শচীনই মুমিনুলের আইডল

ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২০ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

শচীনই মুমিনুলের আইডল

ক্রীড়া ডেস্ক ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৭, ২০২০

print
শচীনই মুমিনুলের আইডল

খেলোয়াড় হয়ে বড় হওয়ার পেছনে কারও কারও অদৃশ্য শক্তি থাকে। আর সেই শক্তিটা হচ্ছে আইডল এবং স্বপ্ন। দুটোই যেন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে। তেমনি একজনকে আইডল হিসেবে বেচে নিয়ে তারই মতো বড় হওয়ার স্বপ্ন গেঁথেছিলেন সৈকতে বড় হওয়া মুমিনুল হক। কক্সবাজার তার জন্মস্থান। সেখানেই তার ক্রিকেটে হাতেখড়ি।

সমুদ্রের গুঞ্জন প্রতিনিয়ত যেন তাকে সাহসী করার নতুন বার্তা দিয়ে যেত। তাইতো বাংলাদেশের ক্রিকেটে হঠাৎ তার গর্জন। সেঞ্চুরিতে মাতিয়ে দেন দর্শকদের। এখন মুমিনুল বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক। কে তার স্বপ্নে বড় ক্রিকেটার হওয়ার বীজ বপন করেছিলেন, জানেন? শচীন, শচীন টেন্ডুলকার।

তার খেলা টেলিভিশনের পর্দায় দেখেছেন। ছোটখাটো দেহ নিয়ে শচীন কীভাবে সামাল দিচ্ছেন গোলা-বারুদের মতো ছুটে বোলারদের। তা দেখে ছোট মুমিনুল মুগ্ধ। ২২ বছর আগে শারজার সেই ম্যাচটিই কি-না ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন তৈরি করে দেয় সমুদ্রের লোনা পানি আর বালিতে মাখামাখি করা ছেলেটির!

শচীনের জন্মদিনের এই সময়ে মুমিনুলে জেগে বসেছে সেই উপলব্ধি। তাইতো এই স্বল্পভাষীর সোজা সাফটা উত্তর, ‘শচীন টেন্ডুলকার আমার আদর্শ। তার ব্যাটিং, তার বিনয় সব কিছুই আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ তখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত নয়। আমার বড় ভাই, বাসার সবাই ভারতের সমর্থক। ভারতের খেলাই বেশি দেখা হতো। আমার প্রথম যে খেলা দেখার কথা মনে পড়ে, বয়স তখন ৭-৮ হবে, টেন্ডুলকার অনেক পিটিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের।

কেন জানি না, ডেমিয়েন ফ্লেমিংয়ের (সাবেক অস্ট্রেলিয়ান পেসার) চেহারাটা আমার বেশি মনে পড়ছে। মনে আছে, ফ্লেমিং বল করতেন আর টেন্ডুলকারের দুর্দান্ত শট দেখে অসহায়ের মতো তাকিয়ে থাকতেন। খুব মজা পেয়েছিলাম, অনেক লাফিয়েছিলাম। আর হ্যাঁ, স্বপ্ন দেখেছিলাম। টেন্ডুলকারের ওই দিনের ব্যাটিং দেখেই মনে হয়েছিল, ‘আমাকেও টিভিতে খেলতে হবে, এরকম ব্যাটিং করতে হবে।’

‘টেন্ডুলকার যে সেঞ্চুরি করেছিলেন (১৩১ বলে ১৪৩) বা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস সেটি, অতকিছু তখন বুঝতাম না। শুধু তার চার-ছক্কা, দুর্দান্ত সব শট, দর্শকের লাফানো, অস্ট্রেলিয়ানদের বিধ্বস্ত করা, এসব মনে আছে। আজকে আমি যে ক্রিকেটার হয়েছি, যে পর্যায়েই এসেছি, সবকিছুর শুরু সেদিন থেকে। তিনিই আমার নায়ক। তাকে দেখেই আমি ক্রিকেটার হয়েছি।’

‘একটু বড় হয়ে পাড়ায় পাড়ায় যখন খেলা শুরু করলাম, তখনও টেন্ডুলকার হতে চাইতাম। ঘরে টেন্ডুলকারের পোস্টার লাগিয়েছিলাম। তাকে নিয়ে লেখা, তার ছবির পেপার কাটিং রাখতাম। পরে বিকেএসপিতে গেলাম, ততদিনে ক্রিকেট বুঝতে শুরু করেছি। টেন্ডুলকারের প্রতি ভালো লাগা তখন আরও বাড়তে শুরু করেছে। বুঝতাম যে ঠিক নায়ককেই পছন্দ করেছি আমি।’

তবে আক্ষেপ মুমিনুলে রয়ে গেছে। আর তা হলো টেন্ডুলকারের বিপক্ষে খেলতে না পারা। হবেই বা কি করে। মুমিনুলের আর্ন্তজাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার আগেই যে ক্রিকেট থেকে নিয়ে ফেলেছেন শচীন টেন্ডুলকার। তবে সামনা সামনি তাকে দেখার সুযোগ হয়েছিল বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার ডে-নাইট ক্রিকেট ম্যাচের দিন।

এ নিয়ে মুমিনুল বলেন, ‘এই ম্যাচে অনেকের সঙ্গে টেন্ডুলকারও ছিলেন উদ্বোধনে। তার সঙ্গে হাত মেলানো হয়েছে, হাই-হ্যালো হয়েছে। কিন্তু এত ঝামেলার মধ্যে আলাদা করে কথা বলার সুযোগ হয়নি। ছেলেবেলার ইচ্ছে ছিল, তার সঙ্গে ছবি তোলার। সেই শখও পূরণ হয়নি। হয়তো, অধিনায়ক না থাকলে সেদিন কথা বলতে পারতাম দিনের খেলা শেষে। কিন্তু খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলন ও অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকায় তার কাছে গিয়ে কথা বলার সুযোগ হয়নি। তবে কখনও নিশ্চয়ই আবার দেখা হবে তার সঙ্গে। কথা হবে।

প্রথম কথাটিই বলব, ‘আপনার জন্যই আজ আমি ক্রিকেটার, আপনিই আমার নায়ক।’