সাকিবের বিষয়ে আসলে বিসিবির আর কিছু করার নেই: পাপন

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সাকিবের বিষয়ে আসলে বিসিবির আর কিছু করার নেই: পাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক ৬:১৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৬, ২০১৯

print
সাকিবের বিষয়ে আসলে বিসিবির আর কিছু করার নেই: পাপন

সাকিব আল হাসানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার শাস্তি কমানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কিছুই করণীয় নাই বলে জানিয়ে সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, ‘সাকিবের বিষয়ে আসলে বিসিবির আর কিছু করার নেই। বিসিবি চাইলে আর উদ্যোগী হলেও শাস্তি কমানো সম্ভব নয়। বরং হিতে বিপরীত হতে পারে।’ আজ (৬ নভেম্বর) মিরপুরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান তিনি।

বিসিবি প্রধান আরো বলেন, সাকিব চাইলে বিসিবি তাকে সবরকম সহযোগিতা করবে। সেটা বিসিবির দূর্নীতি দমন ইউনিট আর লিগ্যাল কমিটির সাথে বসে সম্ভাব্য করণীয় ঠিক করতে হবে।

আগেই সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল, সাকিবের শাস্তি কমানোর বিষয়ে আইনি পরামর্শ নেবে বিসিবি। বিসিবি প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন জানিয়েছিলেন, সাকিবের ইস্যুতে বোর্ডের করণীয় খুব সীমিত হলেও, যথাসম্ভব চেষ্টা করবেন তারা। যদি কোনো সুযোগ থেকে থাকে, অবশ্যই সেটি কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে বোর্ড। সেই আইনি পরামর্শ নেয়ার পরই বোর্ড জানতে পারলো, এ বিষয়ে তাদের আর কিছুই করার নেই। সেটাই আজ জানালেন বিসিবি সভাপতি।

বিষয়টি এখনও ধোঁয়াটে। কারো কারো ধারণা, কেউ কেউ এমনও বিশ্বাস করেন যে, বিসিবির বিপক্ষে আন্দোলন-সংগ্রাম আর ধর্মঘটের ডাক দিয়ে বিপাকে পড়েছেন সাকিব। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সাকিবকে উচিৎ শিক্ষা দিতেই আইসিসিকে বলে কয়ে তাকে এত বড় শাস্তি দিতে সব আয়োজন করেছেন।

এ চিন্তাটা যে সম্পূর্ণ অমুলক, ওসব কথা-বার্তার যে কোনই ভিত্তিই নেই- তা কে কাকে বোঝাবে? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিনিয়ত এ নিয়ে বিস্তর লিখা-লিখি হচ্ছে। এমনকি সাকিব নিজে শাস্তি মেনে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে বক্তব্য দেয়া কিংবা দু’ তিনদিন পর স্ট্যাটাস দিয়ে পুরো বিষয়টা পরিষ্কার করার পরও বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের ওপর সাকিব ভক্তদের ক্ষোভ কমেনি।

এমনকি দেশ ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার টিম বাংলাদেশের প্রধান প্রাণ ভোমরা ও চালিকাশক্তি সাকিব আল হাসানের শাস্তি কমাতে বিসিবির করণীয় নিয়েও সংশয় আছে কারো কারো মধ্যে। ভাবটা এমন যে, বিসিবি চাইলেই বুঝি সাকিবের শাস্তির মেয়াদ কমে যাবে!

উল্লেখ্য, একবার দুবার নয়, তিন তিনবার ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন। প্রতিবারই প্রত্যাখ্যান করেছেন। জুয়াড়িদের প্রস্তাব হেলায় উড়িয়ে দিয়েছেন। জানাননি ক্রিকেট দুর্নীতি দমন কমিশন সংশ্লিষ্ট কাউকেই। ছোট্ট এই ভুলের চড়া মাসুল দিতে হলো বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে। ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব গোপন করায় সব ধরনের ক্রিকেট কার্যক্রম থেকে সাকিবকে ২ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি। অবশ্য ২ বছরের নিষেধাজ্ঞা, এর মধ্যে এক বছর কমিয়ে দিয়েছে আইসিসিই।