স্ত্রী সৌভাগ্যবান ওয়াসিম আকরামের

ঢাকা, রবিবার, ৭ জুন ২০২০ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

স্ত্রী সৌভাগ্যবান ওয়াসিম আকরামের

ক্রীড়া ডেস্ক  ৩:২৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৯, ২০২০

print
স্ত্রী সৌভাগ্যবান ওয়াসিম আকরামের

জীবন আর ভাগ্য দুটিই যেন আপেক্ষিক। সুন্দর জীবনের জন্য ভাগ্যটাও যে অত্যাবশ্যকীয়। কিন্তু এমন ভাগ্য ক’জনারই বা জীবনে আসে! সেলিব্রেটিদের ক্ষেত্রে তো বেশি জট-ঝামেলা লক্ষণীয়। কিন্তু এ দিক থেকে ব্যতিক্রম ক্রিকেট সেলিব্রেটি পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরাম। একবার নয়, সংসার জীবনে দু’দুবার তিনি সৌভাগ্যের দেখা পেয়েছেন। প্রথম জীবনে হুমা, বর্তমানে শানেইরাকে নিয়ে আছেন সুখে শান্তিতে। প্রথম দেখায়, ভালো লাগা থেকে ভালোবাসা, অত:পর বিয়ে। এরপর শুরু শানেইরাকে নিয়ে ওয়াসিমের ‘দ্বিতীয় জীবন’।

প্রথম জীবনে ওয়াসিম হুমা মুফতিকে ভালোবেসেছিলেন। নব্বই দশকের শুরুতে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের মনোবিদ ছিলেন হুমা। মনের চিকিৎসা করতে ও করাতে গিয়ে দুজনের ঘর বাঁধার পথ খুলে যায়।

১৯৯৫ সালে বিয়ের পর দুজন এক সঙ্গে থাকতে পেরেছেন ১৪ বছর। ২০০৯ সালে মারা যান হুমা। এর দুই বছর পর আবারও প্রেমের সুইংয়ে উইকেট দিয়ে বসেন ‘সুলতান অব সুইং’। এবারে ‘বোলার’ শানেইরা টম্পসন। অস্ট্রেলিয়ান এ তরুণী তখন মেলবোর্নে জনসংযোগ পেশায় কাজ করতেন। ২০১৩ সালে দু’জনে সিদ্ধান্ত নেন একে-অপরকে বিয়ে করবেন। তারপর থেকে পাকিস্তানি পেস কিংবদন্তির সঙ্গে করাচিতে ঘর করছেন ৩৭ বছর বয়সী শানেইরা আকরাম। অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যমকে দুজনে বলেছেন নিজেদের প্রথম দেখা, প্রেম এবং সংসারের গল্প। তাদের সেই কথোপকথন তুলে ধরা হলো খোলা কাগজের পাঠকদের জন্য-

ওয়াসিম আকরাম- শানেইরার সঙ্গে প্রথম দেখা ২০১১ সালে। মেলবোর্নে এক ডিনারে আরেক বন্ধুর মাধ্যমে পরিচয় হয়েছিল। সেখানে ক্রিকেট ধারাভাষ্য দিতে গিয়েছিলাম। সে জানত না আমি কে।

দেশে যে আমি তারকা সে কথাও বলিনি। কিন্তু কৌশলটা কাজে লাগেনি। তাকে মুগ্ধ করতেই হতো। ফোন নম্বর নেওয়ার পর খুদেবার্তা, মেইল চালাচালি হয়। এখানে (অস্ট্রেলিয়া) ফিরলেই আমরা দেখা করেছি।

সে আমাকে এ জায়গা চিনিয়েছে। পাকিস্তানের হয়ে খেলার সময় অস্ট্রেলিয়ায় প্রচুর এসেছি। কিন্তু থাকতে হতো দলের সঙ্গে। সেন্ট কিলডা, চ্যাপেল স্ট্রিট কিংবা ব্রাইটনের মতো জায়গায় আর যাওয়া হয়নি। শানেইরার সঙ্গে পরিচয় হওয়ার আগ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে তেমন জানাশোনা ছিল না।

হুমা ২০০৯ সালে চলে যাওয়ার পর ভীষণ ভেঙে পড়ি। তাইমুরের বয়স তখন ১১ বছর, আকবরের ৮। আর ভুলে গেলে চলবে না আমি একজন পাকিস্তানি বাবা। অস্ট্রেলিয়ায় আপনি কাজে ব্যস্ত থাকুন আর না থাকুন ঘরের কাজ করতেই হবে। কিন্তু আমাদের ওদিকে ঘরের সব কাজ মায়েদের। তাই খুব সমস্যায় পড়ে যাই।

২০১৩ সালে আমরা বিয়ে করি। শানেইরা জানত, ওদের মায়ের শূন্যস্থান সে পূরণ করতে পারবে না। সে ওদের বন্ধু ও পরামর্শক হয়ে যায়। পাকিস্তানের জীবনব্যবস্থার সঙ্গে শুরুতে মানিয়ে নেওয়া একটু কঠিন। ওর সমস্যা হয়নি। সহজেই মানিয়ে নেয়। চুল ঢেকে রাখা, উর্দু শেখা ইত্যাদি। আমি অবশ্য পাঞ্জাবি ভাষায় কথা বলি। সে ওটা শিখবে না, কঠিন!

পাকিস্তানে সে এখন বড় তারকা। আমার জন্য নয়। হাসপাতালগুলোর সঙ্গে যেসব দাতব্য কাজ করছে, সামাজিক বিষয়াদি নিয়ে যেভাবে ভাবছে, সেসবের জন্য। আমার সে কারণে গর্ব হয়।

শানেইরা মা হিসেবেও দারুণ। ৫ বছরের আয়লা আমাদের মেয়ে। শানেইরা তাকে স্কুলে আনা নেওয়া করে। নাচ ও জুডোর ক্লাসে নিয়ে যায়। আমার মতো আয়লাকে মাঝে-মধ্যে মনে করিয়ে দিতে হয়, আমিও কিন্তু আছি!