নিউজিল্যান্ড ঝলকে বিবর্ণ ভারত

ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯ | ২ শ্রাবণ ১৪২৬

নিউজিল্যান্ড ঝলকে বিবর্ণ ভারত

ক্রীড়া প্রতিবেদক ৭:৪০ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০১৯

print
নিউজিল্যান্ড ঝলকে বিবর্ণ ভারত

আগের কথা বাদই থাকলো, চলতি বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব শেষে শক্তির বিচারে ভারত এবং নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার পার্থক্যটা উনিশ-বিশ নয় বরং দশ-বিশ বা তারও বেশি কিছু। কিন্তু ব্ল্যাক ক্যাপসরা গতকাল সেই পার্থক্য ঘুচিয়ে ইতিহাসের জন্ম দিলেন। আত্মবিশ্বসের তুঙ্গে থাকা ভারতকে টেনে-হিঁচড়ে মাটিতে নামিয়ে এনে এটাও প্রমাণ করলেন, তারা শুধু সেমিফাইনাল খেলতেই বিশ্বকাপে আসেন না। হঠাৎ করে ঝলসে ওঠা নিউজিল্যান্ডের সামনে অনেকটা আচমকাই বিবর্ণ হয়ে গেল টিম ইন্ডিয়া। ভারত যখন হিসাব কষছে, ফাইনালটা তারা ইংল্যান্ড নাকি অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলবে, তখন তাদের আত্মবিশ্বাসে সজোরে এক ধাক্কা লাগালো কালো জার্সির দল। বরাবরই বলা হয়, ক্রিকেট গৌরবময় এক অনিশ্চয়তার খেলা।

কিন্তু সেই অনিশ্চয়তার বাস্তব রূপ আমরা দেখতে পারি খুব কমই। কাল তা দেখা গেল চলতি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে। যে ম্যাচ দেখে দর্শকদের চুল ছিঁড়তে ইচ্ছে করে, একটু পরের ফলাফল ভেবে দম আটকে আসে, কালকের খেলাটা ছিল তেমনই। নাটকটাকে জমিয়ে তবেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ভারত, নিউজিল্যান্ড উঠে গেছে ফাইনালে।

নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ২৩৯ রানের জবাবে মাত্র ৯২ রানে ভারতের ৬ উইকেট নেই। ঠিক তখনই নাটক জমে ওঠে ধোনি-জাদেজার জুটিতে। ১০৪ বলে ১১৬ রানের জুটিতে নিশ্চিত জয়ের পথে চলে এসেছিল ভারত। কিন্তু ট্রেন্ট বোল্টের বলে হঠাৎ ক্যাচ দিয়ে জাদেজা আউট হয়ে যাওয়ার পর আবারও ম্যাচটা ঝুলে যায় পেন্ডুলামের মতো। ভারতের শেষ আশা ছিলেন গ্রেট ফিনিশার মহেন্দ্র সিং ধোনি। কিন্তু ফাইনাল যে লেখা হয়ে গেছে কিউইদের নামে! শেষ পর্যন্ত টান টান উত্তেজনার ম্যাচে ভারতকে ১৮ রানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠলো নিউজিল্যান্ড।

সেমিফাইনালের এ ম্যাচটা মাঠে গড়িয়েছে গত মঙ্গলবার। বৃষ্টির জন্য ৪৬.১ ওভারে ৫ উইকেটে ২১১ রান তোলা নিউজিল্যান্ড গতকাল তাদের ইনিংস শেষ করেছে ২৩৯ রান তুলে। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে আবারও ব্যর্থ ওপেনার মার্টিন গাপটিল, বিদায় নেন ১ রানে। আরেক ওপেনার হেনরি নিকোলস ৫১ বলে করেন ২৮ রান। তিন নম্বরে নামা দলপতি উইলিয়ামসন এবং রস টেইলর জুটি গড়েন। ৯৫ বলে ছয়টি বাউন্ডারিতে ৬৭ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন উইলিয়ামসন। জিমি নিশাম ১২, কলিন ডি গ্রান্ডহোম ১৬ রান করে বিদায় নেন। উইলিয়ামসন-নিকোলস জুটিতে আসে ৬৮ রান। আর উইলিয়ামসন-টেইলর জুটিতে আসে ৬৫ রান। টেইলর-নিশাম জুটিতে আসে ২৮ রান। টেইলর-গ্রান্ডহোম জুটিতে স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ৩৮ রান।

রস টেইলর একপ্রান্ত ধরে রেখে দলকে টেনে নিতে থাকেন। ৬৭ রান করে অপরাজিত থেকে গতকাল রিজার্ভ ডেতে আবারো ব্যাটিংয়ে নামেন টেইলর। ৩ রানে অপরাজিত থেকে টেইলরকে সঙ্গ দিতে নামেন টম ল্যাথাম। ৪৮তম ওভারের শেষ বলে টেইলর রানআউট হওয়ার আগে করেন ৭৪ রান। তার ৯০ বলের ইনিংসে ছিল তিনটি চার আর একটি ছক্কার মার। ৪৯তম ওভারের প্রথম বলে বিদায়ের আগে ল্যাথাম করেন ১১ বলে ১০ রান। একই ওভারের শেষ বলে ফেরেন ১ রান করা ম্যাট হেনরি।

ভারতের হার্দিক পান্ডিয়া ১০ ওভারে ৫৫ রান দিয়ে একটি, রবীন্দ্র জাদেজা ১০ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে একটি আর চাহাল ১০ ওভারে ৬৩ রান দিয়ে একটি উইকেট তুলে নেন। ভুবনেশ্বর কুমার ১০ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে তিনটি উইকেট পান। আর জসপ্রিত বুমরাহ ১০ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে তুলে নেন একটি উইকেট।

২৪০ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারতের টপঅর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান বিদায় নেন দলীয় ৫ রানের মাথায়। এক আসরে সর্বোচ্চ পাঁচটি সেঞ্চুরি করে বিশ্বরেকর্ড গড়া রোহিত শর্মা ১, গত ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান লোকেশ রাহুল ১, র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর ব্যাটসম্যান ভারতীয় দলপতি বিরাট কোহলি ১ রান করে ফেরেন। দলীয় ২৪ রানের মাথায় ফেরেন ২৫ বলে ৬ রান করা দীনেশ কার্তিক। এরপর ৪৭ রানের জুটি গড়েন রিশব পান্ত-হার্দিক পান্ডিয়া। দলীয় ৭১ রানের মাথায় বিদায় নেন রিশব পান্ত। ৫৬ বলে চারটি চারের সাহায্যে পান্ত করেন ৩২ রান।

দলীয় ৯২ রানের মাথায় বিদায় নেন হার্দিক পান্ডিয়া (৩২)। মিচেল স্যান্টনারের বলে দলপতি উইলিয়ামসনের তালুবন্দি হওয়ার আগে পান্ডিয়া ৬২ বলে দুই বাউন্ডারিতে করেন ৩২ রান। এরপর জুটি গড়েন মহেন্দ্র সিং ধোনি-রবীন্দ্র জাদেজা। এই জুটিতেই জয়ের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছিল টিম ইন্ডিয়া। দুজনে মিলে তোলেন আরও ১১৬ রান। দলীয় ৪৮তম ওভারে বিদায় নেন ৫৯ বলে চারটি চার আর চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে ৭৭ রান করা জাদেজা। ৭২ বলে একটি করে চার ও ছক্কায় ৫০ রান করে ৪৯তম ওভারে সাজঘরে ফেরেন ধোনি। একই ওভারে বোল্ড হন ভুবনেশ্বর কুমার। শেষ ওভারে দরকার ছিল ২৩ রান। তৃতীয় বলে শেষ উইকেট হিসেবে আউট হন ৫ রান করা যুজবেন্দ্র চাহাল।

কিউই স্পিনার মিচেল স্যান্টনার ১০ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে নিয়েছেন দুটি উইকেট। ম্যাট হেনরি ১০ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে নেন তিনটি উইকেট। ট্রেন্ট বোল্ট ১০ ওভারে ৪২ রান দিয়ে নেন দুটি উইকেট। লুকি ফার্গুসন ১০ ওভারে ৪৩ রানে তুলে নেন একটি উইকেট। জিমি নিশাম ৭.৩ ওভারে ৪৯ রান দিয়ে পান একটি উইকেট। কলিন ডি গ্রান্ডহোম ২ ওভারে ১৩ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন।