ষড়যন্ত্রের অপবাদ ক্রিকেটের জন্য অশনি সংকেত

ঢাকা, শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯ | ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ষড়যন্ত্রের অপবাদ ক্রিকেটের জন্য অশনি সংকেত

আবু বকর সিদ্দীক ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০১৯

print
ষড়যন্ত্রের অপবাদ ক্রিকেটের জন্য অশনি সংকেত

নাগরিক হিসেবে গর্ব করার মতো অর্জন শুধু আমাদের ক্রিকেটে। বিশ্বজুড়ে লাল-সবুজের পতাকার যে সম্মান তার সিংহভাগ এসেছে ক্রিকেটারদের হাত ধরে। চারদিন ধরে ক্রিকেটারদের আন্দোলনের সঙ্গে নানা আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। বিসিবি সভাপতি এ আন্দোলনকে বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্র এবং দেশের ক্রিকেটকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত বলে মন্তব্য করেছেন। নষ্টদের দখলে থাকা সব কিছুর মাঝে আমরা দল-মত নির্বিশেষে ক্রিকেট খেলায় জেগে থাকি, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মধ্যরাতে বিজয় উদযাপন করি। 

ঈদ বা পহেলা বৈশাখ থেকেও বড় উৎসব বয়ে আনে ক্রিকেটের বিজয়ে। আমরা সব দোষের ঊর্ধ্বে রেখে খেলোয়াড়দের কাছে সেরা খেলাটা প্রত্যাশা করি। এখানে দুর্বৃত্তায়নের রাজনৈতিক রঙ লাগিয়ে বিরোধী মত দমনের মতো সব ষড়যন্ত্র খোঁজার কোনো কারণ নেই।

এক সময়ের সোনালি আঁশ আমাদের গৌরবের পাট আজ কৃষকের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে দেওয়া গার্মেন্ট শিল্প ধুঁকছে, দাগি অপরাধীদের মতো কোমরে দড়ি বেঁধে রেমিট্যান্স শ্রমিকদের বিমানবন্দরের পথ দেখিয়ে দিচ্ছে বিভিন্ন দেশ, পাকস্থলির ক্ষুধা নিবারণের যুদ্ধে যে মা-বোনরা মধ্যপ্রাচ্যের ধর্মীয় নিরাপত্তার বলয়ে পবিত্র ভূমিতে গিয়েছিল, তাদের ফিরতে হচ্ছে সব কিছু হারিয়ে কোনোমতে জীবনটাকে নিয়ে। কোথাও ভালো খবর নেই, গুজব ও কান কথায় উন্মাদ হুজুগে বাঙালি অকাতরে মরছে, সবখানে থমথমে। এর মধ্যে ক্রিকেট নিয়ে এ আন্দোলন মন খারাপের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বড় প্রকল্পের বালিশকাণ্ড, হাসপাতালের পর্দা এমনকি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোর শতগুণ বেশি দামে জিনিসপত্র কেনার লুটপাট দেশবাসী জানে। সরকারি অফিসের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর বিলাসী জীবনের চিত্র অহরহ চোখে পড়ে, সেখানে ক্রিকেট খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিকের চিত্রটা খুব হতাশার। দেশের ৭৯ জন ক্রিকেটার এখন বেতনভুক্ত। প্রতি মাসে ১৭ হাজার ২৫০ থেকে ২৮ হাজার ৭৫০ টাকা পর্যন্ত তারা পান। ঢাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের দেহরক্ষী, ড্রাইভার এমনকি চেলা-চামুণ্ডাদের মাসোহারাও এর থেকে বেশি।

ওয়ার্ড পর্যায়ের মধ্যম সারির নেতার বাসা থেকেও বস্তা বস্তা টাকা পাওয়া যাচ্ছে। উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বড় বড় প্রকল্প, সবখানেই দৃশ্যমান হচ্ছে অগ্রগতি। এ রকম একটি সময়ে বেতন-ভাতার জন্য ক্রিকেটারদের এ আন্দোলন আমাদের ব্যথিত করে। এখানে ষড়যন্ত্র, নাশকতা বা গুজব না খুঁজে যৌক্তিকভাবে প্রাপ্যটা বুঝিয়ে দেওয়া দরকার। কিছুতেই আমাদের আবেগ ও ভালোবাসার ক্রিকেটকে ধ্বংস হতে দিতে পারি না।