ইউরোপে ব্রাজিলিয়ান রাত

ঢাকা, শনিবার, ২ জুলাই ২০২২ | ১৮ আষাঢ় ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

ইউরোপে ব্রাজিলিয়ান রাত

ক্রীড়া ডেস্ক
🕐 ১২:২২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯

ইউরোপে ব্রাজিলিয়ান রাত

এমন রাত খুব কমই আসে। যেখানে ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চ উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে জ্বলে ওঠেন এক দেশের বেশ কজন তারকা ফুটবলার। পরশু ব্রাজিলিয়ান ফুটবলাররা তাই করলেন। আগুন ঝড়ালেন ফিলিপ, ভিনিচিয়াস জুনিয়র, ফিলিপ্পে কুতিনহো, রদ্রিগো, নেইমার জুনিয়ার ও গ্যাব্রিয়েল জেসুস। শেষজন তো হ্যাটট্রিকই করে ফেললেন।

পরশু রাতের বিশেষত্ব আছে আরো একটি। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে নক আউট পর্বে উঠল ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় পাঁচ লিগের শীর্ষ দলগুলো। এমন রাতে আসরের একমাত্র দল হিসেবে গ্রুপপর্বের ছয় ম্যাচের সবকটিতে জিতল বায়ার্ন মিউনিখ। অ্যালিয়েঞ্জ এরিনায় ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে টটেনহাম হটস্পারকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে বাভারিয়ান জায়ান্টরা। তবে নিয়মরক্ষার ম্যাচে হারলেও কোনো ক্ষতি হয়নি স্পার্সদের। শেষ ষোলো যে আগেই নিশ্চিত করেছে তারা! অলিম্পিয়াকস ও রেড স্টার বেলগ্রেডের বিদায় আগেই নিশ্চিত হয়েছে। আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচে বেলগ্রেডকে ১-০ গোলে হারিয়েছে গ্রিক ক্লাবটি।

বায়ার্ন-টটেনহাম আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচের শুরুটা জমজমাট ছিল। ১৪ মিনিটে কোমানের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ছয় মিনিটের ব্যবধানে টটেনহামকে সমতায় ফেরান অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা সেসেগনন। পরে থমাস মুলার ও ফিলিপ্পে কুতিনহোর গোলে জয় নিশ্চিত করে বায়ার্ন।

ইংলিশ এক ক্লাব হারলেও প্রত্যাশিত জয় তুলে নিয়েছে আরেক ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি। ডায়নামো ডাগরেভকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সিটিজেনরা। সিটির হয়ে হ্যাটট্রিক করেছেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার জেসুস। অন্য গোলটার মালিক ফোডেন। আসলে সিটিকে জাগিয়ে তুলেছিল ডাগরেভই। ম্যাচের ১০ মিনিটে  ইংলিশ লিগ চ্যাম্পিয়নদের জাল কাঁপায় তারা। ৩৪ মিনিটে জেসুসের গোলে সিটি পরে সমতায়। পরে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকেই আরো দুই গোল করেন তিনি।

‘সি’ গ্রুপ থেকে নক আউট পর্বে তাদের সঙ্গী হয়েছে আটালান্টা। গ্রুপের অন্য ম্যাচে ম্যাচে শাখতার দানেৎস্ককে তাদেরই মাঠে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে আটালান্টা। ছয় পয়েন্ট নিয়ে শাখতার তৃতীয় ও পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ হয়েছে ডায়নামো জাগরেভ।

‘এ’ গ্রুপের নিয়মরক্ষার ম্যাচে প্রত্যাশিত জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদও। ক্লাব ব্রাগার মাঠ থেকে ৩-১ গোলের জয় নিয়ে ঘরে ফিরেছে লস ব্যাঙ্কোসরা। ম্যাচের চারটি গোলই হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে। ৫৩ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান তরুণ রদ্রিগোর গোলে লিড নেয় রিয়াল। দুই মিনিটের মধ্যে জবাব দেয় ক্লাব ব্রাগা। গোল করে স্বাগকিদের সমতায় ফেরান ভ্যানাকেন। পরে ভিনিচিয়াস জুনিয়র ও লুকা মডরিচের গোলে দারুণ জয় নিশ্চিত করে রানার্সআপ রিয়াল। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পিএসজি।

পরশু রাতে তাদের জিতিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও নেইমার জুনিয়র। ইনজুরি থেকে ফিরে গোল করেই চলছেন এ যুগল। ফরাসি লিগের পারফরম্যান্স বয়ে এনেছেন ইউরোপের সর্বোচ্চ মঞ্চে। তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে গালাতাসারাইকে ৫-০ গোলে চূর্ণ করেছে পিএসজি। ম্যাচে নেইমার নিজে করেছেন এক গোল, সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরো দুটি। সবমিলিয়ে ফরাসি ক্লাবটির দারুণ জয়ের নায়ক ব্রাজিলিয়ান তারকা।

ঘরের মাঠ পার্ক ডু প্রিন্সেসে প্রথমার্ধে স্বাগতিকরা গোল করেছে দুটি। দ্বিতীয়ার্ধে আরো তিনটি। দলের পাঁচজন করলেন গোলগুলো। ৩২ মিনিটে গোলমুখ খোলেন মাউরো ইকার্দি। ৮৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল উৎসবের ইতি টানেন এডিনসন কাভানি। দুজনের মাঝে স্কোরার শিটে নাম তোলেন নেইমার, এমবাপ্পে ও সারাবিয়া।

রিয়াল-পিএসজির মতো নক আউট পর্বের টিকিট আগেই কেটে রেখেছে জুভেন্টাস। ‘ডি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়নও হয়েছে তুরিনের বুড়িরা। স্বভাবতই নিয়মরক্ষার ম্যাচে বাড়তি কোনো চাপ ছিল না। তবু মোটামুটি পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে মাঠে নামে ইতালিয়ান ক্লাবটি। জয়ও পেয়েছে তারা। বায়ার লেভারকুজেনকে ২-০ গোলে হারিয়েছে জুভেন্টাস। তবে অ্যাওয়ে ম্যাচটায় জার্মান ক্লাবটির সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের শঙ্কা জাগিয়েছিল তুরিনের বুড়িরা। শঙ্কা উড়িয়ে দেন পর্তুগিজ উইঙ্গার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো; ৭৫ মিনিটে করেন ম্যাচের প্রথম গোল। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার গঞ্জালো হিগুয়েইন।

ম্যাচে ড্র করলে জুভেন্টাসের কোনো ক্ষতি হতো না। আবার জিতলেও কোনো লাভ হতো না বায়ার লেভারকুজেনের। কারণ গ্রুপের অপর ম্যাচে অনুমিত জয় দিয়ে শেষ ষোলোতে উঠে গেছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। ঘরের মাঠে লকোমোটিভ মস্কোকে ২-০ গোলে হারিয়েছে মাদ্রিদ জায়ান্টরা।

অ্যাটলেটিকোকে প্রথমার্ধে লিড এনে দেন সেকুয়েইরা ফেলিপে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে পর্তুগিজ ফরওয়ার্ড হোয়াও ফেলিক্স জয় নিশ্চিত করেন স্বাগতিকদের। ম্যাচের ফলটা অন্যরকম হতে পারতো। কিন্তু পেনাল্টিতে গোল হজমের হাত থেকে অ্যাটলেটিকোকে বাঁচিয়ে দেন গোলরক্ষক কাইরেন ত্রিপিয়ার।

 
Electronic Paper