করোনায় খেলোয়াড়দের সহায়তা

ঢাকা, শনিবার, ৩০ মে ২০২০ | ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

করোনায় খেলোয়াড়দের সহায়তা

ক্রিয়া ডেস্ক ৯:০৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৬, ২০২০

print
করোনায় খেলোয়াড়দের সহায়তা

করোনায় আতঙ্কগ্রস্থ গোটা দুনিয়া। বাড়ছে তা ক্রমান্বয়ে। আক্রান্ত শঙ্কায় থাকা দেশগুলোতে নেওয়া হচ্ছে প্রস্তুতি। পাশাপাশি আক্রান্ত দেশগুলোতে ব্যাপক সতর্কতার সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। যা গত কয়েকদিন ধরেই খোলা কাগজে নিয়মিত প্রকাশ হয়ে আসছে। করোনায় গতকাল সেই অর্থে পালন হয়নি বাঙালি জাতির এক ঐতিহাসিক দিবস, স্বাধীনতা দিবস। মানুষ ব্যস্ত করোনা মোকাবেলায়। যেখানে সেলিব্রেটি ক্রিকেটার, ফুটবলাররাও এগিয়ে এসেছেন। দুস্থ মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন অনেকে। গঠন করেছেন অর্থফান্ড। গতকাল করোনা ফান্ডে তাদের দেওয়া অর্থ এবং বিভিন্ন পদক্ষেপের তথ্য তুলে ধরা হল খোলা কাগজের পাঠকদের সামনে...

খেলার স্বাধীনতা পেতে মাশরাফি
দুনিয়া জুড়ে করোনা আতঙ্ক। স্থবির হয়ে গেছে সবকিছু। তা না হয় এতদিন বঙ্গবন্ধু প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে চার রাউন্ড শেষ হয়ে যেত। কিন্তু কিছুই করার নেই। ঘরবন্দি সবাই। এ থেকে মুক্তি পেতে নিজেকে নিরাপদে রাখাই শ্রেয়। তাহলেই যে আবার স্বাভাবিকতা ফিরে পাওয়া যাবে। ঠিক এ কথাটাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অফিসিয়াল পেজে অনেকটা ছন্দে জানালেন মাশরাফি, খেলার স্বাধীনতা যদি আবার ফিরে পেতে চাই, এখন তাহলে উত্তম কিন্তু ঘরে থাকাটাই।’

একই পোস্টে তিনি তাৎপর্যপূর্ণ কথা বলেছেন বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবসের তখনকার প্রেক্ষাপট এবং বর্তমানে উদ্ভূত করোনা পরিস্থিতির ব্যাপারে। তার মতে, ১৯৭১ সালে দেশের টানে সবাই ঘর থেকে বের হওয়ার শপথ করলেও, এখন সবাইকে শপথ করতে হবে ঘরে থাকার ব্যাপারে।

মাশরাফি লিখেছেন, ‘২৬ মার্চ, ১৯৭১ : শপথ ছিল ঘর থেকে বের হওয়ার। ২৬ মার্চ, ২০২০: এবারের শপথ ঘরে থাকার। ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন। সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়তা করুন।’

ছিন্নমুল মানুষের পাশে রুবেল
দুদিন আগে করোনা ভাইরাসকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা ব্যবসায়ীদের এক চোট নিলেন জাতীয় দলের পেসার রুবেল হোসেন। স্বাধীনতা দিবসের রাতে এবার ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাড়ালেন নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী। গভীর রাতে মানুষ যখন নিজেকে নিরাপদে থাকায় ব্যস্ত, তখন রুবেল করোনা তোয়াক্কা না করে ছুটে গেলেন রাস্তার পাশে নুয়ে থাকা ছিন্নমূল মানুষের কাছে। সাহায্য করলেন নিজের সামর্থানুযায়ী, প্যাকেট করা চাল, ডাল আর কতকি!

যা তিনি তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘এখন আতঙ্কিত হওয়ার সময় নয়, এখন সময় নিজেকে সুরক্ষিত রেখে আশপাশের মানুষজনকে সাহায্য করার। আসুন না, এই দুর্যোগে আমরা যে যেভাবে পারি, সেভাবে অসহায় মানুষদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিই।’

সৌরভের প্রতিশ্রুতি
করোনায় সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য ৫০ লক্ষ রুপির চাল অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সভাপতি।

নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য গরিব মানুষদের সরকারি বিদ্যালয়ে রাখা হয়েছে। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল জানিয়েছে, সৌরভ ও ‘লাল বাবা চাল’ কোম্পানি এই দুঃস্থদের জন্য চালের ব্যবস্থা করবে।

এর আগে তিনি ভারে কোভিড-১৯ রোগীদের জন্য কলকাতার ইডেন গার্ডেনসকে অস্থায়ীভাবে চিকিৎসা সেবার কাজে ব্যবহারের জন্য পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছেন।

টুইটারে আফ্রিদিকে হারভজন
‘শহীদ আফ্রিদি ফাউন্ডেশন’ নামের সেই অলাভজনক সংস্থা পাকিস্তানে করোনা মোকাবেলায় বড় ভূমিকা পালন করেছে। আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি আফ্রিদি নিজের ফাউন্ডেশন থেকে দুই হাজার পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী দিয়েছেন। পাকিস্তানের এ ক্রিকেটারের মহানুভবতা প্রশংসিত হচ্ছে সর্বত্র।

আফ্রিদি কয়েকটা ছবিও পোস্ট করেছেন তাঁর উদ্যোগের। সবাইকে এগিয়ে আসার অনুরোধও করেছেন। আফ্রিদির মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার হারভজন সিং। টুইটারে আফ্রিদিকে হারভাজন লিখেছেন, ‘মানবতার দারুণ নিদর্শন। ভগবান আমাদের সবাইকে আশীর্বাদ করুন। আফ্রিদি, তোমাকে আরও শক্তি দিন। পুরো বিশ্বের জন্য প্রার্থনা থাকল।’

প্রতিক্রিয়া আফ্রিদি লেখেন, ‘মানবতা সবকিছুর ঊর্ধ্বে। তোমার এই কথাগুলোর জন্য ধন্যবাদ।

পুরো বিশ্বের এখন একত্রিত হওয়া দরকার। করোনার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী লড়াইয়ে গরিবদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।’

ফেদেরার ১ লাখ সুইস ফ্রাঙ্ক
করোনায় আর্থিক সংকটে পড়া সুইজারল্যান্ডবাসীর জন্য ১ লাখ সুইস ফ্রাঙ্ক অনুদান দিচ্ছেন ২০বারের গ্রান্ডসøাম জয়ী রজার ফেদেরার। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৯০ লাখ টাকা। এই অর্থদানের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমার ও মিরকার (তার স্ত্রী) পক্ষ থেকে দেওয়া এই সামান্য অনুদান কেবল শুরু বলতে পারেন। আমরা আশা করি অন্যরাও সুইজারল্যান্ডের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সাহায্যে এগিয়ে আসবেন।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ফেদেরার আরও জানিয়েছেন, ‘আমাদের সবাইকে এক হয়েই এই সংকট উতরাতে হবে। সবাই সুস্থ থাকুন।’

নেইমারের কমিক বই
করোনা ভাইরাসে ঘরে বসে দীর্ঘ সময়ের একঘেয়েমি কাটাতে নেইমারের মালিকানাধীন কমিক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফ্যান দ্য ফ্লেম কনসেপ্টস এলএলসি দুইশ’ এর বেশি কমিক বই ছাড়ছে। বইগুলো সংগ্রহ করা যাবে বিনা পয়সায়। কমিক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে বলা হয়, ‘কোভিড-১৯ ভাইরাস মহামারি হয়ে ওঠায় বিশ্বব্যাপী প্রায় সবকিছু বন্ধ হয়ে গেছে। ফ্যান দ্য ফ্লেম কনসেপ্টস একটি স্বাধীন কমিক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, আজ ঘোষণা করছে নেইমার জুনিয়র কমিকস গ্রন্থাগার থেকে দুইশর বেশি আলাদা পর্ব বিনা পয়সায় ছাড়া হবে। ‘কমিক বইয়ের শিল্পীরা বিনা পয়সায় কমিক চরিত্র ও প্যানেল আঁকানো ইন্টারনেটে সরাসরি স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে দেখাবেন।’

অনুদানে পাক ক্রিকেটারও
আর্থিক অনুদানে করোনা ভাইরাসে ভুক্তভোগীদের পাশে দাড়িয়েছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। এবার পাকিস্তান ক্রিকেটাররাও নিজ দেশের করোনা ফান্ডে আর্থিক অনুদানে সহায়তা করেছেন। গতকাল করোনা ফান্ডে তারা জমা দিয়েছেন ৫০ লাখ পাকিস্তানি রুপি। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৭ লাখ টাকা। জাতীয় দলের আশপাশে থাকা ক্রিকেটাররা মিলে দিচ্ছেন এ অনুদান। শুধু ক্রিকেটাররাই নয়, ক্রিকেট বোর্ডের কর্তাব্যক্তিরাও সাহায্য করবেন করোনা ফান্ডে। বোর্ডের সকল মহা-ব্যবস্থাপকরা নিজেদের দুইদিনের এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা একদিনের বেতনের সমপরিমাণ টাকা দান করবেন।

আনুষ্ঠানিক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ খবর নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান এহসান মানি। যেখানে তিনি জানিয়েছেন, সবসময়ই যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে এগিয়ে আসার চেষ্টা করে পিসিবি। যা বজায় থাকবে আগামীতেও। এহসান মানি লিখেছেন, ‘পিসিবি সবসময় কঠিন সময়ের পাকিস্তানের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। এখন তেমনই একটা সময়। যার পুরোটাই আমাদের স্থানীয় এবং ফেডারেল সরকারকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে।