চালাকিতে ফাঁসলেন রাজ্জাকরা!

ঢাকা, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০ | ১৫ চৈত্র ১৪২৬

চালাকিতে ফাঁসলেন রাজ্জাকরা!

ক্রীড়া প্রতিবেদক ১:১৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২০

print
চালাকিতে ফাঁসলেন রাজ্জাকরা!

এ যেন নিজেদের পায়ে নিজেরাই কুড়াল মারা। অন্যের পয়েন্ট আটকাতে গিয়ে শেষ নিজেরাই কিনা বিপাকে! এমন ঘটনার জন্ম দিয়েছে গতকাল জাতীয় ক্রিকেট লিগের দুই প্রতিদ্বন্ধী দল দক্ষিণাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের মধ্যকার খেলায়।  বিসিএলের ফাইনালে যেতে প্রতিপক্ষ মধ্যাঞ্চলের চেয়ে ১২১ রান পিছিয়ে থেকে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছে আবদুর রাজ্জাকের দল দক্ষিণাঞ্চল। এরপরও শেষ রক্ষা হবে কি না তা নিয়ে সংশয় আছে।

গতকাল শুরু হওয়া ম্যাচটি দুই দলের জন্যই ফাইনালে ওঠার লড়াই। এই লড়াইয়ে মধ্যাঞ্চলকে পেছনে ফেলতে .০৫ বোনাস পয়েন্ট দিতে চায়নি দক্ষিণাঞ্চল। এই কারণে প্রতিপক্ষের চেয়ে ১২১ রান পিছিয়ে থেকে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছে আবদুর রাজ্জাকের দল। প্রথম ইনিংসে মধ্যাঞ্চল অলআউট হয়েছে ২৩৫ রানে। ফলে ব্যাটিং থেকে কোনো বোনাস পয়েন্ট পায়নি তারা। বোলিং থেকে যেন তারা বোনাস পয়েন্ট না পায় সেটা নিশ্চিত করতে দক্ষিণাঞ্চল ৪টি উইকেট পড়ে যাওয়ার পরই ইনিংস ঘোষণা করেছে। সেই সময় তাদের রান ছিল ১১৪। নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল যদি ১০০ ওভারের মধ্যে প্রতিপক্ষের ৫ উইকেট নিতে পারে তাহলে .৫০ বোনাস পয়েন্ট পাবে।

এই রাউন্ড শুরুর আগে ১৬.৩৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ছিল দক্ষিণাঞ্চল। এই ম্যাচ থেকে এখন পর্যন্ত দেড় বোনাস পয়েন্ট নিয়ে দলটির মোট পয়েন্ট হয়েছে ১৭.৮৯। এই রাউন্ডের আগে মধ্যাঞ্চলের পয়েন্ট ছিল ৯.৫। ম্যাচটি জিতলে তাদের পয়েন্ট দাঁড়াবে ১৭.৫। এই হিসাব করেই দক্ষিণাঞ্চল ইনিংস ঘোষণা করেছে। দলটির ম্যানেজার বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার নাফিস ইকবাল বলেছেন, নিয়মের মধ্যে থেকেই তারা ইনিংস ঘোষণা করেছেন। এমন ঘটনা অবশ্য বিসিএলে নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে প্রতিপক্ষকে বোনাস পয়েন্ট বঞ্চিত করতে এভাবে ইনিংস ঘোষণা করেছে দলগুলো।

কিন্তু এভাবে ক্রিকেটীয় চেতনার বাইরে গিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণাঞ্চলের শেষ রক্ষা হবে তো? টুর্নামেন্টের বাইলজে আরেকটি ধারাও আছে। কোনো দল টানা দুটি ম্যাচ জিতলে ১ বোনাস পয়েন্ট পাবে। এই ম্যাচ যদি মধ্যাঞ্চল জেতে তাহলে সব মিলিয়ে তাদের পয়েন্ট হবে ১৮.৫০। আরেক ম্যাচে পূর্বাঞ্চল জিতলে তাদের পয়েন্টও দক্ষিণাঞ্চলের চেয়ে বেশি হয়ে যাবে। তখন ফাইনাল খেলবে মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চল।

এই প্রতিবেদন লেখার সময় দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ২ উইকেটে ৯৯ রান তুলেছে মধ্যাঞ্চল। ২২০ রানে এগিয়ে তারা। হাতে আরও প্রায় সোয়া দুই দিন সময় আছে। ম্যাচের পাল্লা তাদের দিকেই ঝুঁকে আছে। তাহলে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে কি নিজেরাই ফেঁসে গেলেন রাজ্জাকরা!

দক্ষিণাঞ্চল যখন ইনিংস ঘোষণা করে তখনও দিনের খেলা বাকি ছিল ৭১ ওভার। এরপর আবার পুরোপুরি দুই দিন তো হাতে ছিলই। যার ফলে ১২১ রানের লিড থাকা মধ্যাঞ্চলের সামনে সুযোগ আসে দক্ষিণাঞ্চলকে বড় লক্ষ্যের নিচে চাপা দেওয়ার। সে সুযোগটা বেশ ভালোভাবেই লুফে নিয়েছেন জাতীয় দলের টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত।

এই বাঁহাতি তরুণের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় দিন শেষে মধ্যাঞ্চলের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২০৯ রান। তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ৩৩০ রান। প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে সপ্তম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ১২২ রানে অপরাজিত রয়েছেন শান্ত। প্রায় সোয়া চার ঘণ্টার ইনিংসে ১৮৯ বল খেলে ১৫টি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন তিনি।

শান্ত সেঞ্চুরি করলেও ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন সাইফ হাসান। প্রথম ইনিংসে পাঁচ বলে ১ রান করার পর, দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি আউট হয়েছেন আট বলে ১ রান করে। ম্যাচে ‘চশমা’ পেয়েছেন মেহেদি হাসান মিরাজ। দুই ইনিংসেই তিনি আউট হয়েছেন শূন্য রানে। মজার বিষয় হলো, দুই ইনিংসেই নাসুম আহমেদের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া রকিবুল হাসান ৩৯, শুভাগত হোম ১৮, আবদুল মাজিদ ১৪ এবং প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান মার্শাল আইয়ুব আউট হয়েছেন ১১ রান করে। রোববার শান্তর সঙ্গে ব্যাট করতে নামবেন উইকেটরক্ষক জাবিদ হোসেন। এখনো রানের খাতা খোলা হয়নি তার।