সিরিজ নিয়ে ভাবনা নেই

ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সিরিজ নিয়ে ভাবনা নেই

ক্রীড়া ডেস্ক ১২:২২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৬, ২০১৯

print
সিরিজ নিয়ে ভাবনা নেই

স্বাগতিক ভারতের বিরুদ্ধে কখনো জেতেনি বাংলাদেশ জাতীয় দল। দুদিন আগে দিল্লিতে সেই গেরো খুলছে টাইগাররা। নবমবারের টেষ্টায় টি-টোয়েন্টি সংস্করণে ভারতীয়দের পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ দিয়েছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। ওই ম্যাচটা বাংলাদেশ খেলেছে দলের অন্যতম সেরা দুই তারকা সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালকে ছাড়াই। অভিজ্ঞ এ দুজনের অভাবটা বুঝতেই দেননি সতীর্থরা। মুশফিকুর রহিমের ঝড়ো ব্যাটিং, সৌম্য সরকারের ক্যামিও ইনিংস এবং তরুণদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।

মুশফিক জয়ের নায়ক হলেও কুড়ি ওভারের প্রথম ম্যাচে পাশ্বনায়কের ভূমিকায় আছেন কয়েকজনই। আমিনুল ইসলাম, আফিফ হোসেন ও নাঈম শেখের মতো তরুণরা বুঝিয়ে দিয়েছেন আগামী দিনে তারাই বাংলাদেশের দলের কাণ্ডারী। তরুণদের পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেছে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। জয়ের উচ্ছ্বাস তো আছেই এই ত্রয়ীর পারফরম্যান্স টাইগারদের জন্য অনেক বড় একটা প্রাপ্তি।

বৃহস্পতিবার রাজকোটে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এই ম্যাচে জিতলেই সিরিজ জয়ের গৌরব অর্জন করবেন মাহমুদউল্লাহ অ্যান্ড কোং। কিন্তু এখনই সিরিজ জয় নিয়ে ভাবছে না টাইগাররা। কাল সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে এসে আফিফ জানালেন নিজেদের সবটুকু নিংড়ে দেওয়ার। তিনি বলেছেন, ‘সিরিজ জেতা বা হারার কথা ভাবছি না। আপাতত নিজেদের যার যার কাজে মনোযোগ রাখার চেষ্টা করছি। নিজেদের সেরা পারফর্ম করলে কী হবে সেটা পরে। আপাতত নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

পরশুই দিল্লি থেকে রাজকোটে পা রেখেছে বাংলাদেশ দল। কাল রাজকোটের সৌরাষ্ট্র স্টেডিয়ামে অনুশীলন করতে নেমেছিল দল। অনুশীলন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে হয়েছেন অলরাউন্ডার আফিফ। সেখানেই জানালেন রাজকোটেই সিরিজ মীমাংসা করে দেওয়ার সুযোগ নিয়ে ভাবছেন না তারা। সিরিজের ফল নিয়ে না ভাবলেও দল যে আগের তুলনায় অনেক আত্মবিশ্বাসী সেটা সবাই বুঝতে পারছেন। ম্যাচের আগে উইকেটের চেয়েও বেশি আলোচনা হয়েছে দিল্লির শহর নিয়ে। দূষণের কারণে ম্যাচ হয় কি না সে শঙ্কাও ছিল। একই মাঠে এর আগে সফররত শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা বমি করে বের হয়েছিলেন। বাংলাদেশের পারফরম্যান্স কেমন হবে তা নিয়েও তাই দুশ্চিন্তা ছিল।

এমন পরিস্থিতে সব হিসাব উল্টে পাওয়া জয় যে দলকে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছে সেটা স্বীকার করেছেন আফিফ, ‘ভারত চাপে কি না বলতে পারব না। তবে প্রথম ম্যাচ জেতার পর আমরা অনেক আত্মবিশ্বাসী, ভালো অনুভূতি হচ্ছে। এটা আরও ভালো খেলতে সহায়তা করবে সামনে।’

২০১৮ সালেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এলেও এখনো দলের নবীন সদস্যদের একজন আফিফ। দলে আমিনুল ইসলামও মাত্র একটি ম্যাচ খেলেই ভারতে এসেছেন। আর ওপেনার নাঈমের অভিষেক তো প্রথম টি-টোয়েন্টিতেই হলো। আগের সব প্রতিপক্ষ বা ম্যাচগুলোর চেয়ে এ সিরিজকে এগিয়ে রাখছেন আফিফ নিজেই। কারণ প্রতিপক্ষটা ভারত।

অকপটে জানিয়েছেন, বড় প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলাটা তরুণদের জন্য কত প্রয়োজনীয়। নাঈম বলেছেন, ‘আগের চেয়ে অনেক আলাদা আসলে। প্রতিপক্ষ অনেক শক্তিশালী। এমন প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রথমবারের মতো খেলছি। এই জিনিসটা একটু আলাদা।’

কিছুদিন আগেও বাংলাদেশকে মনে হচ্ছিল ভেঙে পড়া এক দল। শরীরী ভাষায় ছিল হতাশার বিজ্ঞাপন। ঝুলেপড়া কাঁধ দেখে প্রতিপক্ষ বুঝে নিতো সবটা। সেই দলকেই ভারতের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে দেখা গেল অন্য চেহারায়। মাঠে দেখা গেল আত্মবিশ্বাসে ভরপুর এক দলকে। কীভাবে এত দ্রুত বদলে গেল বাংলাদেশ দল? উত্তর হচ্ছে দলীয় ঐক্য এবং উজ্জীবিত থাকাটা। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা যে অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছে তাতে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার কাজটা সহজ ছিল না অধিনায়ক ও কোচের জন্য। ভগ্ন মনোবলের দলকে মাহমুদউল্লাহ ও রাসেল ডমিঙ্গো অনুপ্রাণিত করেছেন বলে জানান তরুণ এই অলরাউন্ডার।