কঠিন পরীক্ষার সামনে বাংলাদেশ

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬

কঠিন পরীক্ষার সামনে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০১৯

print
কঠিন পরীক্ষার সামনে বাংলাদেশ

আফগানদের বিপক্ষে টেস্টের তৃতীয় দিনেই ৩৭৪ রানের বিশাল ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ল বাংলাদেশ। অলৌকিক কিছু না হলে এখন চট্টগ্রাম টেস্ট বাঁচানোই অসম্ভব হয়ে পড়েছে সাকিব আল হাসানের দলের সামনে।

গতকাল শনিবার তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হয়েছে ২০ মিনিট আগে। দ্বিতীয় ইনিংসের আফগানদের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৩৭ রান। প্রথম ইনিংসে তারা এগিয়ে ১৩৭ রানে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে এখন ৩৭৪ রানে এগিয়ে সফরকারী আফগানরা। বাকি ২ উইকেটে আর কত রান যোগ করে তারা সেটাই এখন দেখার বিষয়। প্রায় ৪০০ রানের একটা লক্ষ্য যদি বাংলাদেশের সামনে ছুড়ে দিতে পারে আফগানরা, তাহলে সেই রান পাড়ি দিয়ে টাইগারদের ম্যাচ জয় হবে প্রায় অসম্ভব। কারণ, আফগান স্পিনারদের ঘূর্ণির সামনে প্রথম ইনিংসে মাত্র ২০৫ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। অন্যদিকে চতুর্থ ইনিংসে চট্টগ্রামের উইকেট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে থাকবে রসিদ খানদের দখলে। ওই অবস্থায় চতুর্থ ইনিংসে এত বড় একটি স্কোর তাড়া করে জেতা তো দূরে থাক, ড্র করাও সম্ভব হবে না টাইগারদের। কারণ চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করা সবসময়ই কঠিন। ফলে অলৌকিক কিছু না হলে এখন পরাজয়ই বলতে গেলে অবধারিত।

আজ রোববার (চতুর্থ দিন) ম্যাচ শুরু হবে নির্ধারিত সময়ের ২০ মিনিট আগে, সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে। গতকাল বাংলাদেশের বোলিংয়ের শুরুটা হয়েছিল দুর্দান্ত। নিজের প্রথম ওভারেই সাকিব তুলে নেন ২ উইকেট। তৃতীয় বলে সাকিব ফেরান ইহসানউল্লাহকে (৪)। পরের বলে তার শিকার প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান রহমত শাহ। সাকিবের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করে যাচ্ছিল আফগানিস্তান। তবে প্রতিরোধ টিকেনি নাঈম হাসানের আঘাতে। ?এই স্পিনারের বলে ফেরেন হাশমতউল্লাহ শহীদি। নাঈমের বলে দারুণ ক্যাচ নেন সৌম্য সরকার। এই স্পিনারের বাঁক নেওয়া ডেলিভারি হাশমতউল্লাহর ব্যাট ছুঁয়ে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমের পায়ে লেগে আশ্রয় নেয় সৌম্যর হাতে। আফগান এই ব্যাটসম্যান ৩৭ বলে করেছেন ১২ রান।

যদিও ইব্রাহিম জাদরান ও আসগর আফগানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় সফরকারীরা। অনেক চেষ্টার পর তাদের প্রতিরোধের দেওয়াল ভেঙে স্বস্তি ফেরান তাইজুল। লাঞ্চের পর ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা এই জুটি ভেঙেছেন তিনি ?সাকিবের হাতে আসগরকে ক্যাচ বানিয়ে। হাফসেঞ্চুরি করা এই ব্যাটসম্যানের বিদায়ে ভাঙে ইব্রাহিমের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে গড়া ১০৮ রানের জুটি। আসগর তার ৫০ রানের ইনিংসটি সাজিয়েছেন ৪ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায়। ইব্রাহিম অবশ্য হাফসেঞ্চুরি করে সেঞ্চুরির পথেও হাঁটছিলেন। প্রথম ইনিংসে আফগানিস্তানের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে রেকর্ডের খাতায় নাম তুলেছেন রহমত শাহ। দেশটির দ্বিতীয় সেঞ্চুরিয়ান দেখারও জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ৮৭ রানে তিনি আউট হয়ে গেছেন নাঈম হাসানের বলে। চট্টগ্রামের ম্যাচ দিয়েই টেস্ট অভিষেক হওয়া ইব্রাহিম ২০৮ বলের ঝলমলে ইনিংসটি সাজিয়েছেন ৬ বাউন্ডারি ও ৪ ছক্কায়।

মোহাম্মদ নবী মাত্র ৮ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। তার বিদায়ের পর ব্যাটে ঝড় তুলেছিলেন রশিদ খান। তাইজুলের বলে বোল্ড হন গেছেন তিনি। রশিদ ২২ বলে ৬ বাউন্ডারিতে করেন ২৪ রান। বাংলাদেশ অধিনায়ক শেষ বিকেলে তুলে নিয়েছেন কাইস আহমেদের উইকেট। তৃতীয় দিনে সাকিবই বাংলাদেশের সেরা বোলার। ৫৩ রান খরচায় তার শিকার ৩ উইকেট। ২টি করে উইকেট পেয়েছেন তাইজুল ও নাঈম। এর আগে তৃতীয় দিনের শুরুতে মোটে ৪ ওভার ব্যাট করতে পেরেছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকরা অলআউট হয়েছে ২০৫ রানে। তাতে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ১৩৭ রানে পিছিয়ে থাকতে হয় সাকিবদের। মোসাদ্দেক হোসেন অপরাজিত থাকলেও সঙ্গীর অভাবে কিছুই করতে পারেননি না। শেষ পর্যন্ত তিনি অপরাজিত ছিলেন ৪৮ ?রানে। তৃতীয় দিনে মাত্র ১১ রান যোগ করতে শেষ ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

আগের দিনের ৮ উইকেটে ১৯৪ রান নিয়ে দিন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। দিনের প্রথম ওভারেই ফিরে যেতে হয় তাইজুলকে। তৃতীয় দিনের তৃতীয় বলে হার মানেন তাইজুল। মোহাম্মদ নবীর বলে বোল্ড হয়ে ফিরতে হয়েছে তাকে। যাওয়ার আগে ৫৮ বলে খেলেন ১৪ রানের ইনিংস। তার বিদায়ের পর নাঈম হাসানের শুরুটা ভালো হলেও বেশিদূর যেতে পারেননি। ১২ বলে ৭ রান করে ফেরেন প্যাভিলিয়নে। তাকে ফিরিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৫ উইকেটের ঘর পূরণ করেন রশিদ খান। ৫৫ রানে আফগান অধিনায়ক নিয়েছেন ৫ উইকেট। নবীর শিকার ৩ উইকেট।