চারের মরণযুদ্ধ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯ | ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

চারের মরণযুদ্ধ

ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯

সাইদ রহমান ১১:১৬ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০১৯

print
চারের মরণযুদ্ধ

একটা জয় সবকিছু বদলে দিল। আত্মবিশ্বাসী করে তুলল মাশরাফি-সাকিবদের। অন্যদিকে আশাবাদী করে তুলল দেশবাসীকে। নিজেদের দিনে টাইগাররা যে কাউকে পাত্তা দেয় না, তার প্রমাণ মিলল টন্টনে দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর মধ্য দিয়ে। ঐতিহাসিক সেই জয়ের সুখস্মৃতি আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে আজ বাংলাদেশ মাঠে নামছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। লক্ষ্য শেষ চার নিশ্চিত করা।

এই লক্ষ্যে ট্রেন্ট ব্রিজে আজ মরণ কামড় দিতে প্রস্তুত সাকিবরা। টুর্নামেন্ট যত শেষ দিকে আসছে, স্পষ্ট হতে শুরু করেছে সেমিফাইনালের লড়াই। শেষ চারে উঠতে নানা সমীকরণের বেড়াজালে আটকা পড়ছে দলগুলো।

অংক বলছে, আজ যদি বাংলাদেশ হেরে যায় তাহলেও টিকে থাকে সম্ভাবনা। অবশ্য এমন অলুক্ষণে কথা মানতে চাইবে না কেউই। আর টিম টাইগারদের যেন অত ভাবনার সময় নেই! চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক সাকিব বলছেন পরিষ্কার কথা-‘সমীকরণ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি না, মাঠে নেমে নিজেদের সর্বোচ্চটা ঢালতে হবে। হিসাব-নিকাশ করে অ্যারন ফিঞ্চ, ওয়ার্নার, স্টার্ক, কামিন্সদের ঠেকানো মুশকিল। বাংলাদেশের সামনে একটাই রাস্তা, নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়া!’

খুব স্বাভাবিকভাবে আজকের ম্যাচের আগে প্রায় সব আলো কেড়ে নিয়েছেন সাকিব। আর তাই অস্ট্রেলিয়ার কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গারও রাখঢাক না রেখে সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, সাকিবকে রুখতে প্রস্তুত তারা। অস্ট্রেলিয়ার ফাঁদ বলতে পেস আক্রমণ; তা জানতে বাকি নেই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের। সাকিবও তাই জানিয়ে দিয়েছেন, তারাও প্রস্তুত অজিদের চ্যালেঞ্জ নিতে।

বাংলাদেশ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা করেছে। দারুণ দল নিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে আসা দক্ষিণ আফ্রিকাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। এরপর হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। যারা কিনা পাকিস্তানকে দুর্দান্তভাবে উড়িয়ে বিশ্বকাপ শুরু করে। সাকিব-সৌম্যরা ফর্মে আছেন। মোস্তাফিজ ভালো করছেন। সর্বশেষ ম্যাচে লিটন দাস দারুণ ক্রিকেট খেলেছেন। বাংলাদেশ দলকে নিয়ে তাই চিন্তা না করে উপায় নেয় অজিদের।

বাংলাদেশও চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলতে প্রস্তুত। তাদের বিপক্ষে ভালো করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী সাকিব, ‘শেষ চার ম্যাচে দারুণ কিছু পেস বোলারের মুখোমুখি হয়েছি আমরা। যে দলের বিপক্ষেই খেলেছি তাদের কম করে দুজন বোলার ১৪০ কিলোমিটারের ওপরে পেস দিয়ে বোলিং করেছেন। আমরা তাই গতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছি। স্টার্ক, কামিন্সদের মোকাবেলা করার সামর্থ্য আছে বাংলাদেশের। আমরা তাদের চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত।’

এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বিধ্বংসী বোলিং আক্রমণ অস্ট্রেলিয়ারই। সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় সেরা পাঁচের মধ্যে রয়েছেন মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্স। স্টার্ক নিয়েছেন ১৩ উইকেট ও কামিন্স ১১টি। কম যাচ্ছেন না কেন রিচার্ডসনও। শেষ দুই ম্যাচে মাত্র ২১ গড়ে এই পেসার নিয়েছেন ৫ উইকেট। তবে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ১২৪ রানের মুগ্ধতা ছড়ানো ইনিংসের পর অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী পেস বোলিং আক্রমণও বড় কিছু মনে হচ্ছে না সাকিবের কাছে। সতীর্থরাও সাকিবের সুরে সুর মিলিয়ে একই কথা বলছেন।

সেমিফাইনালে খেলতে কতটা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বাংলাদেশ, সেটা সাকিবের কথায় স্পষ্ট, ‘আমরা সেমিফাইনাল খেলতে চাই। এ লক্ষ্য নিয়েই বাকি ম্যাচগুলো খেলতে নামব। বড় মঞ্চে খেলতে হলে সব দলকেই হারাতে হবে।’ তবে এতসব আত্মবিশ্বাসের পাশে ঘাপটি মারা দুশ্চিন্তাও আছে। আবহাওয়া বলছে, ট্রেন্ট ব্রিজে আজ বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা আছে। তবে একদম মেঘের ঘনঘটা থাকার সম্ভাবনা কম।

সারা দিনে ভারী ও টানা বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা নেই। ৩০% বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ আছে আবহাওয়ার রিপোর্টে। তার মানে বৃষ্টি হয়তো ম্যাচ পণ্ড করার মতো করে হানা দেবে না। তবে ছোটখাটো হলেও একটা হুমকি আছে। এখন শেষ মুহূর্তে ওই হুমকির মাত্রা বেড়ে গেলে ভিন্ন কথা। না হয় অতি নাটকীয় পরিবর্তন না ঘটলে ব্রিস্টলের মতো নটিংহ্যামের ট্রেন্টব্রিজেও বৃষ্টিতে খেলায় বিঘ্ন ঘটারা সম্ভাবনা কম।