‘পলিটিক্স মাশরাফির মূল্য অনেক বেশি’

ঢাকা, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২০ | ২৩ আষাঢ় ১৪২৭

‘পলিটিক্স মাশরাফির মূল্য অনেক বেশি’

বদরুল আলম চৌধুরী ৮:০৩ পূর্বাহ্ণ, জুন ০৩, ২০২০

print
‘পলিটিক্স মাশরাফির মূল্য অনেক বেশি’

বাইশ গজের লড়াইয়ে এখনো সম্যক যোদ্ধা মাশরাফি। হয়েছেন নড়াইল-২ আসনের নির্বাচিত সাংসদ। পেশাদার খেলা চালিয়ে যাওয়া অবস্থায় সরাসরি রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ঘটনা বিশে^ নতুন নয়। শ্রীলঙ্কার সনাথ জয়াসুরিয়াও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার আগেই নাম লিখিয়েছিলেন রাজনীতিতে। বাংলাদেশের হলেন মাশরাফি।

মাত্র অধিনায়কের পদ ছেড়েছেন। আরও কিছুদিন চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাও আছে তার। গতবিশ বছরের ক্রিকেটে ছিল তার নানান উত্থান-পতন। ২০০১ থেকে ২০২০। লম্বা এই সময়ে ১১ বার ইনজুরিতে ক্ষতবিক্ষত মাশরাফি দমে যাননি। বয়সের সঙ্গে সফলতাও যেন পাল্লা দিয়েছিল। ১৯৮৩ সালের ৫ অক্টোবরে জন্মা গ্রহন করা ছেলেটি হলেন নড়াইল এক্সপ্রেস। বাংলাদেশের সবচে সফল অধিনায়ক। স্থান পেয়েছেন ইএসপিএন কতৃক ‘ওয়ার্ল্ড ফেইম ১০০’। অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডেতে ১০০ উইকেট নেওয়াদের তালিকায় পঞ্চম বোলার। তার নেতৃত্বে রয়েছে জয়ের হাফসেঞ্চুরি। 

তাকেই যখন বলা হয় ক্রিকেট আর রাজনীতি দুইয়ে কোনটি বেশি মূল্যবান? ফেসবুক এক আড্ডায় তার মাশরাফি করেছেন এ দুইয়ে সেরার মূল্যায়ন- ‘দেখুন রাজনীতি অনেক বড় জায়গা। কাজ করতে গিয়ে আমি তা দেখেছি। এখানে আমার বয়স মাত্র দেড় বছর, যা কিনা মোটেও বড় সময় না। আগে মনে করতাম এখানে অনেক কিছুই সহজ। কিন্তু তা না, এটা খুব একটা সহজ না। ডেটিকেশন এখানেও থাকতে হয় যে আপুনি কোন জিনিসটা নিয়ে কাজ করছেন। কতটা ডেভেলপ চান এ বিষয়গুলো নিয়েও কাজ করতে হয়।

তবে আমি যতটুকু কাজ করেছি, ডেভেলপ নিয়েই কাজ করেছি বেশি। আমার কাছে পলিটিক্স বলতে ওটাই বুঝি-মানুষের সেবা করা, কাজ করা এবং সেটা নিয়েই কাজ করছি। যদিও গত দেড় বছরে বৃহৎভাবে বলার মতো কিছু নেই। তবে আমাদের ভালো ভালো প্রজেক্ট অনগোয়িং আছে।

সেগুলো হলে হয়ত একটা দৃশ্যমান কাজ এসে দাড়াবে।

আর রাজনীতি নিয়ে আসলে অতটা ভাবার কিছু নেই, ভাবিনি। একটা কথা কি, যে বিষয়টি আপনার আমার কাছে আছে, যে দায়িত্বটা আমার কাছে আছে- তা ভালোভাবে করে, অনেস্টলি করা, সেটা সবচে’ বেশি ইমপোটেন্ট। এটাই আমি দিল দিয়ে করি।

পেশা আর প্রত্যাশা নিয়ে যদি বলেন-একটি জিনিস ক্লিয়ার আমার রুটি রুজি ক্রিকেটকেই কেন্দ্র করে। এটা হচ্ছে একটা ক্লিয়ার জিনিস। তো যে যেখানে কাজ করে তার সেখানে কনফার্ম। তো রাজনীতি এবং ক্রিকেট দুটোকে মিলালে আমি এ ভাবে বলব- ক্রিকেটার মাশরাফি, হাঁ হয়তো মোটামুটি, মানে যে জায়গায় যাই না কেন আমাকে চেনে মানুষ, একজন মাশরাফিকে চিনত মানুষ। আমাকে যথেষ্ট রেসপেক্ট করে, আমিও সবাইকে রেসপেক্ট করি। তবে রাজনৈতিক যে বিতর্কগুলো আছে ক্রিকেট, রাজনীতি নিয়ে আমার ক্ষেত্রে।

তবে আমি এ টুকু বলব ক্রিকেটার মাশরাফি কিন্তু কোনো মানুষকে আলাদাভাবে বাঁচাতে পারেনি। কাউকে না।

দেখুন, ক্রিকেট নিয়ে স্বপ্নটা না হয় একদিন ওয়ার্ল্ডকাপ জিতব বা টেস্ট সিরিজ জিতব। বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটে এক নম্বর হবে। তাই বলে যে ব্যক্তিটার দুটা লিভার সিরোসিস হয়ে গেছে বা যে ব্যক্তিটার ব্রেনস্ট্রোক হয়েছে, যে ব্যক্তির হার্ড অ্যাটাক হয়েছে তার কাছে গিয়ে যদি বলা হয় ভাই আপুনি কি বাঁচতে চান নাকি ওয়ার্ল্ডকাপ জিততে চান? সে কি উত্তর দেবে...।

তো ক্রিকেটার মাশরাফি যেটা পারি আমার বিশ^াস রাজনীতি মাশরাফির সেটা করার সুযোগ আছে। মানুষকে বাঁচানোর সুযোগ আছে।
এখানে যে কেউ আমার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে পারে। এ নিয়ে আমি তর্ক-বিতর্কে যাব না। কিন্তু এটা ফ্যাক্ট আপুনি যদি মানুষের জন্য কাজ করেন। এক কথা হচ্ছে, আপুনি কি নিজের জন্য রাজনীতি করতেছেন না মানুষের জন্য করতেছেন এটা ক্লিয়ার। যদি আপুনি মানুষের জন্য রাজনীতি করেন তাহলে অনেক মানুষকে বাঁচানোর সুযোগ আছে। এটাই ক্লিয়ার, আপুনি কিছু করতে পারবেন। যেটা ক্রিকেটের ক্ষেত্রে আমি পারিনি। ক্রিকেটার মাশরাফি কাউকে আলাদাভাবে বাঁচাতে পারেনি।

ক্রিকেটে অন্য রকম আনন্দও আছে। কেউ বলতে পারবেন না তিনি রাজনীতি করেন না। প্রতিটা লোকের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ আছে। আমরা পলিটিক্স ইনটোটাল। যারা আজ বড় বড় কথা বলছে এবং বলে পলিটিক্স করে না বা করে। সে নিজেও কিন্তু পলিটিক্সের অংশ। হয়তো আমার পিকিং নিয়ে তার সমস্যা আছে। সেও কোনো না কোনো দলকে পছন্দ করছে।

তবে প্রত্যেকটা দল বা মানুষের প্রতি আমার সমান রেসপেক্ট আছে। আমি সব দলকে সমানভাবে সম্মান করি। কিন্তু আমরা পলিটিক্সের বাহিরে কেউ নয়।

আজকে যে করোনাভাইরাস চলছে সেখানে ব্যক্তিগত মাশরাফি ক’জনকে খাবার দিতে পেরেছে? ক্রিকেটার মাশরাফি ক’জনকে খাবার দিতে পেরেছে? হয়তো ৫ হাজার। কিন্তু আমার নড়াইলে লোক সংখ্যা ৫ লাখ।

রাজনীতি মাশরাফির এখানে সুযোগ আছে কিছু করার। সরকার থেকে যে জিনিসগুলো আসছে আমি যেন সেগুলো সঠিকভাবে বিতরণ করতে পারি। হয়তো সেটা মিনিমাম দুই থেকে আড়াই লাখ মানুষ পায়। সেটা দেখভাল করার সুযোগ আমার আছে। তাই বলছি এই মহামারিতে ক্রিকেটার মাশরাফি থেকে পলিটিক্স মাশরাফির মূল্য অনেক বেশি।

দেখুন, একটা মোবাইল হাতে নিয়ে কমেন্ট করা ভেরি ইজি-আমি রাজনীতি করি না, এই না, সেই না। কিন্তু যেখানে সমস্যা, ডিস্টার্ব আছে, সেখানে ঢুকে সে জিনিসটা ক্লিয়ার করা ইজ নট ইজি। যারা চেষ্টা করে হয়তো সেটা আপনাদের জন্যই করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আবার যারা করে তাদের রেসফেক্টও করা উচিত।’