গোলাপি বলে রঙিন ওয়ার্নার

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গোলাপি বলে রঙিন ওয়ার্নার

ক্রীড়া ডেস্ক ১২:৩৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০১, ২০১৯

print
গোলাপি বলে রঙিন ওয়ার্নার

টেস্ট সেঞ্চুরি বিশ্বের যে কোনো ক্রিকেটারেরই স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বহু আগেই পূরণ হয়েছে ডেভিড ওয়ার্নারের। নামের পাশে দ্বিশতকও যোগ করা হয়েছে তার। নিজেকে আরো উঁচুতে নিয়ে গেলেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার। কাল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তুলে নিলেন স্বপ্নের ট্রিপল সেঞ্চুরি। তাও আবার দিবারাত্রির টেস্টে গোলাপি বলে। ইতিহাসের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে গোলাপি বলে ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছেন ওয়ার্নার। শেষ অবধি অজেয় থাকলেন ৩৩৫ রানে। ইনিংসে ৩৯টি চারের সঙ্গে ছিল একটি ছক্কার মার।

টেস্টে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ব্রায়ান লারাকেও যাওয়ার সুযোগ এসেছিল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক টিম পেইন থামিয়ে দিলেন ওয়ার্নারকে। তাই স্যার ডন ব্র্যাডম্যানকে টপকেই সন্তুষ্ট থাকতে হলো তাকে। পাকিস্তানের কাঁধে রানের পাহাড় চাপিয়ে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছে অজিরা (৫৮৯/৩)। সেই রানপাহাড়ে চাপা পড়ল পাকিস্তান। ৯৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বসেছে তারা।

দ্বিতীয় দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ৪৯৩ রান এবং ওয়ার্নারের চেয়ে পিছিয়ে ২৩৯ রান পিছিয়ে থাকল পাকিস্তান। মিচেল স্টার্ক অফস্টাম্পের বাইরে করেন, পাকিস্তান ব্যাটসম্যানরা খোঁচা দেন আর ফিরে যান- এক বাবর আজম ছাড়া হয়েছে সেটিই। তবে অ্যাডিলেডে বড় পরাজয় আটকাতে বাবর বা পাকিস্তানকে করতে হবে এখন অলৌকিক কিছু।

ওয়ার্নারের ইনিংসটা ঠিক অলৌকিক না হলেও জাদুকরী তো বটেই। ১৬৬ রানে অপরাজিত থেকে দিন শুরু করেছিলেন, ইয়াসির শাহকে কাভার পয়েন্ট দিয়ে বাউন্ডারি মেরে দিন শুরু করলেন। সেই কাভার দিয়ে এ ইনিংসে ১০৯ রান করেছেন এই বাঁ-হাতি ওপেনার। ১৬২ রান করেছেন বাউন্ডারি থেকে, ১৭৩ রান নিয়েছেন দৌড়ে। অথচ এ ইনিংসে তার স্ট্রাইক রেট ৮০.১৪! ওয়ার্নারের এ ইনিংসে তাই মোহ শুধু নয়, মিশে আছে বেশ ত্যাগ-তিতিক্ষার গল্পও!

২২৬ রানে দাঁড়িয়ে মোহাম্মদ মুসার বলে গালিতে ক্যাচ দিয়েছিলেন তিনি বাবরের হাতে, তবে মুসা করেছিলেন ‘নো’ বল। ওয়ার্নারকে আউট করার আশা যেন ওখানেই শেষ হয়ে গেছে পাকিস্তানের। তিনি শুধু মেতেছেন উল্লাসে। তাকে ১৯৭ রানে রেখে শাহিন আফ্রিদির নিপড-ব্যাক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ফিরেছেন মারনাস লাবুশেন, নিজে ১৬২ রান করে, ওয়ার্নারের সঙ্গে ৩৬১ রানের জুটির পর।

তবে ওয়ার্নার থামেননি। সে ওভারেই লেগসাইডে সিঙ্গেল নিয়ে পূর্ণ করেছেন ২০০, ২৬০ বলে। আফ্রিদির বলেই ডাবলস নিয়ে ২৫০ হয়ে গেছে তার, ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো। এরপর তাকে রেখে ফিরেছেন স্মিথ, একই বোলারের বলে আন্ডার-এজড হয়ে, ওয়ার্নারের সঙ্গে ১২১ রানের জুটির পর। ওয়ার্নার থামেননি।

তার ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী ক্রিজে ছিলেন ম্যাথু ওয়েড। মোহাম্মদ আব্বাসের শর্ট অফ লেংথ বলটা টেনে পুল করে দৌড় শুরু করেছিলেন, বল বাউন্ডারি যাওয়ার পর শুরু করেছেন গর্জন। শেষ এই ফিফটিটা ওয়ার্নার পূর্ণ করেছেন মাত্র ৫৯ বলে। ইফতিখার আহমেদের অফস্টাম্পের বাইরের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ছাড়িয়ে গেছেন ব্র্যাডম্যান ও মার্ক টেইলরকে। অস্ট্রেলিয়ানরা ততক্ষণে নেমে এসেছেন নীচে, ওয়ার্নার তাদেরকে ও অ্যাডিলেডকে কুর্ণিশ করে ছেড়েছেন মাঠ।

এরপরের গল্পটা খুব বড় কিছু নয়। এলবিডব্লির হাত থেকে বারদুয়েক বাঁচার পর শান মাসুদ অবশেষে ধরা পড়েছেন টিম পেইনের হাতে, জশ হ্যাজলউডের লাইন ধরে রাখা বলে। তার আগেই আরও দুটি উইকেট হারিয়ে ফেলেছে পাকিস্তান। স্টার্কের বলে ইমাম স্লিপে ধরা পড়েছেন ওয়ার্নারের হাতে, ডিনারের আগে এই একটি উইকেটই পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।

বিরতির পর আজহারকে আউট করেছেন কামিন্স, স্লিপে নীচু হয়ে নেওয়া স্মিথের ক্যাচটা গিয়েছিল টিভি আম্পায়ারের কাছে। এরপর আসাদ শফিক, ইফতিখার ও মোহাম্মদ রিজওয়ান- তিনজনই স্টার্কের অফস্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে ধরা পড়েছেন টিম পেইনের হাতে। ৪৩ রান করে দিনশেষে অপরাজিত আছেন বাবর।