ইনিংস ব্যবধানে জিতল বাংলাদেশ

ঢাকা, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২০ | ২১ চৈত্র ১৪২৬

ইনিংস ব্যবধানে জিতল বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক ২:২১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০

print
ইনিংস ব্যবধানে জিতল বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়েকে রানের পাহাড়ে চেপে রেখেছিলেন বাংলাদেশ দলের মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, তামিম ইকবালরা। এরপর বোলিংয়ে ঘূর্ণি জাদু দেখিয়ে বাকি কাজটা সহজ করেছেন নাঈম হাসান, তাইজুল ইসলামরা। এতেই দিগ্ভ্রান্ত সফরকারী ব্যাটসম্যানরা। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮৯ রানে গুটিয়ে গেলেন জিম্বাবুইয়ানরা। ফলে এক ইনিংস ও ১০৬ রানে জিতল বাংলাদেশ।

চতুর্থ দিনে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি জিম্বাবুয়ের। ভূমিকাতেই ফেরেন কেভিন কাসুজা। মোহাম্মদ মিঠুনের তালুবন্দি করে তাকে ফেরান তাইজুল ইসলাম। তাতে বিপদে পড়েন সফরকারীরা। নিজেরা ইনিংস পরাজয়ের হ্যাটট্রিকের পর এবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জিতেছে বাংলাদেশ।

টেস্ট ক্রিকেটে এটি বাংলাদেশের ১৪তম জয়। আর ইনিংস ব্যবধানে জয়ের কথা হিসেবে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় নজির। এর আগে শেরে বাংলায় খেলা সবশেষ টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইনিংস ও ১৮৪ রানের বড় ব্যবধানে জিতেছিল সাকিব আল হাসানের দল।

সেই ম্যাচের পর খেলা ছয় ম্যাচের পাঁচটিতেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। প্রায় ১৪ মাস পর শেরে বাংলায় ফিরেই জয়ের দেখা গেলো মুমিনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। সবমিলিয়ে এখনও পর্যন্ত খেলা ১১৯ টেস্টে এটিসহ ১৪টিতে জিতেছে বাংলাদেশ, ড্র হয়েছে ১৬টি ম্যাচ আর পরাজিত ম্যাচের সংখ্যা ৮৯টি।

মিরপুরে বাংলাদেশের এক ইনিংসে ৬ উইকেটের বিনিময়ে করা ৫৬০ রান, দুই ইনিংসে ২০ উইকেটের বিনিময়েও করতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। মুমিনুল ও মুশফিকের জুটি আগের দিনই যথেষ্ট ভোগায় জিম্বাবুয়েকে। নতুন দিনেও এই দুজনকে থামানোর পথ পায়নি তারা। দুজনের ব্যাটে রান আসতে থাকে বানের জলের মতো। প্রথম সেশনেই ২৮ ওভারে আসে ১১১ রান!

মুমিনুল তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন ১৫৬ বলে। নয়টি টেস্ট সেঞ্চুরিতে ছুঁয়েছেন বাংলাদেশের হয়ে তামিমের সেঞ্চুরির রেকর্ড।

মুশফিক লাঞ্চে গিয়েছিলেন ৯৯ রানে। লাঞ্চের পর দ্বিতীয় ওভারেই পা রাখেন শতরানে। ১৮০ বলে ১৮ চারে আসে তার সেঞ্চুরি।

ব্যক্তিগত মাইলফলকের পাশাপাশি ধরা দেয় জুটির কীর্তিও। তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরি জুটিতে দুজনে গড়েন বাংলাদেশের নতুন রেকর্ড।

দুজনের ২২২ রানের জুটি ভাঙে মুমিনুলের বিদায়ে। বাঁহাতি স্পিনার আইনস্তে এনডিলোভুর ফিরতি ক্যাচে বাংলাদেশ অধিনায়ক ফেরেন ২৩৪ বলে ১৩২ রান করে।

মোহাম্মদ মিঠুন এরপর পারেননি নিজের ছাপ রাখার সুযোগ কাজে লাগাতে। তবে লিটন দাস ভুল করেননি। ঠাণ্ডা মাথার ব্যাটিংয়ে তিনি সঙ্গ দেন মুশফিককে। গড়ে ওঠে আরেকটি শতরানের জুটি।

ফিফটির পরপর লিটন আউট হন রেজিস চাকাভার ক্যাচে। জিম্বাবুয়ের কিপারের সেটি ছিল ইনিংসে পঞ্চম ডিসমিসাল।

তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে এরপর ডাবল সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যান মুশফিক। ৩১৫ বল খেলে স্পর্শ করেন কাক্সিক্ষত মাইলফলক।

তার ব্যাট তো কথা বলেছেই, ডাবল সেঞ্চুরির পর উদযাপনেও যেন বলতে চাইলেন অনেক কথা!

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আগের টেস্টেই বাংলাদেশের রেকর্ড ২১৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন মুশফিক। এবার নিজেকে ছাড়ানোর সুযোগ পাননি তিনি। ইনিংস ঘোষণা করে দেয় দল।

ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ২৬৫ রানে অলআউট হয়েছিল জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের পক্ষে ৪টি করে উইকেট নিয়েছিলেন নাঈম হাসান ও আবু জায়েদ রাহী। বাকি ২ উইকেট যায় তাইজুল ইসলামের দখলে।

ফলে স্বাগতিকদের পুনরায় ব্যাটিংয়ে নামানোর জন্য জিম্বাবুয়ের সামনে দাঁড়ায় ২৯৫ রানের সমীকরণ। যা পূরণ করতে পারেননি ব্রেন্ডন টেলর, সিকান্দার রাজারা। আবারও নাঈম হাসানের স্পিন বিষে নীল হয়েছে জিম্বাবুয়ে। যথাযথ সঙ্গ দিয়েছেন বাঁহাতি তাইজুলও।

যার সুবাদে দ্বিতীয় ইনিংসে জিম্বাবুয়ে অলআউট হয়েছে ১৮৯ রানে। বাংলাদেশ পেয়েছে ইনিংস ও ১০৬ ব্যবধানে জয়।

প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নেয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে নাঈমের শিকার ৫ জিম্বাবুইয়ান ব্যাটসম্যান। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার দ্বিতীয় ফাইফার। এছাড়া দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেট নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংস: ২৬৫/১০ (অরভিন ১০৭, মাসভাউরে ৬৪; আবু জায়েদ ৪, নাঈম ৪)।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৫৬০/৬ ডিক্লে. (মুশফিক ২০৩*, মুমিনুল ১৩২, শান্ত ৭১, লিটন ৫৩; এনদিলোভু ২)।