আশার আলো মোসাদ্দেক-তাইজুলের ব্যাটে

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬

আশার আলো মোসাদ্দেক-তাইজুলের ব্যাটে

খেলা ডেস্ক ৫:৩৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৯

print
আশার আলো মোসাদ্দেক-তাইজুলের ব্যাটে

প্রথম ইনিংসে আফগানিস্তান করেছে ৩৪২। জবাবে ১৩০ রান তুলতেই ৭ উইকেট নেই। ফলোঅনের শঙ্কা তখন। সেখান থেকে মোসাদ্দেক হোসেনের লড়াই। লোয়ার অর্ডারদের নিয়েই সেই লড়াই করে দলকে এগিয়ে নিয়েছেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

লড়াইয়ে ক্ষান্তি দেননি। দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকেলে তাইজুল ইসলামকে নিয়ে ৪৮ রানের জুটিতে বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দিয়েছেন এই মোসাদ্দেকই, তাইজুলও যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন। এই জুটির দিকেই এখন তাকিয়ে স্বাগতিকরা। চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ১৯৪ রান। আফগানদের প্রথম ইনিংস থেকে সাকিব আল হাসানের দল পিছিয়ে ১৪৮ রানে।

বাংলাদেশ ইনিংস ওপেন করতে নেমে রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন সাদমান ইসলাম। মূলতঃ একজন পেসারও না রেখে পুরোপুরি স্পিনার দিয়ে বোলিং অ্যাটাক সাজিয়েছিল বাংলাদেশ। বিপরীতে আফগানিস্তান দলে নেয়া হয়েছিল একজন পেসার। সেই এক পেসারে শুরুতেই কোণঠাসা বাংলাদেশ। স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ করার আগেই ওপেনার সাদমান ইসলামকে ফিরিয়ে দেন আফগান পেসার ইয়ামিন আহমদজাই।

আফগান বোলারদের বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সামনে মনে হচ্ছিল এক একটি যম। শুধু ব্যাট নয়, পুরো শরীর দিয়ে বাঁচাতে হচ্ছে আফগান বোলারদের কাছ থেকে ছুটে আসা বলগুলো। এর মধ্যে এলবিডব্লিউর চান্সও থেকে যায়।

সেই এলবিডব্লিউর শিকারই হলেন সৌম্য সরকার। সাদমানের বিদায়ের পর জুটি বেঁধে বিপর্যয় কাটানোর চেষ্টা করেছিলেন সৌম্য আর লিটন কুমার দাস। ওয়ানডাউনে লিটনকে মাঠে নামানো ছিল হয়তো একটি বিশেষ পরিকল্পনার অংশ।

৩৮ রানের জুটি গড়ে এ দু’জন অনেকটাই সাবলীল হয়ে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ভুলটা করে বসলেন সৌম্য। মোহাম্মদ নবীর সোজা লেন্থ বলে এলবিডব্লিউর শিকার হয়ে গেলেন বাঁহাতি এই ওপেনার। ৬৬ বলে ১৭ রান করে বিদায় তিনি।

সৌম্য বিদায় নেয়ার পর মুমিনুল হকের সঙ্গে জুটি বাঁধার চেষ্টা করছিলেন লিটন দাস। কিন্তু দলীয় ৫৪ রানের মাথায় রশিদ খানের ঘূর্ণি বলে পুল করতে চেয়েছিলেন লিটন। কিন্তু বল উঠলো না এবং সোজা গিয়ে আঘাত হানলো স্ট্যাম্পে। বোল্ড হয়ে গেলেন তিনি ব্যক্তিগত ৩৩ রানে।

দীর্ঘদিন পর টেস্ট খেলতে নেমে সাকিব আল হাসান শুরুটা করেছিলেন ভালোই। দেখেশুনে ১১ রান পর্যন্ত গেলেন, তারপর রশিদ খানের বল আটকে দিতে গিয়ে মিডল স্ট্যাম্পের বলটা প্যাডে লাগিয়ে বসলেন। হলেন এলবিডব্লিউ। এক বল পর দলের ব্যাটিং ভরসা মুশফিকুর রহীমকেও সাজঘরের পথ দেখালেন রশিদ।

মুশফিক অবশ্য নিজেকে দুর্ভাগা ভাবতেই পারেন। রশিদ খানের ঘূর্ণি ডেলিভারিটি তার ব্যাট ছুয়ে মাটিতে পড়ার সময় বুটের সামনের দিকে লেগে শর্টে দাঁড়ানো ফিল্ডারের হাতে চলে যায়। যদিও রিপ্লেতে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল না, বলটি মাটিতে ছুয়েছে কি না। বল মাটির কাছে যাওয়া সময় কিছু ধুলো উড়তে দেখা যায়। কিন্তু অন ফিল্ড আম্পায়ারের সফট সিগন্যাল আউট হওয়ায় তৃতীয় আম্পায়ার সেটাই বহাল রাখেন। মুশফিক ফেরেন শূন্যতেই।

রশিদের ঘূর্ণিতে এরপর পর্যদুস্ত মাহমুদউল্লাহও। ৭ রান করে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। সতীর্থ ব্যাটসম্যানদের এই আসা যাওয়ার মাঝেও একটা প্রান্ত ধরে ছিলেন মুমিনুল হক। দেখেশুনে ক্যারিয়ারের ১৩তম হাফসেঞ্চুরিও তুলে নেন।

কিন্তু সেই হাফসেঞ্চুরির পর আর উইকেটে থাকা হয়নি মুমিনুলের। মোহাম্মদ নবীর ডেলিভারিটি স্লটে পেয়ে মারার মতোই মনে করেছিলেন এই লিটলম্যান। কিন্তু সেটা তেমন ছিল না। কিছুটা নিচু হয়ে যাওয়া বলে ব্যাট চালিয়ে মিড অনে সহজ ক্যাচ দেন ৭১ বলে ৮ বাউন্ডারিতে ৫২ রান করা মুমিনুল। ১৩০ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে ফলোঅনের শঙ্কায় পড়ে বাংলাদেশ।

অষ্টম উইকেট জুটিতে সেই শঙ্কা কাটিয়ে উঠেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত আর মেহেদী হাসান মিরাজ। যদিও এই জুটিতে উঠে মাত্র ১৬ রান, তবে উইকেটে প্রায় দশ ওভারের মতো সময় কাটিয়েছেন তারা। জুটিটি ভাঙে মিরাজের অতি আত্মবিশ্বাসে। কায়েস আহমেদের লেগ সাইডে পড়া বলটি সুইপ করতে গিয়ে পেছন দিকের স্ট্যাম্প হারান মিরাজ (১১)।

নবম উইকেটে তাইজুলকে নিয়ে আবারও শক্ত প্রতিরোধ মোসাদ্দেকের। এই জুটি দ্বিতীয় দিনশেষে এখন পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন ৪৮ রানে। মোসাদ্দেক ৪৪ আর তাইজুল ১৪ রান নিয়ে তৃতীয় দিনে ব্যাট করতে নামবেন।

তাইজুল ইসলাম ৪১ ওভার বল করে নেন ৪ উইকেট। ২টি করে উইকেট নেন নাইম হাসান এবং সাকিব আল হাসান। ১টি করে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।