যথা সময়েই বিপিএল

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯ | ৩ কার্তিক ১৪২৬

যথা সময়েই বিপিএল

ক্রীড়া প্রতিবেদক ১:১২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৮, ২০১৯

print
যথা সময়েই বিপিএল

বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) কাঠামো। প্রথমবারের মতো ঘরোয়া ক্রিকেটের জমজমাট এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট হতে যাচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজি ছাড়া। যার কেতাবি নাম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু বিপিএল’। যা আগামী ৬ ডিসেম্বর শুরুর কথা ছিল। কিন্তু টুর্নামেন্ট যথা সময়ে শুরু হবে কিনা এনিয়ে দেখা দিয়েছিল অনিশ্চয়তা। সংশয় প্রকাশ করেছিলেন খোদ বিসিবি মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস। সেই তিনিই এখন আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বললেন, ‘নির্ধারিত সময়েই শুরু হবে আগামী বিপিএল।’ কাল প্রচার মাধ্যমকে বিসিবির এই পরিচালক বলেছেন, ‘হ্যাঁ, নিশ্চয়ই (নির্ধারিত সময়ে হবে)। আগেই বলেছিলাম ৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে, এখনো সেটাই আছে।’

বিপিএলে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রথম দফায় চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে গেল বছর। এ বছর ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে নতুন চুক্তির শর্ত বেঁধে দেয় ক্রিকেট বোর্ড। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টের কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিয়মকানুন পরিবর্তনের কথা জানায় বিসিবি। এনিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকও হয়েছে। কাজ হয়নি তাতে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস তো সরাসরি বিরোধীতা করেছিল বিসিবির প্রস্তাবে। যার মাসুল সাবেক চ্যাম্পিয়নরা দিতে যাচ্ছে টুর্নামেন্টের দর্শক সারিতে বসে।

নড়েচড়ে বসেছে বিসিবিও। আসন্ন বিপিএল বিগ ব্যাশের আদলে করার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। টুর্নামেন্টের নামেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে পৃষ্ঠপোষক নিয়ে বিশেষ বিপিএল আয়োজনের সিদ্ধান্ত বিসিবির। প্রতিটি দলের মালিক যেহেতু বোর্ড, নতুন এই ধাঁচে আয়োজন করার প্রস্তুতিতে ঘাটতি রাখতে চায় না তারা। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- মাত্র ২ মাসে এত বড় আয়োজনের প্রস্তুতি শেষ করা কতটা বাস্তবসম্মত?

প্রশ্নটা উঠেছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ দুই সদস্য একবারেই নীরব হয়ে যাওয়ায়। বিশেষ করে বিসিবির প্রভাবশালী পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিকের নিষ্প্রভ হয়ে যাওয়াটাই বিপিএল নিয়ে বেশি সংশয় তৈরি করেছে। এক সপ্তাহের বেশি তাকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি। বিসিবিতেও আসছেন না। টুর্নামেন্টের সদস্য সচিব ঠিক কোথায় আছেন এনিয়ে বলতে পারছেন না বিসিবির দায়িত্বশীলদের কেউ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ইসমাইল হায়দার এখন আছেন ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে। কাল সেখান থেকেই মুঠোফোনে একটি গণমাধ্যমকে তিনি জানালেন নির্ধারিত সময়েই শুরু হবে ‘বঙ্গবন্ধু বিপিএল’। ইসমাইল হায়দার বলেছেন, ‘এখনো পর্যন্ত ৬ ডিসেম্বরই থাকছে (বিপিএল শুরু হওয়ার তারিখ)। সোহেল ভাইও (শেখ সোহেল, বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান) দেশে নেই। তিনি এলে আমরা বসব। তবে কাজ কিন্তু হচ্ছে। আকরাম ভাই কাজ করছেন। আর এবার বিপিএলের বিষয়টি বোর্ড সভাপতি নিজেই দেখছেন। আশা করছি নির্ধারিত সময়েই টুর্নামেন্ট হয়ে যাবে।’

আগামী সপ্তাহের মধ্যে দেশে ফেরার কথা রয়েছে ইসমাইল হায়দারের। এর মধ্যে শেখ সোহেলও যদি চলে আসেন সেক্ষেত্রে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলকে নিয়ে বসতে পারেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। বিপিএলের কাঠামো আমূল বদলে দেওয়ার ঘোষণাটা এসেছিল তার কাছ থেকেই। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে বাদ দেওয়ায় বিসিবিই সব ক্রিকেটারদের দায়িত্ব নেবে। সেক্ষেত্রে বিদেশি ক্রিকেটারদের কী হবে? কদিন আগে এনিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের সঙ্গে যুক্ত হওয়া পাকিস্তানি কিংবদন্তি অলরাউন্ডার শহিদ আফ্রিদি। আসন্ন বিপিএল নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন দলটির আরেক তারকা- রশিদ খান। শুধু এই দুজনই নয়, টুর্নামেন্টের কয়েকটি দলই ইতোমধ্যে চুক্তি করেছে বিদেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গে। সবমিলিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার শেষ নেই।

এনিয়ে মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালালের ভাষ্য, ‘ফরম্যাট আগে যেমন ছিল প্রায় একই থাকবে। একাদশে যে চার বিদেশি খেলোয়াড় খেলার নিয়ম ছিল, সেটাই থাকছে। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো আগে কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে যদি চুক্তি করে থাকে, আর তারা যদি ফ্রি থাকে, তাহলে আমরা তাদের প্রস্তাব দিতে পারি যে তারা খেলবে কিনা।’ বিসিবি হয়তো প্রস্তাব দেবে। ফলাফল কী দাঁড়ায় সেটাও একটা জল্পনার ইস্যু।