কেমন হলো টাইগার স্কোয়াড

ঢাকা, শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৭ ফাল্গুন ১৪২৬

কেমন হলো টাইগার স্কোয়াড

ক্রীড়া প্রতিবেদক ৩:০৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৯, ২০২০

print
কেমন হলো টাইগার স্কোয়াড

পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দল দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। দলের মূল ব্যাটিং ভরসা মুশফিকুর রহিম পারিবারিক কারণে পাকিস্তানে কোনো ধরনের ক্রিকেটেই অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন। ফলে কিছুটা পিছিয়ে থেকে সিরিজ শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পিছিয়ে থেকে কোনো সিরিজ শুরু করা বাংলাদেশের জন্য নতুন কিছু নয়। ভারত সিরিজের একদম আগ মুহূর্তে সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞা বড় এক ধাক্কা হয়ে এসেছিল। তামিম ইকবালও ব্যক্তিগত কারণে সরে দাঁড়িয়েছিলেন সফর থেকে। কিন্তু ভারতের মাটিতে প্রথম জয় দিয়ে সেটা উতরে এসেছিল দল। পাকিস্তান সিরিজেও কি এমন কিছু করা সম্ভব হবে বাংলাদেশের পক্ষে? পাকিস্তানের মাটিতে প্রথম জয় পাওয়ার মতো দল কি গড়তে পেরেছে নির্বাচকরা?

সিরিজের দল এক নজরে দেখে নেওয়া যাক। অধিনায়ক হিসেবে আছেন ভারতে দলে নেতৃত্ব দেওয়া মাহমুদউল্লাহ। তার সঙ্গী হিসেবে এবার মুশফিক না থাকলেও এবার অন্তত আছেন তামিম ইকবাল। মাহমুদউল্লাহর বাদবাকি সঙ্গী হিসেবে আছেন সৌম্য সরকার, নাঈম শেখ, নাজমুল হোসেন, লিটন দাস, মোহাম্মদ মিঠুন, আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান, আমিনুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, শফিউল ইসলাম, আল-আমিন হোসেন, রুবেল হোসেন ও হাসান মাহমুদ।

এ দলের দিকে তাকালে তিনটি দিক নজরে আসে। প্রথমেই দলের বোলিং আক্রমণের দিকে নজর দেওয়া যাক। ভারত সিরিজের স্কোয়াড থেকে কিছু পরিবর্তন এসেছে এ ক্ষেত্রে- বাঁহাতি পেসার আবু হায়দারের বদলে সুযোগ মিলেছে তরুণ হাসান মাহমুদের। বিপিএলে ১০ উইকেট পাওয়া এই পেসারের গতি নজর কেড়েছে। ২০ উইকেট করে পেয়ে দলে জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে দেননি মোস্তাফিজ ও রুবেল। দেশি পেসারদের মধ্যে উইকেট পাওয়ায় এরপর শহিদুল ইসলাম (১৯), মেহেদী হাসান (১৮) ও এবাদত (১৪) থাকলেও নির্বাচকরা অভিজ্ঞতার দিকে ঝুঁকেছেন। এ কারণেই ১২ উইকেট পাওয়া আল আমিন ও ১৪ ম্যাচে ৯ উইকেট পাওয়া শফিউল জায়গা ধরে রেখেছেন। বাংলাদেশ দলের জন্য শঙ্কার বিষয় হলো বিপিএলে মোস্তাফিজ-রুবেল বাদে বাকি তিন পেসারের ইকোনমি রেট। আল আমিন এই বিপিএলে ওভার প্রতি ৯.৪৭ রান দিয়েছেন। হাসানের খরচ ৯.২০ করে। আর ৪৭.৮৮ গড়ে এক একটি উইকেট পাওয়া শফিউল প্রতি ওভারে রান দিয়েছেন ৮.৯৭ করে।

দলে স্পিনার হিসেবে আছেন লেগ স্পিনার আমিনুল ও দুই অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান ও আফিফ হোসেন। মেহেদী ৬.৭৬ ইকোনমিতে ১২ উইকেট পেয়েছেন, ৭ উইকেট পাওয়া আফিফ সে তুলনায় বেশ খরচে। ওভারপ্রতি ৯.২৩ রান দিয়েছেন এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। কিন্তু দলের জন্য চিন্তার বিষয় আমিনুলের ফর্ম। মাত্র ৬ ম্যাচ খেলেছেন এই লেগ স্পিনার, তাতে উইকেট মাত্র ৪টি।

বিপিএলের পারফরম্যান্স বিবেচনা করলে পাকিস্তান সিরিজের এ ব্যাটসম্যানরাই ডাক পান। তামিম, লিটন, নাঈম, সৌম্য, আফিফ, মিঠুন ও নাজমুল সবাই রানের মাঝে ছিলেন। অধিকাংশই শীর্ষ রান সংগ্রাহকদের মধ্যে ছিলেন। অন্যরা দলের প্রয়োজন বুঝে ভালো স্ট্রাইকরেটে রান তুলতে পেরেছেন। কিন্তু দলে থাকা ব্যাটসম্যানদের মাঝে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মাত্র দুজন। একজন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ, অন্যজন মিঠুন। বাদ বাকি সবাই কার্যত ওপেনার বা প্রথম তিনের ব্যাটসম্যান।

দলে তামিম ফিরে আসায় ওপেনিংয়ের একটি জায়গা যে তার এটা নিশ্চিত। এবারের বিপিএল তামিমের দুই দিক দেখিয়েছে। ক্যারিয়ারজুড়ে আগে ২৭.২১ গড়ে রান করা তামিমের গড় এই বিপিএলে ৩৯.৬। আবার তার আগের ১২০.১৪ স্ট্রাইকরেটকে বেশ ভালো মনে হচ্ছে এবারের বিপিএলের স্ট্রাইকরেটের (১০৯.৩৯) এর তুলনায়। তার দল অবশ্য ইনিংস ধরে খেলার দায়িত্ব দিয়েছিল তাকে। কিন্তু জাতীয় দলে তামিম এ ভূমিকা নিলে ইনিংসের শেষ ভাগে ঝড় তোলার মতো কোনো পিঞ্চ হিটার এই স্কোয়াডে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

তামিম একটি জায়গা নিয়ে নেওয়ায় ওপেনিংয়ের বাকি জায়গা নিয়ে লড়াই হবে বেশ কজনের মাঝে। স্ট্রাইকরেটের দিক থেকে তামিমের মতোই হতাশ করেছেন নাঈম (১১৫.৪৩)। কিন্তু ভারতের মাটিতে ৩ ম্যাচে ১৪৩ রান করা একজন ওপেনারকে বসিয়ে রাখা কঠিন।