উৎসব-উৎকণ্ঠার সিরিজ শুরু আজ

ঢাকা, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০ | ২৭ আষাঢ় ১৪২৭

উৎসব-উৎকণ্ঠার সিরিজ শুরু আজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০২০

print
উৎসব-উৎকণ্ঠার সিরিজ শুরু আজ

অনেক জল্পনা-কল্পনার অবসান হয়েছে। জল অনেক দূর গড়ানোর পর বাংলাদেশ গেল পাকিস্তান সফরে। পরশু টাইগাররা পা রেখেছে লাহোর বিমানবন্দরে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে বিমানবন্দর থেকে টিম হোটেলে। সেখান থেকে ওইদিন সকালেই কুড়ি ওভারের সিরিজ মিশনে নেমে পড়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ অ্যান্ড কোং।

আজ শুরু হচ্ছে বহুল আলোচিত বাংলাদেশ-পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি সিরিজ। টাইগাররা শুধু এই সিরিজটাই পাকিস্তানের মাটিতে খেলতে চেয়েছিল। টেস্ট সিরিজ চেয়েছিল নিরপেক্ষ ভেন্যুতে; হয়তো মরুর বুকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। কিন্তু পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কাছে কূটনৈতিক লড়াইয়ে হেরে গেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

দুবাইতে আইসিসি সভাপতি আইসিসি সভাপতি শশাঙ্কা মনোহর দুই দেশের বিবাদটা মিটিয়ে দিয়েছে। তাতে খালি চোখে আলোচনার টেবিলে হেরেছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। দলকে সাহস জোগাতে আজ লাহোর স্টেডিয়ামে থাকার কথা তারও। বোর্ডের কয়েকজন পরিচালকও দলের সঙ্গে পাকিস্তানে গিয়েছেন। তাদের উপস্থিতি মাহমুদউল্লাদের অনুপ্রাণিত করতে পারবে তো?

কারণ শঙ্কা-আর ভয়টা যে পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পাকিস্তানের সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা যেমন বাংলাদেশ দলকে নির্ভার করছে তেমনি কিছুটা আতঙ্কেও রাখছে। টাইগার দলপতি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ অবশ্য এসব কিছু মাথা থেকে ঝেরে ফেলেছেন। তার ভাবনায় এখন শুধুই আজ থেকে শুরু হওয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজ।

বাংলাদেশ অধিনায়ক পেশাদার। সংবাদ সম্মেলনে তার এমন ভাবনার প্রতিফলনটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন- কুড়ি ওভারের সিরিজ ছাপিয়ে পাদ প্রদীপে থাকল অজানা এক আতঙ্ক। পরশু রাতে লাহোর দল পৌঁছানোর পরই খেলোয়াড়দের চোখে-মুখে দেখা গেল আতঙ্কের ছাপ।

অধিনায়ক হিসেবে মাহমুদউল্লাহ পুরো দলকে নির্ভার করার প্রয়াস চালাচ্ছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় সেটাই এখন শ্রেয়। কারণ এমনিতেই মাঠের খেলায় পাকিস্তানের চেয়ে যোজন যোজন পিছিয়ে। খেলা হবে প্রতিপক্ষের ডেরায়। র‌্যাঙ্কিং, ইতিহাস, শক্তি, সামর্থ্য- তথা সার্বিক দিকেই এগিয়ে পাকিস্তান। তাই সিরিজ থেকে চোখ সরানোর বিকল্প নেই।

বাংলাদেশ দল আল্লামা ইকবাল বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই যেন ক্রিকেট উৎসব লেগে গেছে লাহোরসহ গোটা পাকিস্তানে। এই সিরিজটা স্থানীয় দর্শকদের জন্য উৎসবের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। উৎসব চলবে কয়েক দফা। প্রথম দফায় টি-টোয়েন্টি সিরিজের তিনটি ম্যাচ খেলে আসবে বাংলাদেশ দল। এরপর আরও দুবার পাকিস্তানে গিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ও একমাত্র ওয়ানডে ম্যাচটি খেলে আসবে টাইগাররা।

‘জীবন যেখানে মুখ্য ক্রিকেট সেখানে গৌণ একটা বিষয়।’ মুশফিকুর রহিমের পরিবারের কাছে পাকিস্তানের মাটিতে ক্রিকেটে আবহটা এমনই। তাই শঙ্কিত পরিবারকে শান্ত রাখতে পাকিস্তান সফর থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন মুশফিক। নিষেধাজ্ঞার কারণে সাকিব আল হাসান আছেন ক্রিকেট থেকে দূরে। এই দুজনের অনুপস্থিতি বাংলাদেশ দলকে কতটা প্রভাবিত করে সেটা বলে দেবে সময়। অগত্যা দলের তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর ভরসা রাখছেন টাইগার কাপ্তান মাহমুদউল্লাহ। বঙ্গবন্ধু বিপিএলে পারফর্ম করাদের ওপরই আস্থা রাখছেন তিনি।

পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম অবশ্য অধিনায়ক বাবর আজম। ব্যাট হাতে দারুণ ছন্দে আছেন তিনি। এই সিরিজেও তার ব্যাটের দিকে তাকিয়ে থাকবেন পাকিস্তানিরা। গাদ্দাফী স্টেডিয়ামে টস করার আগে কিছুটা হলেও আবেগ ছুঁয়ে যাবে স্বাগতিক অধিনায়ক বাবরকে। কারণ লাহোরের এই মাঠেই একটা সময় বল-বয় হিসেবে তার উপস্থিতি ছিল। আজ এখানেই দেশকে নেতৃত্ব দেবেন ‘লোকাল বয়’। পাকিস্তান অধিনায়কের জন্য এই সিরিজটা তাই বিশেষকিছু।

বাবর ফর্মে থাকলেও কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে বাজে অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। এই সংস্করণ থেকে হারের বৃত্ত যেন ভাঙতেই পারছেন না বাবররা। সেদিক থেকে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। কিন্তু নির্ভার থাকার সুযোগ নেই। যে কোনো সময় গা ঝাড়া উঠতে পারে পাকিস্তান। তাদেরও আশা দেখাচ্ছেন তরুণরা। বিশেষ করে হ্যারিস রউফ।

সম্প্রতি বিগ ব্যাশ লিগে নিজের জাত চিনিয়েছেন রউফ। নিয়মিতই ১৪৫ কিলোমিটার/ঘণ্টা গতিতে বোলিং করেছেন। মাত্র ৭ ম্যাচে শিকার করেছেন ১৬ উইকেট, যার মধ্যে আবার একটা হ্যাটট্রিকও ছিল। তার এই আগুন ঝরানো ফর্মকে অবমূল্যায়ন করেননি পাকিস্তানের প্রধান কোচ ও নির্বাচক মিসবাহ উল হক। টাইগারদের বিপক্ষে গতির ঝড় তুলতে ডেকে পাঠিয়েছেন দাবানলে পুড়তে থাকা দেশ অস্ট্রেলিয়া থেকে। সব ঠিক থাকলে আজই অভিষেক হতে পারে ২৬ বছর বয়সী পেসারের।

ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনেও যেন ঝড় তুললেন রউফ। প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পাওয়া পেস অস্ত্রের ভাষ্য, ‘আমার মনে হয় না ১৪০ কিলোমিটার/ঘণ্টা গতিতে বল করতে পারা একজন বোলার বেশি দিন উপেক্ষিত থাকতে পারে। আমি যে প্রশিক্ষণ নিয়েছি, তাতে গতি বজায় রাখতে পারব। বিগ ব্যাশে আমি ১৫০ (গতি) ছুঁয়েছি। তবে এটা নিয়ে আপাতত ভাবছি না। আমার লক্ষ্য ধারাবাহিকভাবে (বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের) পরাস্ত করা।

সম্ভাব্য একাদশ
বাংলাদেশ : তামিম ইকবাল, মোহাম্মদ নাঈম, আফিফ হোসেন, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, মেহেদি হাসান, আমিনুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান ও আল-আমিন হোসেন।

পাকিস্তান : আহসান আলি, বাবর আজম (অধিনায়ক), মোহাম্মদ হাফিজ, শোয়েব মালিক, ইফতিখার আহমেদ, ইমাদ ওয়াসিম, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটরক্ষক), শাদাব খান, হ্যারিস রউফ, শাহিন আফ্রিদি ও মোহাম্মদ হাসনাইন।