লিটন-নাইমের শতক

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬

লিটন-নাইমের শতক

অপেক্ষায় মাহমুদউল্লাহ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ১:৪৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০১৯

print
লিটন-নাইমের শতক

জাতীয় লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের তৃতীয় দিনটা ব্যাটসম্যানদের জন্য হয়ে উঠল রান উৎসবের দিন। কাল সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন রংপুর বিভাগের দুই ব্যাটসম্যান লিটন দাস ও নাঈম ইসলাম। সেঞ্চুরির অপেক্ষায় আছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তবে সঙ্গীর অভাবে শতক হাতছাড়া হয়ে গেছে নুরুল হাসান সোহানের। কাল দুজনই থাকলেন নব্বইর ঘরে। ঢাকা মেট্রোর ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ দিন শেষ করেছেন ৯৫ রানে।

ব্যাটসম্যানদের দিনেও জাতীয় লিগে কাল খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের ম্যাচে উইকেট পড়েছে ১৫টি! খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ইনিংসে ১ উইকেটে ১৫ রান তুলে দিন শেষ করেছে স্বাগতিক শিবির। জয়ের জন্য আজ শেষ দিনে ১০৮ রান করতে হবে খুলনাকে। রাজশাহী বিভাগের দরকার ৯ উইকেট।

প্রথম ইনিংসে ৩০৯ রান তোলা খুলনা পেয়েছিল ৪৮ রানের লিড। রাজশাহী নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে গেছে মাত্র ১৭০ রানে। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ২২৭ রান নিয়ে কাল খেলতে নামা খুলনা এদিন শুরুতেই হারায় আব্দুর রাজ্জাককে। রানের খাতা খোলার আগেই ফরহাদ রেজার বলে আউট হন নতুন ব্যাটসম্যান রুবেল হোসেন।

শেষ দুই ব্যাটসম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ও আল-আমিন হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে এরপর দলের ইনিংস টেনেছেন আগের দিনের অপরাজিত ব্যাটসম্যান নুরুল। শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ৩ রানের জন্য শতক পাননি নুরুল।

মুস্তাফিজের সঙ্গে ৪০ রানের নবম উইকেট জুটিতে দলকে লিড এনে দেন খুলনার কিপার ব্যাটসম্যান। এই জুটির পথেই ৮২ বলে সাত চারে ফিফটি তুলে নেন তিনি। ফিফটির পর দ্রুত রান তুলতে থাকেন নুরুল। পঞ্চাশ পেরিয়ে তার ব্যাট থেকে চারটি ছক্কার পাশাপাশি আসে আরও তিনটি চার। ৯ রান করে মোহর শেখের বলে আউট হন মুস্তাফিজ। ৩০ রানের শেষ উইকেট জুটিতে আল আমিনের অবদান মাত্র ১। খুলনার প্রথম ইনিংস থামে ৩০৯ রানে।

৪৮ রানে পিছিয়ে থাকা রাজশাহী দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই খুলনার পেসারদের তোপে পড়ে। ২৮ রানের মধ্যে হারায় প্রথম তিন ব্যাটসম্যানকে। মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে চতুর্থ উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে রাজশাহী। দুজন মিলে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ৮৪ রান। ৭৫ বলে ৫টি চারে ফিফটি স্পর্শ করেন শান্ত। তবে এরপর আর ইনিংস বড় করতে পারেননি। ব্যক্তিগত ৫৭ রানে ফেরেন রাজ্জাকের বলে। খানিক বাদে ওভারেই মুশফিক ও ফরহাদ রেজাকে ফিরিয়ে রাজশাহীকে বড় ধাক্কা দেন এই অভিজ্ঞ স্পিনার। মুশফিক আউট হন ৪৪ রান করে। এরপর আর বড় কোনো জুটি পায়নি রাজশাহী। আল-আমিনের পেস এবং রাজ্জাকের স্পিনে ২৮ রানের মধ্যে তারা হারায় শেষ ৪ উইকেট। দুই বোলারই নেন চারটি করে উইকেট। বাকি দুটি উইকেট পেয়েছেন মুস্তাফিজ।

জাতীয় লিগের চলতি আসরে হেসেই চলছে মাহমুদউল্লাহর ব্যাট। কাল তুলে নিয়েছেন আসরের তৃতীয় হাফসেঞ্চুরি। ৯৫ রানে অজেয় থেকে দিন শেষ করেছেন অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার। তার ব্যাটিং দৃঢ়তায় দিন শেষে ঢাকা মেট্রোর সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২২৫ রান। আজ শেষ দিন মাহমুদউল্লাহর দিন শুরুর সঙ্গী শহিদুল ইসলাম। ২৯ রানে ব্যাট করছেন তিনি। ৭৩ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা ঢাকা এগিয়ে গেছে ১৫২ রানে।

মাহমুদউল্লাহ অপেক্ষায় আছেন শতকের। বঞ্চিত হয়েছেন নুরুল। তবে প্রত্যাশিত সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন নাঈম ও লিটন। এই দুজনের ব্যাটিংয়ের সুবাদে ঢাকা বিভাগকে দাঁতভাঙা জবাব দিচ্ছে রংপুর বিভাগ। কাল তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ৫ উইকেটে ৩৩৪ রান তুলেছে রংপুর। ঢাকার চেয়ে এখনো ২২২ রানে পিছিয়ে আছে তারা। নাঈম ১২৪ রানে অপরাজিত আছেন। লিটন আউট হওয়ার আগে ১২২ রান করেছেন। আজ নাঈমের সঙ্গী তানবীর ৫২ রানে অজেয় আছেন। এর আগে সাইফ হাসানের ডাবল সেঞ্চুরির সুবাদে ৮ উইকেটে ৫৫৬ রান করে প্রথম ইনিংসের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছিল ঢাকা বিভাগ।