দ্বিশতকে কাটল সেঞ্চুরি খরা

ঢাকা, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

দ্বিশতকে কাটল সেঞ্চুরি খরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০১৯

print
দ্বিশতকে কাটল সেঞ্চুরি খরা

এবারের জাতীয় লিগের শুরুটা হলো বোলারদের একচ্ছত্র আধিপত্যে। প্রথম রাউন্ডের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও শতকের দেখা পাচ্ছিলেন না কোনো ব্যাটসম্যান। অবশেষে ইমরুল কায়েসের ব্যাটে দূর হলো সেঞ্চুরি খরা। শুধু শতকেই থামেননি জাতীয় দলের বাইরে থাকা বাঁ-হাতি এই ব্যাটসম্যান। কাল চতুর্থ তথা শেষ দিনে তুলে নিয়েছেন অজেয় ডাবল সেঞ্চুরি। তবু দলকে জেতাতে পারেননি ইমরুল। বৃষ্টিভেজা ম্যাচে কাল ড্র করেছে রংপুর বিভাগ ও খুলনা বিভাগ। নিরুত্তাপ ড্রয়ের টেস্টে অবধারিতভাবেই ম্যাচ সেরা হয়েছেন ইমরুল।

খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে ৩ উইকেটে ১৯২ রানে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে খুলনা। পরে ৯ উইকেটে ৪৫৪ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে তারা। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে রংপুর এক উইকেটে ৩৩ রান তোলার পর নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা আগে ড্র মেনে নেন দুই অধিনায়ক। এই ড্র ছাপিয়ে স্পট লাইটে চলে এলেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্বিতীয় দ্বিশতক তুলে নিয়ে ২০২ রানে অপরাজিত থাকা ইমরুল।

আগের দিনে রবিউল ইসলাম রবি ও ইমরানউজ্জামানের উদ্বোধনী জুটিতে গড়ে দেওয়া ১৩৬ রানের শক্ত ভিতের উপর দাঁড়াতে পারেন কেবল ইমরুল। খুব বেশি সময় কেউই তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি, অনেকটা একার চেষ্টায় এগিয়ে নেন দলকে। ২৯ রান নিয়ে দিন শুরু করা এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান সময় গড়ানোর সাথে সাথে মেলে ধরেন নিজেকে। আগের দিন ৮ রানে অপরাজিত থাকা সৌম্য সরকার ফেরেন ৩৬ রানে। জাতীয় দলের এই বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে ৬৩ রানের জুটি ভাঙেন শুভাশিস রয়। জিয়াউর রহমান ও নাহিদুল ইসলামও বেশিক্ষন টেকেননি।

৯ জন বোলার ব্যবহার করেও ইমরুলকে থামাতে পারেননি রংপুর অধিনায়ক নাসির হোসেন। ১৮৩ বলে ক্যারিয়ারের অষ্টাদশ সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে আরও দৃঢ়তায় এগোতে থাকেন ইমরুল। শেষ দুই ব্যাটসম্যানকে নিয়ে তোলেন ১২৬ রান। যেখানে রুবেল হোসেন ও আল-আমিনের অবদান ছিল মাত্র ৩!

নবম উইকেটে রুবেলকে নিয়ে ৮৪ ও শেষ উইকেটে আল-আমিনকে নিয়ে গড়েন ৪২ রানের জুটি। সোহরাওয়ার্দী শুভকে টানা ২ বলে ছক্কা ও চার হাঁকিয়ে ৩১১ বলে দ্বিশতক স্পর্শ করেন ইমরুল। জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই ডানহাতি ৩১৯ বলে ইনিংসটি সাজান ১৯টি চার ও ৬টি ছক্কায়। ইমরুল দুশো করার খানিক পরেই ইনিংস ঘোষণা করে খুলনা। ৭৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের সেরা বোলার শুভ।

আগামী বৃহস্পতিবার একই মাঠে নিজেদের পরের ম্যাচে মুখোমুখি হবে প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ ছয়বার করে শিরোপা জেতা খুলনা ও রাজশাহী। একই দিনে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে রংপুর লড়বে ঢাকার বিরুদ্ধে।

ঢাকা বিভাগ ও রাজশাহী বিভাগের ম্যাচটা অমীমাংসিত থেকে গেছে। এদিন আলো ছড়িয়েছেন তাইজুল ইসলাম। প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নেওয়া এই স্পিনার কাল নিয়েছেন একটি বেশি। তবু চালকের আসনে ছিল ঢাকা। শেষ পর্যন্ত জহুরুল ইসলামের দৃঢ়তায় ম্যাচে ড্র করেছে।

বল হাতে দ্যুতি ছড়িয়েছেন জাতীয় দলের আরেক তারকা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ম্যাড়মেড়ে ড্রয়ের দিকে এগোনো ম্যাচটা হঠাৎ জমিয়ে দেন তিনি। সেই নাটকীয়তা অবশ্য থেমে গেছে একটু পরই। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় স্তরের ম্যাচটাতে ড্র করেছে চট্টগ্রাম বিভাগ ও ঢাকা মেট্রো।

ওদিকে বৃষ্টিতে ভেসে গিয়েছিল সিলেট বিভাগ ও বরিশাল বিভাগের ৫ সেশনের খেলা। তবু সবার আগে শেষ হয়েছে এই ম্যাচ। যেখানে তানভীর ইসলাম ও মনির হোসনের দারুণ বোলিংয়ে সিলেটকে ইনিংস ও ১৩ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে বরিশাল।