পাকিস্তানকে পাহাড় সমান লক্ষ্য দিলো ভারত

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯ | ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

পাকিস্তানকে পাহাড় সমান লক্ষ্য দিলো ভারত

খেলা ডেস্ক ৮:৩০ অপরাহ্ণ, জুন ১৬, ২০১৯

print
পাকিস্তানকে পাহাড় সমান লক্ষ্য দিলো ভারত

মুষলধারে বৃষ্টির কারণে থমকে দাঁড়ায় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি। সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় সবচেয়ে উত্তেজনাকর ম্যাচটি। শঙ্কা বাড়ছিল ম্যাচ ঠিকমত শেষ হবে তো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি থামলো এবং ভারত পুরো ৫০ ওভার ব্যাটও করলো। তাতেই পাকিস্তানের সামনে ৩৩৭ রানের পাহাড় সমান লক্ষ্য দাঁড় করিয়ে দিলো ভারত।

এই লক্ষ্য পার হতে হলে রীতিমত ইতিহাস গড়তে হবে পাকিস্তানকে। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৩২৭ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড রয়েছে। এবার পাকিস্তানকে জিততে হলে এই রেকর্ডই ভাঙতে হবে। পারবেন কি না পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা, সেটা সময়ই বলে দেবে।

বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ম্যাচ। অন্তত কাগজে-কলমে। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দীর লড়াইয়ের আগের সেই জৌলুশ হয়ত নেই তবে এখনো সমর্থকদের কাছে সবচেয়ে আলোচিত ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচে। তবে প্রথম ইনিংসের শেষে মনে হচ্ছে ম্যাচটা হয়ত হয়ে যাবে একপেশে। আগের ছয়বারের মতো এবারও হয়ত বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে আরাধ্য সেই জয় পাবে কি না যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

ম্যাচের ৪৬.৪ ওভারের সময়ই নামে এবারের বিশ্বকাপে বহুল আলোচিত বৃষ্টি। তবে কিছুক্ষণ বৃষ্টির পর ম্যাচ আবারও মাঠে গড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেট হারিয়ে ৩৩৬ রান করে ভারত।

ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে টস জিতে ভারতকেই প্রথমে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানায় পাকিস্তান। ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকে কিছুটা সাবধানি ব্যাটিং করতে থাকে ভারতের দুই ওপেনার। এরপর ধীরে ধীরে হাত খুলতে থাকে তাদের। এক সময় এসে রান তোলার গতি প্রায় ৬ রানেরেটে গিয়ে পৌঁছায় ভারতের।

শুরুতে মোহাম্মদ আমিরের প্রথম ওভারটা বেশ ভালোভাবেই পর্যবেক্ষণ করলো দুই ভারতীয় ওপেনার লোকেশ রাহুল এবং রোহিত শর্মা। যে কারণে প্রথম ওভারেই মেডেন নিয়ে নিলেন আমির।

তবে পর্যবেক্ষণের পর তারা বুঝলো, এই বোলারকে একটু রয়ে-সয়েই খেলতে হবে। বাকিদের কোনো সুযোগ দেয়া যাবে না। এই পণ করেই সম্ভবত পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমেছিলেন রোহিত আর লোকেশ।

সে কারণেই হয়তো শুরু থেকে পাকিস্তানের বাকি বোলারদের কোনো পাত্তাই দেননি ভারতের দুই ওপেনার। তাদের দু’জনের ব্যাটে পাকিস্তানের বিপক্ষে দারুণ সূচনা করে ভারত।

শিখর ধাওয়ান না থাকার কারণে রোহিত শর্মার সঙ্গে ভারতীয় ইনিংসের সূচনা করেন লোকেশ রাহুল। এই দুই ওপেনারই বলতে গেলে পাকিস্তানি বোলারদের নাকানি-চুবানি খাইয়ে ছেড়েছেন। ২৩.৫ ওভার টিকেছিল ওপেনিং জুটি। তাতেই স্কোরবোর্ডে রান উঠে গেছে ১৩৬।

অবশেষে ভারতীয় ওপেনিং জুটিতে ভাঙন ধরান পাকিস্তানি পেসার ওয়াহাব রিয়াজ। ২৪তম ওভারের শেষ বলে ফ্রন্ট ফুটে এসে কাভারে খেলতে যান লোকেশ রাহুল। কিন্তু যেভাবে চেয়েছিলেন সেভাবে ব্যাটে-বলে হয়নি। কাভার অঞ্চলে দাঁড়ানো বাবর আজমের হাতে সহজ ক্যাচে পরিণত হন ৭৮ বলে ৫৭ রান করা রাহুল। ৩টি বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় এই রান করেন লোকেশ রাহুল।

এরপর পাকিস্তানি বোলারদের সাফল্যের খাতায় আর কোনো কিছুই যোগ হচ্ছিল না ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায়। লোকেশ রাহুলের সঙ্গে ১৩৬ রানের জুটি গড়ার পর বিরাট কোহলির সঙ্গেও ৯৮ রানের বিশাল জুটি গড়ে ফেলেন রোহিত শর্মা।

অবশেষে উইকেটের সঙ্গে সুপার গ্লু লাগিয়ে বসে যাওয়া রোহিত শর্মাকে ফেরান পাকিস্তানি পেসার হাসান আলি। ৩৯ তম ওভারে হাসান আলির বলটি শর্ট ফাইন লেগে স্কুপ করতে গিয়েই সোজা ওয়াহাব রিয়াজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেলেন রোহিত।

ততক্ষণে স্কোরবোর্ডে তার নামের পাশে খেলা হয়ে গেছে ১১৩ বলে ১৪০ রান। ১৪টি বাউন্ডারির সঙ্গে ৩টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংস। ২৩৪ রানের মাথায় পড়লো দ্বিতীয় উইকেট।

রোহিত আউট হয়ে যাওয়ার পর হার্দিক পান্ডিয়াকে নিয়ে জুটি গড়েন বিরাট কোহলি। দু’জনের ব্যাটে গড়ে ওঠে ৫১ রানের জুটি। এ সময় মোহাম্মদ আমিরের তোপের মুখে টিকতে পারলেন না হার্দিক। ১৯ বলে ২৬ রান করে তিনি ক্যাচ দেন বাবর আজমের হাতে। মহেন্দ্র সিং ধোনি মাঠে নেমেই ফিরে গেলেন মাত্র ১ রান করে।

বৃষ্টির পর খেলা শুরু হলে বিরাট কোহলি বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মোহাম্মদ আমিরের বলেই উইকেটের পেছনে তিনি ক্যাচ দেন সরফরাজের হাতে। ওই সময় ৬৫ বলে ৭৭ রান নিয়ে ব্যাট করছিলেন তিনি। শেষ দিকে বিজয় শঙ্কর ১৫ এবং ৯ রানে অপরাজিত ছিলেন কেদার যাদব।

পাকিস্তানি বোলারদের মধ্যে মোহাম্মদ আমির ৪৭ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। হাসান আলি এবং ওয়াহাব রিয়াজ নেন ১টি করে উইকেট।

ভারত একাদশ
রোহিত শর্মা, লোকেশ রাহুল, বিরাট কোহলি, বিজয় শংকর, এম এস ধোনি, কেদার যাদব, হার্ডিক পান্ডিয়া, ভুবেনশ্বর কুমার, কুলদীপ যাদব, যুজবেন্দ্র চাহাল, যশপ্রীত বুমরাহ।

পাকিস্তান একাদশ
ইমাম উল হক, ফাখহার জামান, বাবর আজম, মোহাম্মদ হাফিজ, সরফরাজ আহমেদ, শোয়েব মালিক, ইমাদ ওয়াসিম, শাদাব খান, ওহাব রিয়াজ, হাসান আলী ও মোহাম্মদ আমির।