৩৯টা ম্যাচ খেলেছিলাম। কিন্তু আরও কিছুদিন খেলতে পারতাম। আমার শেষ ওয়ানডে ম্যাচ ছিল পাকস্তানের বিপক্ষে। ওদের তখন খেলতো ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিস, মুস্তাক আহমেদ, শহীদ আফ্রিদী, আব্দুল রাজ্জাকরা। তাদের বোলিংয়ের বিপক্ষে আমি একেবারেই খারাপ করিনি, ৩৯ বলে ৪১ রান করেছিলাম।

তারপরও আর আমাকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। কিন্তু কেন নেয়নি তা জানি না। তারা তাদের পরিকল্পনার ওপরে ভিত্তি করে আমাকে আর দলে নেননি। তবে আমি আরও কিছুদিন ওয়ানডে খেলতে পারতাম। কিন্তু টি-টুয়েন্টি খেলা হতো। তাতে ক্যারিয়ারটা হয়ত আরেকটু দীর্ঘায়িত হতে পারত। আমি ওই সময় অবসর নিইনি, কারণ আমার মনে হয়েছিল, আমার প্রতি অবিচার করা হয়েছে। কিন্তু আমি কাউকে দোষ দেব না কোনো দিনও।’

কিন্তু তাই বলে আনুষ্ঠানিক তো বিদায় নিতে পারতেন না বাংলাদেশ টেস্টের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান? এ নিয়ে তিনি বলেন, যেহেতু আমি অবসর নিইনি তার মানি আমি এখনো অ্যাভাইলেবল। কিন্তু আর কোনোদিন সুযোগ পাব না। প্রতিবাদ করে আমি অবসর নিইনি। যখন মারা যাব তখন তো এমনি অবসর হয়ে যাবে। মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত আমি দলের জন্য অ্যাভাইলেবল থাকব।’