আয় বৃষ্টি ঝেপে

ঢাকা, বুধবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২০ | ১৬ মাঘ ১৪২৬

আয় বৃষ্টি ঝেপে

ক্রীড়া ডেস্ক ১২:০২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৯

print
আয় বৃষ্টি ঝেপে

সাকিবরা এখন কোরাশ তুলতেই পারেন, আয় বৃষ্টি ঝেপে...। একসঙ্গে বসে প্রার্থনা করতে পারেন বৃষ্টির জন্য। এছাড়া আর যে পথ খোলা নেই। আফগানিস্তানের সঙ্গে হারের লজ্জা এড়াতে আজ শেষ দিনে বৃষ্টিই ভরসা টাইগারদের জন্য। চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশের সামনে কি পরিণতি অপেক্ষা করছে, সেটি বুঝতে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ হতে হবে না। লক্ষ্য ৩৯৮ রানের। এত বড় লক্ষ্য তাড়া করে কখনই জেতেনি বাংলাদেশ। জিততে হলে তাই রেকর্ডই গড়তে হবে। আর সেই রেকর্ডের পিছু নিতে গিয়ে ব্যাটসম্যানরা যেভাবে খেলছেন, তাতে রেকর্ড তো পরের কথা, একদিন বাকি থাকতেই টেস্ট হারের শঙ্কায় পড়ে গেছে টাইগাররা। তবে গতকাল চতুর্থ দিনে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে বৃষ্টি। অন্যথায় হয়তো পরাজয়বরণ করতে হতো গতকালই।

বৃষ্টির কারণে চতুর্থ দিন আগেভাগেই খেলা শেষ করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১৩৫ রান। অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ৩৮ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে আছেন। সঙ্গে থাকা সৌম্য সরকার এখনো রানের খাতা খুলতে পারেননি। ম্যাচের যা অবস্থা, তাতে আফগানিস্তানের জয় আটকে রাখা কঠিনই হবে। বাংলাদেশকে জিততে হলে এখনো ২৬২ রান করতে হবে। হাতে আছে মাত্র ৪টি উইকেট। অসম্ভবই মনে হচ্ছে তা। তবে যদি কোনো ব্যাটসম্যান অসাধ্য সাধন করে ফেলেন আলাদা কথা। না হলে হারই অপেক্ষা করছে টাইগারদের জন্য। তার বাইরে একমাত্র বাঁচাতে পারে বৃষ্টি।

চতুর্থ দিনে বৃষ্টি বাধায় ওভার নষ্ট হওয়ায় আজ টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনে আধা ঘণ্টা আগে অর্থাৎ সাড়ে ৯টায় খেলা শুরু হবে। তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, চট্টগ্রামে আজও বৃষ্টি হতে পারে এবং সেই বৃষ্টিটা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা সকাল ৯টার দিকে। ১০টার পর কিছুটা কমলেও আবারও বিকেল ৩টার দিকে বৃষ্টি নামার সম্ভাবনা আছে। সব মিলিয়ে এখন এই টেস্টে বাংলাদেশকে বাঁচাতে পারে বৃষ্টিই।

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা খারাপ ছিল না বাংলাদেশের। সাদমানের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নেমে দেখেশুনেই খেলছিলেন লিটন দাস। প্রথম ১০ ওভার অনায়াসে কাটিয়ে দেওয়ার পরই বিপদের শুরু টাইগারদের। জহির খানের দারুণ এক ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হন লিটন দাস। ৩০ বলে করেন ৯ রান। প্রথম ইনিংসে দারুণ ব্যাটিং করায় প্রমোশন পেয়ে ওপরে উঠে এসেছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন। কিন্তু এবার আর কিছু করতে পারেননি।

জহির খানের দ্বিতীয় শিকার হন ১২ রান করা মোসাদ্দেক। এরপর আফগান অধিনায়ক রশিদ খানের চমক। এই লেগস্পিনারের ঘূর্ণিতে মুশফিকুর রহীম ২৩ আর মুমিনুল হক ৩ রান করে ফেরেন সাজঘরে। সিনিয়রদের এই আসা যাওয়ার মাঝেও একটি প্রান্ত ধরে ছিলেন সাদমান ইসলাম। খেলছিলেন দেখেশুনে। তবে তরুণ এই ওপেনারও ফিরেছেন আফগান ঘূর্ণিতে পরাস্ত হয়ে। মোহাম্মদ নবীর বলটি ডিফেন্সই করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেটি আঘাত হানে প্যাডে। ১১৪ বলে ৪ বাউন্ডারিতে গড়া সাদমানের ৪১ রানের ধৈর্যশীল ইনিংসটির ইতি ঘটেছে তাতেই। অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও বোকা বনেছেন ঘূর্ণিতে।

৭ রানের মাথায় রশিদ খানকে ডিফেন্স করতে গিয়ে শর্ট লেগে ইব্রাহিম জাদরানের ক্যাচ হয়েছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুরু হয় বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার সিরিজের একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি। ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় সফরকারীরা। প্রথম ইনিংসে আফগানরা করেছিল ৩৪২। জবাবে ২০৫ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। বৃষ্টির কারণে গতকাল প্রায় দুই ঘণ্টা পর শুরু হয় খেলা। মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির সময়ও ছিল বৃষ্টি। পরে শেষ বিকালে বৃষ্টির কারণে আগেভাগেই দিনের খেলা শেষ হয়।