লঙ্কাওয়াশের মুখে পাকিস্তান

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯ | ৩ কার্তিক ১৪২৬

লঙ্কাওয়াশের মুখে পাকিস্তান

ক্রীড়া ডেস্ক ১১:২২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ০৯, ২০১৯

print
লঙ্কাওয়াশের মুখে পাকিস্তান

প্রথম ওয়ানডে ভেসে গেছে বৃষ্টিতে। পরের দুটিতে জিতে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে পাকিস্তান। ফরমেট পাল্টাতেই বদলে গেছে সরফরাজদের পারফরম্যান্স। টি-টোয়েন্টিতে হেরেই চলছে স্বাগতিক শিবির। লঙ্কানদের কাছে কুড়ি ওভারের দ্বিতীয় ম্যাচেও হেরেছে তারা। আজ সন্ধ্যায় লাহোরে লঙ্কাওয়াশ ঠেকাতে মাঠে নামবে পাকবাহিনী।

সোমবার লাহোরে পাকিস্তানকে ৩৫ রানে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ওভারে ছয় উইকেটে ১৮২ রান করেছে লঙ্কানরা। জবাব দিতে নেমে ইনিংসের এক ওভার বাকি থাকতেই ১৪৭ রানে গুটিয়ে গেছে পাকিস্তান। এই জয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জিতে নিল সফরকারী দলটি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটা প্রথম সিরিজ জয়।

নিরাপত্তার কারণে এই সিরিজ থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন শ্রীলঙ্কার বেশ কয়েকজন তারকা ক্রিকেটার। তবু দ্বিতীয় সারির লঙ্কানদের কাছেই নাকানি-চুবানি খেতে হলো পাকিস্তানকে। দুই ম্যাচের একটিতেও দাঁড়াতে পারেননি সরফরাজরা। স্বাভাবিকভাবেই হতাশ দলটির প্রধান কোচ ও নির্বাচক মিসবাহ উল হক। হতাশাও চেপে রাখেননি তিনি। পরশু ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘হার কখনোই ভালো না। বিশেষ করে সেরা খেলোয়াড়বিহীন দলের সঙ্গে।’

মিসবাহর মতে, প্রত্যেক বিভাগেই উন্নতি করতে হবে দলের, ‘আমরা প্রতিটি বিভাগেই ধুঁকেছি। ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং কোনো বিভাগেই ভালো করতে পারিনি। সব বিভাগেই আমাদের উন্নতি করতে হবে। দুই দলের মধ্যে এটাই পার্থক্য। ওরা সবকিছুই শৃঙ্খলভাবে করেছে। কিন্তু আমরা আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারিনি।’

পাকিস্তানের হারের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। কিন্তু শেষ দিকে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ইমাদ ওয়াসিম ও আসিফ আলি। ৫২ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর এই যুগল গড়েন ৭৫ রানের জুটি। জুটি ভাঙে ইমাদ ২৯ বলে আটটি চারে ৪৭ রানে বিদায় নিলে। তবে দলকে কক্ষপথে রেখেই সাজঘরে ফিরেছেন তিনি।

২৫ বলে ৫৬ রান দরকার ছিল পাকিস্তানের। কিন্তু শেষের ধসে সমীকরণটা মেলাতে পারেনি স্বাগতিকরা। ২৭ বলে ২৯ রানে আউট হয়েছেন আসিফ। ১৬ বলে ২৬ রানের ঝড় উঠেছিল অধিনায়ক সরফরাজের ব্যাটে। সমান বলে ১৩ রান করেছেন আহমেদ শেহজাদ। লঙ্কানদের বাকি সাত ব্যাটসম্যানই যেতে পারেননি দুই অংকে। শ্রীলঙ্কার পক্ষে ২৫ রানে চার উইকেট নিয়েছেন নুয়ান প্রদীপ। তিনটি শিকার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার। ২ উইকেট ঝুলিতে পুরেছেন ইসুরু উদানা। খালি হাতে ফেরেননি কাসুন রাজিথা-ও। কিন্তু বোলারদের কেউই ম্যাচ সেরার স্বীকৃতি পাননি। লঙ্কানদের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেওয়া ভানুকা রাজাপাকশে জয়ের নায়ক।

৪৮ বলে ৭৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন রাজাপাকশে। ইনিংসে চারটি চার ও ছটি ছক্কা। শিহান জয়সুরিয়া ২৮ বলে ৩৪ এবং অধিনায়ক দাসুন সানাকা ১৫ বলে ২৭ রানে অজেয় ছিলেন। এ ছাড়া ওপেনার গুনাথিলাকা ১৫ রানে আউট হয়েছেন।