বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিসিআই সভাপতি

ঢাকা, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ভারতীয় ক্রিকেটে সৌরভ যুগ

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিসিআই সভাপতি

ক্রীড়া ডেস্ক ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০১৯

print
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিসিআই সভাপতি

আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবু খবরটা চাউর হয়ে গেছে বিশ্ব প্রচারমাধ্যমগুলোতে। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) নতুন সভাপতি হচ্ছেন সৌরভ গাঙ্গুলী। ভারতের সাবেক অধিনায়ক দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সিংহাসনে বসছেন বিনপ্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

মনোয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন হিসেবে গতকাল পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। যেখানে বিসিসিআইয়ের একমাত্র সভাপতি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সৌরভ। আসরে অন্য কারও প্রার্থিতা করার প্রয়োজন পড়েনি। কাল দিনভর নাটক শেষে সর্বসম্মতিক্রমে একক প্রার্থী হলেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক।

সভাপতি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়িয়েছেন কর্নাটক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সচিব ব্রিজেশ প্যাটেল। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর জাতীয় দলের সাবেক এই ক্রিকেটার হতে যাচ্ছেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) পরবর্তী প্রধানকর্তা।

সভাপতি হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পুত্র জয় শাহও। তবে সমঝোতা ও তদবিরের মাধ্যমে বিসিসিআইয়ের সচিব পদে আসীন হতে যাচ্ছেন জয়। সবকিছু ঠিক থাকলে বোর্ডের সাবেক সভাপতি অনুরাগ ঠাকুরের ছোটভাই হচ্ছেন নতুন কোষধ্যক্ষ। পারস্পারিক সমঝোতার কারণে শীর্ষস্থানীয় পদগুলোর জন্য আর নির্বাচনের দরকার পড়ল না। নিরুত্তাপভাবেই তাই শেষ হতে চলল নির্বাচনী আমেজ।

অবশ্য দীর্ঘমেয়াদে নয়, ভারতীয় ক্রিকেটের প্রধানকর্তা হিসেবে সৌরভ দায়িত্ব পালন করবেন ১০ মাস। ২০২১ পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই সৌরভকে সভাপতি নির্বাচন করা হয়েছে। আগামী ২৩ অক্টোবর বিসিসিআইয়ের বার্ষিক সাধারণ সভায় সভাপতি হিসেবে ভারতের সাবেক অধিনায়কের নাম ঘোষণা করা হবে।

ব্রিজেশ সভাপতি হওয়ার লড়াইয়ে অনেক দূর এগিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে মেনে নিতে পারেননি বোর্ডের অনেক কর্মকর্তাই। সৌরভের নাম প্রস্তাব করতেই সম্মতি দিয়েছেন প্রায় সবাই। এমনটাই জানালেন বিসিসিআইয়ের সিনিয়র এক পরিচালক।

তিনি বলেছেন, ‘শ্রী নিবাসন ব্রিজেশকে সমর্থন দেওয়ায় ব্রিজেশ ভালোভাবেই দৌড়ে ছিলেন। কিন্তু তাকে সবাই মেনে নিতে পারেননি। সৌরভের বেলায় আপত্তি তোলেননি কেউ। নতুন সভাপতি হিসেবে সৌরভকে পেয়ে আমরা ভীষণ খুশি হয়েছি।’

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কোনো দায়িত্বে ছিলেন না সৌরভ। কার্যত ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের সভাপতি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন ৪৭ বছর বয়সী এই তারকা। সেখান থেকে বিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট হয়ে যাবেন সেটা সৌরভ নিজেও ভাবতে পারেননি। স্বাভাবিকভাবেই খুশি তিনি। দায়িত্ব হাতে নিয়ে প্রথমেই ঘরোয়া ক্রিকেট উন্নয়নের দিকে নজর দিতে চান সৌরভ।

কাল ভারতের সাবেক অধিনায়ক বলেছেন, ‘কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সবার সঙ্গে অবশ্যই আলোচনা করে নেব। তবে আমার প্রথম কাজ হবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের দিকে নজর দেওয়া। এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে সিওএ’কে অনুরোধ করে এসেছি। তারা এটাতে কর্ণপাত করেননি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর ঘরোয়া ক্রিকেটারদের আর্থিক দিকটাতেই প্রথমে নজর দিতে চাই।’

সৌরভ প্রতিশ্রুতি দিলেন বিসিসিআইকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বোর্ড রূপান্তর করার। ‘বিগ থ্রি’ প্রকল্পের কারণে ভারতীয় বোর্ডের যে ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে তা ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। নতুন সভাপতি হওয়ার খবর চাউর হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে অভিনন্দনে সিক্ত হচ্ছেন সৌরভ।