কিংবদন্তির হঠাৎ প্রস্থান

ঢাকা, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২০ | ২৮ আষাঢ় ১৪২৭

কিংবদন্তির হঠাৎ প্রস্থান

ক্রীড়া ডেস্ক ১২:০৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯

print
কিংবদন্তির হঠাৎ প্রস্থান

বাইশ গজে ঝড় তুলেছিলেন বল হাতে। খেলোয়াড়ি জীবন ছাড়ার পর মাইক্রোফোনেও তাই। ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ও পেসার বব উইলিস ধারাভাষ্য কক্ষেই জগদ্বিখ্যাত হয়েছেন। ক্রিকেটের এই চেনামুখ  আর নেই। বুধবার রাতে দুরারোগ্য ব্যাধি থাইরয়েড ক্যান্সারের সঙ্গে তার যুদ্ধটাও থেমে গেল। ৭০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ৬ ফুট ৬ ইঞ্চির ভয়ঙ্কর সেই পেসার। এই কিংবদন্তির মৃত্যুতে শোকের চাদরে ঢেকে গেছে ইংল্যান্ডের ক্রীড়াঙ্গনসহ গোটা ক্রিকেট দুনিয়া।

নিজের সেরা সময়ে ক্যারিবিয়ান বিধ্বংসী পেসারদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গতির ঝড় তুলতেন তিনি। ক্যারিয়ারজুড়ে বাউন্সারে বিশ্বের রথী-মহারথীদের কুপোকাত করা সেই উইলিস নিজেই ধরাশায়ী হলেন; আলিঙ্গন করলেন মৃত্যুর সঙ্গে।

১৯৭১ সালে ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্যাপ পরেন উইলিস। ১৩ বছরের বর্ণিল ক্যারিয়ারে ৯০ টেস্টে নিয়েছেন ৩২৫ উইকেট। ইংল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হিসেবে অবসরে গিয়েছিলেন এই পেসার। এখনো তিনি আছেন সেরা চারে। টেস্টে শিকারের সংখ্যায় উইলিসকে ছাড়িয়ে গেছেন যথাক্রমে ইয়ান বোথাম (৩৮৩), স্টুয়ার্ট ব্রড (৪৭১) ও জেমস অ্যান্ডারসন (৫৭৫)।

বল হাতে বরাবরই সফল ছিলেন উইলিস। তার সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচ ১৯৮১ সালের অ্যাশেজের হেডিংলি টেস্ট। সেদিন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ইনিংস হারের শঙ্কায় পড়েছিল ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচে অবিশ্বাস্য এক জয় তুলে নেয় ইংলিশরা। সাতে নেমে ১৪৮ বলে ১৪৯ রান করেন বোথাম। পরে বল হাতে ৪৩  রানে ৮ উইকেট নিয়ে অজিদের ধসিয়ে দেন উইলিস। বাইশ গজের পর সতীর্থ বোথামের সঙ্গে ধারাভাষ্য জুটিও গড়েছিলেন তিনি। অবশ্য ইংল্যান্ডকে খুব বেশি সময় নেতৃত্ব দেননি তিনি। মাত্র ১৮ টেস্ট ও ২৯ ওয়ানডে। একদিনের ক্রিকেটে ৬৪টি ম্যাচে ৮০টি উইকেট নিয়েছেন উইলিস। ইংল্যান্ডের জার্সিতে বিশ্বকাপে তার অভিষেক হয় ১৯৭৯ সালে। পরের আসরে তার নেতৃত্বেই বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছিল ইংলিশরা।

ক্রিকেট দুনিয়া তাকে মনে রাখবে আরও একটি কারণে। ক্যারিয়ারজুড়ে ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করেও দাপটের সঙ্গে খেলে গেছেন তিনি। উইলিস কতটা সাহসী ক্রিকেটার ছিলেন তার একটা তথ্য হচ্ছে- অসংখ্য ম্যাচ ইনজুরি নিয়ে খেলেছেন তিনি। এই প্রজন্মের কোনো ক্রিকেটার ওই অবস্থা নিয়ে খেলবেন কিনা সংশয় আছে। জেনেশুনে কেই বা ক্যারিয়ার বিপর্যয়ের শঙ্কার পথ বেছে নেবেন! যেটা উইলিস করতেন হরহামেশাই।

১৯৮৪ সালে বল ও জার্সি তুলে রাখলেও ক্রিকেট থেকে নিজেকে একেবারে গুটিয়ে নেননি উইলিস। নতুন অধ্যায় শুরু করেন ধারাভাষ্যকার ও বিশ্লেষক ভূমিকায়। সেখানে তিনি সঙ্গী হিসেবে পেয়েছেন মাঠের সতীর্থ বোথামকে। বিবিসি ও স্কাই স্পোর্টসে বিশ্লেষক ও ভাষ্যকার হিসেবে বিখ্যাত হয়ে উঠেছিলেন তিনি।