নিউজিল্যান্ডের নাটকীয় জয়

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

নিউজিল্যান্ডের নাটকীয় জয়

ক্রীড়া ডেস্ক ১২:১৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৬, ২০১৯

print
নিউজিল্যান্ডের নাটকীয় জয়

জয়ের জন্য ৩১ বলে ৪২ রান দরকার ছিল ইংল্যান্ডের। হাতে অক্ষত ছিল ৮ উইকেট। কিন্তু সহজ সমীকরণ মেলাতে পারল না ইংলিশরা। ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ে জেতা ম্যাচটা হেরে বসল সফরকারীরা। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ইংল্যান্ডের মুঠোয় থাকা জয় ছিনিয়ে আনে নিউজিল্যান্ড। কাল সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে মরগানদের ১৪ রানে হারিয়েছে কিউইরা। ১৮০ রান তাড়ায় ইংলিশরা থেমেছে ১৬৬ রানে। দুই দলেরই উইকেট পতন হয়েছে সমান ৭টি। নাটকীয় এই জয়ে ৫ ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিক শিবির। ৫৫ রানের ঝড়ো ইনিংসে ম্যাচসেরা হয়েছেন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম। শুক্রবার সিরিজের চতুর্থ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। লড়াইয়ের মঞ্চ নেপিয়ার।

অথচ ইংল্যান্ডের টপ অর্ডার বড় রান তাড়া করার মতোই শক্ত ভিত গড়ে দিয়ে গিয়েছিল। ওপেনার টম ব্যান্টন দ্রুত ফিরলেও দ্বিতীয় উইকেটে ডেউইড মালান ও জেমস ভিন্সের জুটিতে ৭.৩ ওভারে আসে ৭২ রান। ৩৪ বলে আটটি চার ও এক ছক্কায় ৫৫ রান করা মালানকে ফেরান লেগস্পিনার ইশ সোধি। টি-টোয়েন্টিতে বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান মালানের এটি পঞ্চম ফিফটি। অধিনায়ক ইয়ন মরগানের সঙ্গে ভিন্সের জুটিতে এরপর ৪৯ রান আসে ২৭ বলে। কিন্তু এরপরই কেটে যায় ছন্দ। দশ রানের মধ্যে ইংলিশরা হারিয়ে ফেলে ৫ উইকেট।

পঞ্চদশ ওভারে মিচেল স্যান্টনারকে টানা দুই ছক্কা মেরে ওভারের শেষ বলে আবারও বড় শট খেলার চেষ্টায় আউট হন মরগান। (১৮)। পরের ওভারে নতুন ব্যাটসম্যান স্যাম বিলিংস হন রান আউট। অন্যপ্রান্তে ভিন্স ছিলেন ভরসা হয়ে। কিন্তু ব্লেয়ার টিকনারকে বড় শট খেলতে গিয়ে তিনিও ৪৯ রানে মিডঅফে ক্যাচ দেন। তার ৩৯ বলের ইনিংসে চারটি চারের পাশাপাশি ছিল একটি ছক্কা।

নিজের শেষ ওভারে ইংল্যান্ডকে বড় ধাক্কা দেন লোকি ফার্গুসন। তিন বলের মধ্যে তুলে নেন লুইস গ্রেগরি ও স্যাম কারানের উইকেট। শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ৩১ রান। টম কারানের ১০ বলে অপরাজিত ১৪ রানের ইনিংস কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে। সাকিব মাহমুদ অপরাজিত ছিলেন ৩ রানে। ফার্গুসনের পাশাপাশি টিকনারও দুটি উইকেট পেয়েছেন। সোধি ও স্যান্টনারের শিকার একটি করে।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ওপেনার মার্টিন গাপটিলের ব্যাটে নিউ জিল্যান্ডের শুরুটা ছিল দারুণ। সাতটি চারে ১৭ বলে ৩৩ রান করা গাপটিলকে ফেরান প্যাট ব্রাউন। তবে আরেক ওপেনার কলিন মুনরো আগের ম্যাচের মতো এদিনও ব্যর্থ। ৬ রান করে তিনি আউট হন টম কারানের বলে।

রিভার্স স্লগের চেষ্টায় বোল্ড হন সাইফার্ট। সাজঘরে ফেরার আগে ৭ রান করেছেন তিনি। রস টেলরের সঙ্গে এরপর চতুর্থ উইকেটে মাত্র ৭ ওভারে ৬৬ রান যোগ করেন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম। তবে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি তুলে নেওয়ার পর আর বেশিদূর যেতে পারেননি তিনি। ৩৫ বলে ৫টি চার এবং তিন ছক্কায় ৫৫ রান করে টম কারানের দ্বিতীয় শিকার হন ডি গ্র্যান্ডহোম। রস টেলর (২৭) ও জিমি নিশামের (২০) ব্যাটে আরও এগোয় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। শেষ দিকে ৯ বলে দুটি চারে ১৫ রান করেন মিচেল স্যান্টনার। এসব ছোটখাটো ইনিংসই কার্যকর হয়ে ওঠে।