রোমাঞ্চের আসর আজ শুরু

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬

রোমাঞ্চের আসর আজ শুরু

ক্রীড়া ডেস্ক ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০২০

print
রোমাঞ্চের আসর আজ শুরু

নতুন বছরে নতুন শুরুর অপেক্ষায় বাংলাদেশ। অধিনায়ক জামাল ভূইয়াও প্রত্যয়ী কণ্ঠে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপকে স্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্য। আজ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে গতবারের চ্যাম্পিয়ন ফিলিস্তিনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু করবে বাংলাদেশ। বিকেল ৫টায় শুরু হওয়া ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার বাংলাদেশ টেলিভিশন ও আরটিভি।

২০১৫ সালে প্রতিযোগিতার ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। মালয়েশিয়ার অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল দল। সেই সেরা সাফল্যকে ছাপিয়ে নতুন উচ্চতায় উঠতে আত্মবিশ্বাসী জামাল, ‘এ পর্যন্ত আমরা যে প্রস্তুতি নিয়েছি ও অনুশীলন করেছি, ভালো হয়েছে। আমরা জিততে চাই। যেহেতু এটা বঙ্গবন্ধু জন্ম শতবার্ষিকীর আয়োজন, আমরা এখানে সেরাটা দিতে চাই। (যদি জিততে পারি) এটা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, আমাদের জন্য, খেলোয়াড়দের জন্য অনেক বড় ইতিহাস হবে।’

দক্ষিণ এশিয়ান গেমসের গত আসরে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি বাংলাদেশের। অনূর্ধ্ব-২৩ দলের এই টুর্নামেন্টে সিনিয়র কোটায় খেলেছিলেন জামাল। দলকে নেতৃত্বও দিয়েছিলেন ২৯ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। কিন্তু ব্রোঞ্জ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। কাল সংবাদ সম্মেলনে নেপালের ওই প্রতিযোগিতার ব্যর্থতার প্রসঙ্গও টানলেন জামাল, ‘যারা এসএ গেমসে খেলেছিল, তারাও জানে তারা ভালো করেনি। সেটা রিকোভার করতে এটা আমাদের জন্য ভালো সুযোগ। এসএ গেমসে আমরা ঠিকঠাক খেলতে পারিনি এবং আমরা আরও ভালো করতে পারি, আমাদের জন্য বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ সেটা দেখানোর মঞ্চ।’

বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের ষষ্ঠ আসরে ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের অপর প্রতিপক্ষ উপমহাদেশের দল শ্রীলঙ্কা। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় এবার যে বিদেশি দলগুলো খেলছে, সেগুলো কি প্রতিটিই জাতীয় দল! বাংলাদেশ আর শ্রীলঙ্কা ছাড়া বাকি দলগুলো জাতীয় দলের নামে কোন মানের দল নিয়ে আসছে, তা নিয়ে শঙ্কা জাগছে। পরশু ঢাকায় পা রেখে ফিলিস্তিন জানিয়ে দিয়েছে, তাদের দলে মাত্র ৬ জন মূল জাতীয় দলের খেলোয়াড়। এদিন ঢাকায় আসা মরিশাস দলটির দিকে তাকালে তো রীতিমতো ‘কচিকাঁচার আসর’ বলে মনে হবে। এবারের আসরে অন্য দুই বিদেশি দল বুরুন্ডি আর সেশেলস। বুরুন্ডি এখনো আসেনি। সেশেলসের খেলোয়াড়েরা না এলেও এসেছেন তাদের প্রতিনিধিরা। কাল দুপুরে বাফুফে ভবনে হয়েছে টুর্নামেন্টের আগের সংবাদ সম্মেলন। এতে ছিল অব্যবস্থাপনার ছাপ। তবে এতে বেরিয়ে এসেছে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর অবস্থা। প্রতিটি দলই বঙ্গবন্ধু কাপকে নিয়েছে নিজেদের তরুণ ফুটবলারদের অভিজ্ঞা অর্জনের মঞ্চ হিসেবে।

মরিশাসের কথাই ধরা যাক। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থান ১৭২। এই দলের সবচেয়ে ‘বয়সী’ ও ‘অভিজ্ঞ’ ফুটবলার পাসকাল ডেমিয়েনের বয়স মাত্র ২৩। কেবল তা-ই নয়, মরিশাস দলটির মোট ছয়জন ফুটবলারের বয়স সতেরোর কোটায়। ব্রাজিলীয় কোচ ফ্রান্সিসকো ফিলহো সরাসরিই বলে দিয়েছেন, এই টুর্নামেন্টে তাদের কোনো প্রত্যাশা নেই। অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্যই তারা খেলতে এসেছেন, ‘টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য এসেছি। আমাদের কোনো ঘরোয়া ফুটবল নেই। জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা বিভিন্ন পেশার সঙ্গে জড়িত। তাদের সঙ্গে আনা যায়নি। দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই তরুণ। ৬ জনের বয়স ১৭। দলটিকে তৈরি করা হচ্ছে।’

র‌্যাঙ্কিংয়ের দুশো নাম্বারে থাকা সেশেলস দলের প্রতিনিধি হিসেবে যে দুজন এসেছেন, তাদের একজন দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি! বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে খেলতে আসা দলটিতে বেশির ভাগই জাতীয় দলের খেলোয়াড় আছে বলে দাবি তার, ‘আমাদের দলটি তারুণ্যনির্ভর। দেশের বাইরে লিগ খেলা খেলোয়াড়দের পাওয়া যায়নি। দলে ৮০ ভাগ জাতীয় দলের খেলোয়াড় আছি। আমরা টুর্নামেন্টে ভালো কিছু করতে চাই।’

পূর্ণাঙ্গ জাতীয় দল নিয়ে না এলেও শিরোপা ধরে রাখার ব্যাপারে আশাবাদী ফিলিস্তিন। ঢাকায় আসা দলটিতে মূল জাতীয় দলের ৬ জন খেলোয়াড় আছেন বলে জানিয়েছেন কোচ মাকরাম বাবুভ, ‘বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অংশ নেওয়া দল থেকে এই দলে ৬ জন খেলোয়াড় আছেন। অনূর্ধ্ব-২৩ দলের খেলোয়াড় আছেন ৮ জন। এ ছাড়া বাকিরা নবীন। এই দল নিয়েই শিরোপা জিততে পারব বলে আশাবাদী আমরা।’

ফিলিস্তিনের কাছে হেরে সবশেষ টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল জামালবাহিনী। ছয় দলের মধ্যে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে থাকা (১০৬) ফিলিস্তিন এবারও টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট।