প্রত্যাশা প্রাপ্তির পোস্টমর্টেম

ঢাকা, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯ | ৩ ভাদ্র ১৪২৬

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন

প্রত্যাশা প্রাপ্তির পোস্টমর্টেম

সাইদ রহমান ৮:১২ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ০৭, ২০১৯

print
প্রত্যাশা প্রাপ্তির পোস্টমর্টেম

সাধারণ একটা দ্বিপক্ষীয় সিরিজের পরও প্রত্যাশা এবং প্রাপ্তির খাতা খুলে বসেন সমালোচকরা, আর মিশনটা যদি হয় বিশ্বকাপের তাহলে তো কথাই নেই! স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়ে গেছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কেমন গেল বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন, কেন শেষ চারে খেলা হলো না, অন্তত পাকিস্তানের সঙ্গে জিতে কেন রাঙাতে পারল না বিশ্বকাপের শেষটা-ইত্যাকার নানা প্রশ্ন আকাশে-বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় বইছে সমালোচনার। সেমিফাইনালে ওঠার আশায় বিশ্বকাপে যাওয়া। ফিরতে হয়েছে টেবিলের অষ্টম দল হিসেবে। প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির ফারাকটা আকাশ-পাতাল। সমর্থকরা তাই ভীষণ ক্ষুব্ধ।

এমন পরিস্থিতিতে যারা মাঠে লড়াইটা করেছেন, তারা যে আরও বেশি কষ্ট পাচ্ছেন, ভাঙা হৃদয় নিয়ে পা রেখেছেন দেশের মাটিতে-সেটাও ভুলে যাচ্ছেন অনেকেই। কাল যখন বিমানবন্দরে নামলেন মাশরাফিরা, স্বাভাবিকভাবেই সেখানে ভিড় লেগে যায় গণমাধ্যমের। শুরু হয় পোস্টমর্টেম পর্ব। প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির মিল কতটুকু-এমন প্রশ্নে হতাশায় নুয়ে পড়া বাংলাদেশ অধিনায়ক অনেকটা কৈফিয়তের সুরেই বললেন, ‘যে প্রত্যাশা নিয়ে গিয়েছিলাম সে জায়গা থেকে অবশ্যই হতাশ। তবে কিছু ব্যাপার পক্ষে থাকলে আমরা সেমিফাইনালে যেতে পারতাম। আমার মনে হয়, যে খেলার ধরন বা সবকিছু যেমন ছিল তা অনেক ইতিবাচক। কিন্তু যেহেতু দলের প্রত্যাশা ছিল অন্য রকম সে জায়গা থেকে তাই এটা হতাশার।’

‘কিন্তু যেহেতু দলের প্রত্যাশা ছিল অন্যরকম’-এই বাক্য দিয়ে মাশরাফি কি অন্যকিছু বোঝাতে চাইলেন? নাও হতে পারে। খেলোয়াড়রা তো আশাবাদী হবেনই তবে বিশ্বকাপের অনেক আগে থেকে যেভাবে সেমিফাইনাল...সেমিফাইনাল...করে গলা শুকিয়ে ফেলা হয়েছে বিভিন্ন অবস্থান থেকে, তাতে করে সেটা হয়ে গেছে খেলোয়াড়দের ওপর একপ্রকার চাপিয়ে দেওয়ার মতো। এই চাপ যে মাঠের খেলায় কোনো প্রভাব ফেলেনি, সেটাও হলফ করে বলা যায় না।

সাকিব আল হাসানের অতিমানবীয় পারফরম্যান্স ছাড়া ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের হয়ে বলার মতো তেমন কিছু নেই? মুশফিক ও লিটনের একটি করে ইনিংস আছে কিন্তু দল হিসেবে বাংলাদেশের নামের পাশে তো তিন জয় আর অষ্টম স্থানই লেখা থাকবে। তাহলে এ বিশ্বকাপ কি দলীয় পারফরম্যান্সের নয় ব্যক্তিগতই থেকে গেল? এই মিশনকে কি সফল বলা যাবে-এ প্রশ্নের জবাবে অধিনায়ক সোজাসাপ্টাই বললেন,? ‘সাকিব, মোস্তাফিজ, মুশফিক, সাইফউদ্দিন দারুণ খেলেছে। আর বিশ্বকাপে পারফরম্যান্সের কথা আগেও বলেছি, আপনি যদি প্রত্যাশা অনুযায়ী দেখেন তাহলে অবশ্যই হয়নি। কিন্তু এখান থেকে ইতিবাচক হিসেবে নেওয়ার অনেক কিছুই আছে।’ এমন উত্তরে সরাসরি না বললেও মাশরাফির আত্মপক্ষ সমর্থনের বিষয়টি কিছুটা হলেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

দলের আরেকটি বড় ভুল-টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই জয়-পরাজয়ের হিসেব করে ফেলা! শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে যাওয়ার ছক কষেছিল দল। কিন্তু টুর্নামেন্টের আগে এমন ছক কাল হয়েছে শেষ পর্যন্ত। তিনটি জিতলেও বাকি ম্যাচে জয়ের মুখ দেখা হয়নি। তার ওপর ছিল বৃষ্টির বাধা। অস্ট্রেলিয়া আর ভারতের বিপক্ষে লড়াই করলেও জয় ধরা দেয়নি। মানসিক প্রতিবন্ধকতাই হয়তো জিততে দেয়নি বাংলাদেশকে। এই দুটো ম্যাচ অবশ্য টুর্নামেন্ট শুরুর আগে জয়ের হিসেবের বাইরে ছিল।

সবচেয়ে বড় কথা, অষ্টম স্থানে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করার পেছনে দৃষ্টিকটু ফিল্ডিং আর ক্যাচ মিসও কম দায়ী নয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচেও হারের জন্য বাজে ফিল্ডিং ও ক্যাচ মিসকে দায়ী করেছেন অনেকেই। খেলা শেষে মাশরাফিও সেটা অস্বীকার করেননি। নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে নিশ্চিত রান আউট করতে পারেননি মুশফিক। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডেভিড ওয়ার্নারের ক্যাচ মিস করেছেন সাব্বির। ভারতের সঙ্গে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ব্যক্তিগত ৯ রানে তামিমের সৌজন্যে ‘জীবন’ পেয়ে সেঞ্চুরি করেছেন রোহিত শর্মা।

এভাবে পুরো টুর্নামেন্টে অন্তত ৮টি ক্যাচ বাংলাদেশ ফিল্ডারদের হাত ফস্কে পড়েছে। এই ক্যাচগুলো নিতে পারলে কে জানে, এখন হয়তো সেমিফাইনালের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকতো টাইগাররা।