ওয়ার্নার আমিরের ফেরা

ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬

ওয়ার্নার আমিরের ফেরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ৫:০৩ অপরাহ্ণ, জুন ১৩, ২০১৯

print
ওয়ার্নার আমিরের ফেরা

ওয়ার্নার ফিরলেন রাজকীয়ভাবেই। গতকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে করলেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি। যদিও ফেরার পর এটাই প্রথম ব্যাটিং নয় তারপরও সেঞ্চুরি করার পর যে বুনো উদযাপন করলেন তাতে বুঝিয়ে দিলেন, এই দিনটির অপেক্ষায় ছিলেন গত এক বছরেরও বেশি সময়।

ইনিংসের ৩৬তম ওভারে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৫তম সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন ওয়ার্নার। তার আগে ৫১ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন তিনি। ৯৮ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ওয়ার্নার। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার পর এটিই তার প্রথম সেঞ্চুরি।

শুধু গতকালের সেঞ্চুরি নয়, দারুণ ছন্দে চলতি বিশ্বকাপ শুরু করেছেন ওয়ার্নার। এক বছরের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে অস্ট্রেলিয়া দলে ফেরেন এই ওপেনার। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ সেরা ইনিংস খেলেন তিনি। ব্রিস্টলে ৭ উইকেটের জয় পাওয়া ম্যাচে ১১৪ বলে আটটি বাউন্ডারিতে ৮৯ রান করে অপরাজিত থাকেন। এরপর নটিংহ্যামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করেন ৩ রান। পরের ম্যাচে আবারো ব্যাট হাতে উজ্জ্বল ওয়ার্নার। ব্যাটিংয়ে আলো ছড়িয়ে দ্য ওভালে তুলে নেন ফিফটি। যদিও ম্যাচটি ভারতের বিপক্ষে হেরেছিল অজিরা। ওয়ার্নার ৮৪ বলে পাঁচ বাউন্ডারিতে করেছিলেন ৫৬ রান।

ওয়ার্নার এই সেঞ্চুরির আগে সবশেষ সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন ২০১৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর। বেঙ্গালুরুতে ভারতের বিপক্ষে করেছিলেন ১২৪ রান। সে বছরের জানুয়ারিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন। সিডনিতে ১৩০ আর অ্যাডিলেডে করেছিলেন ১৭৯ রান। গতকালের সেঞ্চুরিতে অজি এই ওপেনার পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা তৃতীয় সেঞ্চুরির দেখা পেলেন।

ঠিক তার আগে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও টানা দুটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন ওয়ার্নার।

অন্যদিকে গতকালের ম্যাচ দিয়ে আমিরের ফেরাটাও হয়েছে অন্যরকম। ‘মোহাম্মদ আমির লম্বা রেসের ঘোড়া। এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের প্রধান বোলিং অস্ত্র হবে সে।’ আমির প্রসঙ্গে কথাগুলো বলেছিলেন পাকিস্তানের বোলিং কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরাম। ভুল বলেননি তিনি। এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ভরসা জোগাচ্ছেন এই পেসার।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গতকালের ম্যাচেও দারুণ উজ্জ্বল ছিলেন মোহাম্মদ আমির। ওয়ার্নার-ফিঞ্চরা যখন পাক বোলারদের বেধড়ক পেটাচ্ছিলেন তখন অন্য প্রান্তে নির্ভরতার প্রতীক হয়ে অস্ট্রেলিয়ার রানের চাকাটা টেনে ধরেন তিনি। পাকিস্তান যে অস্ট্রেলিয়াকে ৩০৭ রানে ধরে রাখে তার অন্যতম কারিগরও আমির। ৩০ রানে অজিদের ৫ উইকেট তুলে নেন তিনি। ১০ উইকেট নিয়ে লকি ফার্গুসনকে (৮) টপকে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি এখন এই পেসার। অথচ বিশ্বকাপে তার খেলারই কথা ছিল না!

২০১৭ সালে পাকিস্তানের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের অন্যতম কারিগর ছিলেন মোহাম্মদ আমির। সেবার ফাইনালে ভারতকে হারানোর অন্যতম নায়ক ছিলেন বাঁহাতি এই বোলার। ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানকে ফাইনালে ওঠানোতেও ছিল তার বড় ভূমিকা।

এবারের বিশ্বকাপের আগে আমিরের বোলিং নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছিল। টানা ১১ হার সঙ্গী করে বিশ্বকাপে আসে পাকিস্তান। অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে বিধ্বস্ত হন আমিরসহ পাক বোলাররা। অনেকে তো আমিরকে বিশ্বকাপ দলেও রাখার পক্ষপাতী ছিলেন না। তবে বিশ্বকাপ শুরু হতেই আবার আলোচনায় সেই আমির। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হারলেও ব্যতিক্রম ছিলেন আমির।

ক্যারিবীয়দের তিনটি উইকেটই দখল করেন এই পেসার। দ্বিতীয় ম্যাচে ফেবারিট ইংল্যান্ডকে হারানোর ম্যাচেও দুর্দান্ত ছিলেন। ম্যাচের শেষ সময়ে জস বাটলারকে ফিরিয়ে দিয়ে পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরান এই পেসারই।