জয়ের সুবাস পাচ্ছেন মুমিনুলরা

ঢাকা, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০ | ২৭ চৈত্র ১৪২৬

জয়ের সুবাস পাচ্ছেন মুমিনুলরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০

print
জয়ের সুবাস পাচ্ছেন মুমিনুলরা

ঢাকা টেস্ট শেষ হতে এখনো দুদিন বাকি। তার আগেই ম্যাচজয়ের হিসাব! বেরসিক বৃষ্টি না হলে যে সে দিকেই এগুচ্ছে বাংলাদেশ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মিরপুরের উইকেটে গত তিন দিনের যে ড্রামা, তাতে টেস্টের নাটাইটা স্বাগতিকদের হাতেই। একই দিনে বাংলাদেশের রানের দুর্গ, আবার দিন শেষে জিম্বাবুয়ের দ্রুত ২ উইকেটের পতন এগিয়ে রাখছে মুমিনুলদের। ব্যাটে-বলের এমন নৈপুণ্য দেখা মেলেনি অনেকদিন।

অধিনায়ক মুমিনুলের সেঞ্চুরির পর মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমের ব্যাটেও আসে সেঞ্চুরি। দুজনই ছুটছিলেন ডাবল সেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু মুমিনুলের হয়নি, হয়েছে মুশফিকুর রহিমের। তাদের দৃঢ়তায় বাংলাদেশ ৫৬০ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। দেশের মাটিতে যা কিনা সর্বোচ্চ সংগ্রহ। ২৯৫ রানের লিড নিয়ে শেষ বিকালে পাঠায় জিম্বাবুয়েকে। প্রথম ইনিংসের মতো আবারও বল হাতে বিষ হয়ে ওঠেন স্পিনার নাইম হাসান। শূন্য রানে থাকতেই দুই উইকেট তুলে নিয়ে চাপে ফেলে দেন জিম্বাবুয়েকে। দিন শেষে তারা ২ উইকেটে সংগ্রহ করে নয় রান। আজ চতুর্থ দিনের সকালেই হয়তো অনেক বড় নাটকের সূত্রপাত হতে পারে, আপাতত তেমনি আভাস মিলছে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ে। সকালের সেশনেই পরিষ্কার হয়ে যাবে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং দৌরাত্ম্য।

তার আগে মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হকের ব্যাট থেকে এলো বড় ইনিংস। রেকর্ডময় ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরিতে মুশফিক নিজেকে তুলে নিলেন নতুন উচ্চতায়। দল গড়ল রেকর্ড রানের সৌধ। শেষ বিকালে ব্যাটিংয়ে নামা জিম্বাবুয়েকে নাঈমের জোড়া ধাক্কা। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ তৈরি করে ফেলেছে জয়ের পথ। মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনে জিম্বাবুয়েকে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে দিয়েছে বাংলাদেশ।

এর আগে সর্বোচ্চ ৫৫৬ রান ছিল ২০১২ সালে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। আর গতকাল বাংলাদেশ করল ৫৬০ রান। মুশফিকের ব্যাট থেকে এসেছে অপরাজিত ২০৩। বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে একাধিক ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তি তার ছিল আগেই। রেকর্ডটি এবার সমৃদ্ধ করলেন আরও। তামিমকে ছাড়িয়ে দেশের হয়ে টেস্টে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ডটিও করে নিলেন নিজের। মুমিনুল হকের ব্যাট থেকে এসেছে ১৩২ রান।

মুমিনুল ও মুশফিকের জুটি আগের দিনই যথেষ্ট ভোগায় জিম্বাবুয়েকে। নতুন দিনেও এই দুজনকে থামানোর পথ পায়নি তারা। দুজনের ব্যাটে রান আসতে থাকে বানের জলের মতো। প্রথম সেশনেই ২৮ ওভারে আসে ১১১ রান!

মুমিনুল তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন ১৫৬ বলে। নয়টি টেস্ট সেঞ্চুরিতে ছুঁয়েছেন বাংলাদেশের হয়ে তামিমের সেঞ্চুরির রেকর্ড।

মুশফিক লাঞ্চে গিয়েছিলেন ৯৯ রানে। লাঞ্চের পর দ্বিতীয় ওভারেই পা রাখেন শতরানে। ১৮০ বলে ১৮ চারে আসে তার সেঞ্চুরি।

ব্যক্তিগত মাইলফলকের পাশাপাশি ধরা দেয় জুটির কীর্তিও। তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরি জুটিতে দুজনে গড়েন বাংলাদেশের নতুন রেকর্ড।

দুজনের ২২২ রানের জুটি ভাঙে মুমিনুলের বিদায়ে। বাঁহাতি স্পিনার আইনস্তে এনডিলোভুর ফিরতি ক্যাচে বাংলাদেশ অধিনায়ক ফেরেন ২৩৪ বলে ১৩২ রান করে।

মোহাম্মদ মিঠুন এরপর পারেননি নিজের ছাপ রাখার সুযোগ কাজে লাগাতে। তবে লিটন দাস ভুল করেননি। ঠাণ্ডা মাথার ব্যাটিংয়ে তিনি সঙ্গ দেন মুশফিককে। গড়ে ওঠে আরেকটি শতরানের জুটি।

ফিফটির পরপর লিটন আউট হন রেজিস চাকাভার ক্যাচে। জিম্বাবুয়ের কিপারের সেটি ছিল ইনিংসে পঞ্চম ডিসমিসাল।

তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে এরপর ডাবল সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যান মুশফিক। ৩১৫ বল খেলে স্পর্শ করেন কাক্সিক্ষত মাইলফলক।

তার ব্যাট তো কথা বলেছেই, ডাবল সেঞ্চুরির পর উদযাপনেও যেন বলতে চাইলেন অনেক কথা!

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আগের টেস্টেই বাংলাদেশের রেকর্ড ২১৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন মুশফিক। এবার নিজেকে ছাড়ানোর সুযোগ পাননি তিনি। ইনিংস ঘোষণা করে দেয় দল।

যে লক্ষ্য নিয়ে বোলিংয়ে নামে বাংলাদেশ, সেটি পূরণ হয় প্রথম ওভারেই। নাঈমের দা প্রণ এক ডেলিভারিতে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই বোল্ড প্রিন্স মাসভাউরে। প্রথম ইনিংসে এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান বেশ ভুগিয়েছিলেন বাংলাদেশকে।

নাইটওয়াচম্যান ডোনাল্ড ট্রিপানো বিদায় নেন নাঈমের পরের বলেই। অভিজ্ঞ ব্রেন্ডন টেইলর সামলান হ্যাটট্রিক বল। কেভিন কাসুজার সঙ্গে মিলে পার করে দেন দিন।

মেঘলা আকাশের নিচে আলোকস্বল্পতায় শের-ই-বাংলার ফ্লাড লাইট জ্বলে উঠেছিল বেশ আগেই। এই আলোতে খেলা চালানোয় ড্রেসিং রুমের সামনে জিম্বাবুয়ে কোচ লালচাঁদ রাজপুত কথা বললেন চতুর্থ আম্পায়ারের সঙ্গে। লাভ তাতে কিছু হয়নি।

জিম্বাবুয়ের সামনে এখন ম্যাচ বাঁচানোর চ্যালেঞ্জ। বৃষ্টি না হলে কাজটি তাদের জন্য হবে ভীষণ দুঃসাধ্য। দুঃসময়ের বলয়ে থাকা বাংলাদেশের সামনে খানিকটা স্বস্তির জয়ের হাতছানি।