‘নিজেকে ঘষে মেজে তৈরি করতে হয়েছে’

ঢাকা, রবিবার, ৭ জুন ২০২০ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

‘নিজেকে ঘষে মেজে তৈরি করতে হয়েছে’

ক্রীড়া প্রতিবেদক ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ, মে ১৭, ২০২০

print
‘নিজেকে ঘষে মেজে তৈরি করতে হয়েছে’

ভারতের এ সময়ের অন্যতম সেরা ওপেনার। যদিও একটা সময় খেলতেন মিডল অর্ডারে। কিন্তু তাকে এই জায়গাটি পেতে বেশ কষ্ট করতে হয়েছিল। শচীন- সৌরভদের ক্রিকেট ছাড়ার পর ২০১১ সালে জায়গা পেলেন ওপেনিংয়ে ব্যাট করার।

২৯ সেঞ্চুরি ও ৪৩ হাফ সেঞ্চুরির মধ্যে ২৭ সেঞ্চুরি ও ৩১ হাফসেঞ্চুরিই করেছেন ওপেন করতে নেমে। তার সবচেয়ে বড় অর্জন, ওয়ানডে ক্রিকেট তিনটি ডাবল সেঞ্চুরির দুর্লভ কৃতিত্বও দেখিয়েছেন ইনিংসের সূচনা করতে নেমেই। রোহিতের ব্যাটিং শৈলী, সৌন্দর্য্য আর শৈল্পিকতা নিয়ে খুব বেশি আলোচনায় নেই, তবে তার বড় ইনিংস খেলার ক্ষমতা নিয়ে আছে রাজ্যের আলোচনা। তার এই কৃতিত্বের প্রায় ম্যাচেরই সাক্ষী স্ত্রী ঋতিকা। যখনি রোহিতের খুনে মেজাজী ব্যাটিং কিংবা মাইল ফলক স্পর্শ ক্যামেরায় বারবার ধরা পড়ে ঋতিকার আবেগী মুখখানা। ডেসিং ব্যাটসম্যান রোহিতের চেয়ে যেন দুশ্চিন্তাটা তারই বেশি। শুক্রবার রাতে তামিম ফেসবুক লাইভ আড্ডায় রোহিত শর্মায় উঠে আসে পুরনোর স্মৃতির নানান কথা। যা দৈনিক খোলা কাগজের পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো-

রান তোলার গল্প
আমি নিয়মিত ওপেন করতাম না। ক্যারিয়ারের বেশ কয়েক বছর যাওয়ার পর ইনিংসের সূচনা করতে শুরু করেছি। তাও সেটা নিয়মিত ওপেনার হিসেবে নয়। হয়তো কোনো ওপেনার আহত হয়েছে, তার জায়গায় আমাকে ওপেন করতে পাঠানো হতো। তবে নিয়মিত ওপেনার হয়েছি ২০১১ সাল থেকে। এরই মধ্যে নিজেকে অনেক ঘষে মেজে তৈরি করতে হয়েছে। আমি শুরুর দিকে অনেক ভুল করেছি। ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ বছর মিডল অর্ডারে ব্যাট করতাম। তখন অনেক ভুল করেছি।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুতে অনেকেই ভুল করেন। আসলে তখন ভুল করাটা অস্বাভাবিকও নয়। তারপর আমি নিজেকে শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমার ব্যাটিংয়ে আরও শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা করেছি। এখন যতটা সম্ভব কম ভুলের চেষ্টা করি। আমি কিছু বিষয় মাথায় রাখি। শুরুতে একটু সময় নিতে চেষ্টা করি। তবে আমার কাজটা ভালো মতো করার পেছনে ধাওয়ানও হেল্প করেছে। সে যদিও গ্রাউন্ড শট খেলে বেশি, তবে বেশ অ্যাটাকিং ব্যাটসম্যান। এটাই তার শক্তি। তার প্লেসমেন্টগুলোও পারফেক্ট। আমি সেগুলো শুরুর দিকে মাথায় রেখেছি। এসব দেখেই আমি আমার করণীয় ঠিক করে নিয়েছি। আমি ধরেই নিয়েছি, আমার কাজ হলো যত বেশি সময় উইকেটে থাকা যায়। অন্তত ৪০-৪৫ ওভার পর্যন্ত। ব্যাট করতে গেলে সেটাই আমার মাথায় থাকে। শুরুর দিকে আমি বেশিরভাগ সময় ধাওয়ানকে স্ট্রাইক দিতে চাই। আমি জানি, পরের দিকে পুষিয়ে নিতে পারব। আমরা যখন ৩০০ রান তাড়া করি, তখন আবার কৌশল পাল্টে যায়। তখন ব্যাপারটা অমন থাকে না, যে শুধু রোহিত শর্মাই মারবে। তখন আমার চিন্তা থাকে যত কম ভুল করা যায়।’

বিপিএল পরামর্শে দর্শক মর্যাদা
বাংলাদেশের মানুষ ক্রিকেটের ব্যাপারে অনেক আবেগপ্রবণ। এমনটা বাংলাদেশ ছাড়া আর কোথাও দেখিনি সত্যি। আমার মনে হয়, এই উৎসাহটা যদি দর্শকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া যায় তাহলে আরও ভালো হবে। (বিপিএলে) দুই-তিনজন খেলোয়াড় যদি কয়েক বছর নির্দিষ্ট একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলে তাহলে তাদের সমর্থকগোষ্ঠিও বৃদ্ধি পাবে। দর্শকরা একটা দলকে সেভাবেই সাপোর্ট করতে পারবে। ধরো, তুমিসহ (তামিম) আরও কয়েকজন ঢাকার হয়ে অনেক বছর খেললে। আমার মনে হয় বিসিবির এমন কিছু করা উচিত।

কয়েকজন মূল খেলোয়াড়কে এক দলে অনেক বছর রাখা উচিৎ, না হলে দর্শকদের উৎসাহ হারিয়ে যাবে। ধরো, তারা তোমার জন্য এক দলকে সমর্থন দিচ্ছে, কিন্তু এরপর শুনল যে তুমি অন্য দলে চলে গেছ, তখন তাদের আবার আরেক দলকে সমর্থন দিতে হবে।

আমাদের মনে রাখা উচিত দর্শকরা খেলার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেয়। সেটা শুধু ক্রিকেট না, যে কোনো খেলাই হতে পারে। আমাদের কাছেও ভক্তদের গুরুত্ব অনেক বেশি। তুমি তাদের খেয়াল না রাখলে, তারাও তোমার খেয়াল করবে না।