ইউরোপে কোচদেরও চড়া দাম

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০ | ৩০ আষাঢ় ১৪২৭

ইউরোপে কোচদেরও চড়া দাম

ক্রীড়া ডেস্ক ১২:৩৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৩, ২০২০

print
ইউরোপে কোচদেরও চড়া দাম

ফুটবলে সাধারণত ভালো ফুটবলারদের কদর আকাশছোঁয়া। বড় ক্লাবগুলো ভালো খেলোয়াড়দের দলে ভিড়াতে রীতিমতো প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে। নেইমারকে কিনতে ২২২ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে পিএসজি। কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিতেও ১৮০ মিলিয়ন ইউরো খসেছে তাদের। মেসির পারিশ্রমিক অবশ্য এ দুজনের চেয়ে কম। তাও প্রায় ১৩২ মিলিয়ন ইউরো।

ফুটবলার দলবদলে আওয়জাটা জোরালো হলেও কোচদের ক্ষেত্রে ততটা সাড়া পড়তে দেখা যায়। কিন্তু দু-একজন কোচ আছেন যাদের পেতে ঠিক ফুটবলারদের মতোই প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন ক্লাবকর্তারা। এ রকম আকাশচুম্বী কোচদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন ডিয়েগো সিমিওনে।

অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের এই কোচ ঈর্ষণীয় পর্যায়ের বেতন পান। ফরাসি পত্রিকা লেকিপের দাবি, বছরে ৪ কোটি ৩৬ লাখ ইউরো বেতন পান সিমিওনে। দুইয়ে থাকা পেপ গার্দিওলা যেখানে পাচ্ছেন মাত্র ২ কোটি ৩৩ লাখ!

বেতনে তবু সিমিওনে, গার্দিওলা, মরিনহো, ক্লপ আর জিদানরা ঠেলেঠুলে জায়গা করে নিয়েছেন। কিন্তু দল-বদলের ক্ষেত্রে কোচদের এতটা দাম দিতে রাজি হয় না বেশির ভাগ ক্লাবই। ব্যাপারটা এমন যেন কোচ আসবে নিজে থেকেই, তাঁকে আবার আনতে পয়সা খোয়ানো কেন? তবে ফুটবলে এমনও অনেক কোচ ছিলেন, যাঁদের পারফরম্যান্স দেখে মুগ্ধ হয়ে দলে টানতে চেয়েছে অনেক ক্লাব। যেমন ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডকে ৩০ লাভ ইউরো দিয়ে কোচ হিসেবে এনেছে চেলসি। যদিও সাফলে খুশি হওয়ার মতো কিছু ঘটাতে পারেন নি তিনি।

এর আগে ২০০৩-০৪ মৌসুমে হোসে মরিনহোকে পেতে এফসি পোর্তোকে ৬০ লাখ ইউরো দিয়েছিল চেলসি। কোচের পেছনে ক্লাবের ইতিহাসের সেরা বিনিয়োগ ছিল সেটি। চেলসিকে সবচেয়ে সাফল্যময় এক অধ্যায় এনে দিয়েছেন মরিনহো, দলটিকে একটি পরাশক্তি বানিয়েছেন। এ কারণেই হয়তো আন্দ্রে ভিলাস-বোয়াসকেও টেনে আনতে অতটা আগ্রহ দেখিয়েছিল চেলসি। পোর্তোতে মরিনহোর মতোই সাফল্য পাচ্ছিলেন এই কোচ। ফলে ২০১১-১২ মৌসুমে তাঁর জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ ইউরো (১৩৬ কোটি টাকা) দিয়েছিল চেলসি। ফল অবশ্য তিনি এনে দিতে পারেননি। মাত্র এক মৌসুম টিকতে পেরেছেন, ট্রফি ক্যাবিনেটে কিছু যোগ করতে পারেননি।

চেলসির মতোই কোচের জন্য অর্থ খসানোর জন্য বিখ্যাত রিয়াল মাদ্রিদ। মরিনহোকে পাওয়ার জন্য ২০১০ সালে ইন্টার মিলানকে ৮০ লাখ ইউরো দিয়েছিল বার্নাব্যুর ক্লাবটি। স্বপ্নের বার্সেলোনা দলের আধিপত্যের মাঝেও রিয়ালকে একটি লিগ ও একটি কোপা দেল রে এনে দিয়েছেন মরিনহো। কিন্তু যে জন্য আনা তাঁকে, সেই চ্যাম্পিয়নস লিগ পায়নি রিয়াল। সে কারণে মরিনহোকে বাদ দিয়ে আবার পিএসজি থেকে টেনে আনা হয় কার্লো আনচেলত্তিকে। ৩৮ লাখ ইউরোর বিনিয়োগ সফল হয়েছিল। ২০১৪ সালেই রিয়ালকে স্বপ্নের দশম চ্যাম্পিয়নস লিগ এনে দিয়েছেন আনচেলত্তি।

অবশ্য একই কাজের জন্য ম্যানুয়েল পেল্লেগ্রিনিকে ভিয়ারিয়াল থেকে ৪০ লাখ ইউরোতে এনেছিল রিয়াল। রোনালদো-কাকারা যোগ দেওয়ার পরও কোনো শিরোপা এনে দিতে না পারার ব্যর্থতা তাঁকে রিয়াল থেকে বের হওয়ার পথ করে দিয়েছে। ৬২ লাখ ইউরো খরচ করে ব্ল্যাকবার্ন থেকে মার্ক হিউজকে এনেও ঠিক এমনই ব্যর্থ অধ্যায় পার করেছে ম্যানচেস্টার সিটি।